আজ ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

bd bank

বাড়েনি ঋণ পরিশোধ না করার সময়

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃমহামারি করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২০ সালের পুরোটা সময় ঋণের কিস্তি না দিয়েও অধিকাংশ ব্যবসায়ী খেলাপি হননি। এর বিপরীতে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে বেশ গা ছাড়া ভাব দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। এতে ব্যাংকগুলোতে বেড়েই চলেছে অনাদায়ী টাকার পরিমাণ। তাই ঋণ পরিশোধ না করার সময় নতুন করে আর বৃদ্ধি করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি মাস থেকে কেউ ঋণের কিস্তি না দিলে নিয়ম অনুযায়ী শ্রেণিকৃত হয়ে পড়বেন।

গতকাল বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় এই সিদ্ধান্ত জানায়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল, কাজী ছাইদুর রহমান ও এ কে এম সাজেদুর রহমান। বাংলাদেশ ব্যাংক আয়োজিত এই সভায় ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী রেজা ইফতেখারসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় কেন্দ্রিয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তে অন্য ব্যাংকগুলো ধন্যবাদ জানিয়ে বলে, এখন ব্যবসা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এখন ঋণ পরিশোধে আর ছাড় না দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী। তবে ঋণ পরিশোধের সময় বাড়ানো বা না বাড়ানোর বিষয়টি ব্যাংকার্স সভার আলোচ্যসূচিতে ছিল না।

প্রসঙ্গত, গত বছরে করোনা ভাইরাসের মহামারির কারণে ঋণ পরিশোধ না করলেও গ্রাহকদের ঋণ খেলাপি করা হবে না বলে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এমনকি ঋণের অবনমনও করা হয়নি। তবে খেলাপিরা ঋণ শোধ করলে তাকে খেলাপি মুক্ত করা হবে বলেও জানানো হয়। পরে এই সময় বৃদ্ধি করে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৪ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা।

এদিকে ব্যাংকার্স সভায় জানানো হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থানীয় ১ হাজার ১১০টি স্বীকৃত বিল অপরিশোধিত অবস্থায় ছিল, যার বিপরীতে ৩ কোটি ১২ লাখ ডলার বকেয়া রয়েছে। আর ২১১টি বিদেশি স্বীকৃত বিল অপরিশোধিত অবস্থায় আছে, যার বিপরীতে বকেয়া রয়েছে ২ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। এ জন্য বিদেশি বিভিন্ন দূতাবাস বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্য ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে। এতে দেশের ভাবমূর্তির ক্ষতি হচ্ছে। এ জন্য সময়মতো স্বীকৃত বিল পরিশোধে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ ছাড়া করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় ঘোষিত বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণ নিয়ে বলা হয়, কৃষি ও ক্ষুদ্র-মাঝারি খাতের ঋণ বিতরণ আশাব্যঞ্জক নয়। যেসব ব্যাংক লক্ষ্য পূরণ করেছে, তাদের ধন্যবাদ জানানো হয়। আর যারা লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি, তাদের মার্চের মধ্যে বিতরণ শেষ করতে বলা হয়েছে।