আজ ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বিনা ভোটে মেয়র পাচ্ছে রামগড় ও কসবা
বিনা ভোটে মেয়র পাচ্ছে রামগড় ও কসবা

বিনা ভোটে মেয়র পাচ্ছে রামগড় ও কসবা

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ খাগড়াছড়ির সীমান্ত শহর রামগড় এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌরসভায় বিনা ভোটে মেয়র হওয়ার পথে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা। রামগড়ে এক কাউন্সিলর প্রার্থীরও কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। এ ছাড়া টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাড়া আর কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এসব প্রার্থীর নির্বাচিত হতে ভোটের প্রয়োজন হচ্ছে না।

 

গতকাল রবিবার রামগড় পৌরসভায় রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে মেয়র পদে রফিকুল আলম কামাল ছাড়া আর কেউ মনোনয়ন দাখিল করেননি। এ ছাড়া রামগড় পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে একক প্রার্থী হিসেবে শামীম মাহমুদ বিনা ভোটে কাউন্সিলর হতে যাচ্ছেন।

 

চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়ার গ্রামের বাড়ি রামগড়ে। এবার এই পৌরসভায় তাঁর সমর্থিত কোনো প্রার্থী নেই। এ ছাড়া আগেরবার পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া কাজী মো. শাহজাহান রিপন এবারও দলীয় মনোনয়ন পাননি এবং প্রার্থী হননি। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, মনোনয়ন বাছাই এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় পার হওয়ার আগে কাউকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণার সুযোগ নেই। মেয়র পদে একজন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৭ জন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর পদে ৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে শামীম মাহমুদ একক প্রার্থী।

 

বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভায় মেয়র পদে তিনজন ও কাউন্সিলর পদে ৪০জন এবং নারী কাউন্সিলর পদে ১১ জনসহ ৫৪ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। মেয়র পদের তিনজন প্রার্থী হলেন আওয়ামী লীগের শাহিদুল বারী খান রব্বানী, বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম আকন্দ নান্নু ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. হাবিবুর রহমানের ছোট ছেলে বিএনপি নেতা এ কে এম শাকিল রেজা বাবলা। নীলফামারীর ডোমার পৌরসভায় মেয়র পদে তিন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের গণেশ কুমার আগরওয়ালা, স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মনছুরুল ইসলাম দানু এবং অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী আফরোজা নাজনিন।

 

এ ছাড়া ৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৩ জন, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিল পদে ১৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ইউনুস আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র আব্দুস সাত্তার মিলন, আবুল কালাম আজাদ, আব্দুল মান্নান সরকার ও রানা মিয়া—এ পাঁচজন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কউন্সিলর পদে ৩৭ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৯ জন তাঁদের মনোয়নপত্র ঘোড়াঘাট জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করেন। ফেনীর ছাগলনাইয়া পৌরসভায় মেয়র পদে দুজন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯টি ওয়ার্ডে ৪৩ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলরের তিন পদে ১০ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

 

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। দলীয় প্রার্থীর বাইরে আওয়ামী লীগ থেকে একজন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌরসভায় নির্বাচনে বিনা ভোটে মেয়র নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. গোলাম হাক্কানি। গতকাল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে গোলাম হাক্কানি বাদে মেয়র পদে আর কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেননি।

 

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌরসভায় দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। দলীয় প্রার্থীর বাইরে আওয়ামী লীগ থেকে একজন এবং বিএনপি থেকে দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছাড়াও এই দলের দুজন বিদ্রোহী, বিএনপির চারজন এবং জামায়াতের একজন মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

 

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী উপজেলা মহিলা লীগের সভাপতি মোছা. নার্গিস বেগমও বিনা ভোটে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। তিনিসহ আওয়ামী লীগের চারজন ও বিএনপির একজন মনোনয়নপত্র কিনলেও শেষ পর্যন্ত অন্যরা রিটার্নিং অফিসারের কাছে তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দেননি।