আজ ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

Screenshot 20211121 040726

বিপ্লব এনে দিয়েছে জন লগি বেয়ার্ডের সেই আবিষ্কার

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ বিশ্ব টেলিভিশন দিবসকে সামনে রেখে ফিরে তাকালে যে নামটি সামনে আসে তিনি হলেন জন লগি বেয়ার্ড। ১৯২৬ সালে তিনি টেলিভিশন আবিষ্কার করেন। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই ১৯৯৬ সালে জাতিসংঘ আয়োজিত এক ফোরামে ২১ নভেম্বরকে বিশ্ব টেলিভিশন দিবস হিসেবে পালনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে এখন আর আগের মতো বোকা বাক্স নিয়ে অত মাতামাতি নেই। বড় মোটা বোকা বাক্সটা এখন স্মার্ট আর স্লিম হয়েছে। সেটাকে রাখার জন্য এখন আর অনেকটা জায়গা লাগে না। দেয়ালেই ঝুলিয়ে দেওয়া যায়।

স্কটিশ প্রকৌশলী লগি বেয়ার্ড প্রথম ব্যক্তি, যিনি গতিশীল বস্তুর ছবিগুলোকে টেলিভিশনে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হন। তিনি ১৯২৪ সালে তিনি টেলিভিশনের অবজেক্ট তৈরি করেন এবং ১৯২৫ সালে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মানুষের মুখ দেখান এবং লন্ডনে রয়াল ইনস্টিটিউটে ১৯২৬ সালে চলমান বস্তুর টেলিভিশন প্রদর্শন করেন। বিবিসি তাঁর টেলিভিউয়ের কৌশলটি ব্যবহার করে ১৯২৯ থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত সম্প্রচার করে। তবে সেই সময় ইলেকট্রনিক টেলিভিশন বেয়ার্ডের পদ্ধতি অতিক্রম করে এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

টেলিভিশন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চালু হয় ১৯৪০ সালে। অতঃপর ১৯৪৫ সালে যন্ত্রটি পূর্ণতা লাভ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর টেলিভিশনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সূচিত হয়। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে টেলিভিশন গণমাধ্যমের ভূমিকায় উঠে আসে। রেডিওতে গান, নাটক, খেলার রিলে, সংবাদ শুনে শুনে একসময় মানুষের দেখার কৌতূহল জাগতে শুরু করে। তারা কানে শোনার সঙ্গে সঙ্গে চোখে দেখা বা অডিও-ভিজ্যুয়াল ব্যাপারটা চাইল। তাই এ বিষয়ের প্রাথমিক কাজকর্ম শুরু হয়ে গেল জার্মানি ও ইংল্যান্ডে। অনেক যন্ত্রবিদ এ ব্যপারে গবেষণা করতে লাগলেন, কিন্তু কেউই সফল হতে পারছিলেন না। লগি বেয়ার্ড নামে গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গরিব অথচ মেধাবী একজন ছাত্র এ নিয়ে মাথা ঘামাতে লাগলেন।

তরুণ বিজ্ঞানী লগি লন্ডনে এসে এই কাজের গবেষণার জন্য বহু লোকের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলেন, কিন্তু কোনো সাহায্য পেলেন না। লগি বেয়ার্ড কিন্তু দমার পাত্র ছিলেন না। তিনি নিজেই চেষ্টা করতে লাগলেন। সফল হলো বেতারে ছবি পাঠানোর কৌশল। টেলিভিশনের আবিষ্কার হলো।