আজ ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

045223012118221846kalerkantho 15 09 2017 4

বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম ঊর্ধ্বমুখী

প্রথমবার্তা প্রতিবেদক:অর্থনীতি সচল হওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বাড়তে থাকায় বিশ্ববাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) চাহিদা বাড়ছে। ফলে গত নভেম্বর থেকে নির্মল ও সবুজ জ্বালানি হিসেবে খ্যাত এ গ্যাসের দাম বাড়ছে। চীন, ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলোয় পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বেড়েছে এলপিজির দাম। নতুন বছরে বাংলাদেশেও বাড়তে পারে।

 

চীনে গত ডিসেম্বরে এলপিজির দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ। ভারতে দুই দফায় এই একই সময়ে ১০০ রুপি বেড়েছে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। এই গ্যাসটি বিশ্বজুড়ে পেট্রল ও অকটেনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রান্না, গাড়িতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনেও রয়েছে এলপিজির বিপুল চাহিদা।

 

আমদানিকারক সূত্রে জানা যায়, গত এক মাসে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বেড়েছে ১৮ থেকে ১৯ শতাংশ। এ সময় আমদানিপর্যায়ে এলপিজির দাম বেড়েছে ৮০ ডলার। যেখানে গত বছর জুনে প্রতি টন আমদানি মূল্য বা সিপি ছিল ৩৩৬ ডলার, এই জানুয়ারিতে তা বেড়ে হচ্ছে ৫৩৬ ডলার। ছয় মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ২০০ ডলার। আর ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি এই এক মাসে দাম বেড়েছে ৮০ ডলার।

 

আন্তর্জাতিক বাজারে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে টনপ্রতি এলপিজির আমদানি মূল্য ছিল ৫৮২.৫ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৫৩৩ ডলার, মার্চে ৪৬৫ ডলার, এপ্রিলে ২৩৭ ডলার, মে মাসে ৩৪০ ডলার, জুনে ৩৩৬ ডলার, জুলাইতে ৩৪৬ ডলার, আগস্টে ৩৫১ ডলার, সেপ্টেম্বরে ৩৫৯ ডলার, অক্টোবরে ৩৭৮.৫ ডলার, নভেম্বর ৪৩৭ ডলার এবং ডিসেম্বরে ৪৫৭ ডলার।

 

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে এ গ্যাসের ৯৮ শতাংশই আমদানি হয়। যার পুরোটা আসে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে। যেহেতু এটি আমদানিনির্ভর পণ্য, তাই বিশ্ববাজারের সঙ্গে তালমিলিয়ে প্রতি মাসে এলপিজি গ্যাসের দাম নির্ধারণ করতে হয়।

 

চাহিদা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি দেশের বাজারেও দাম বাড়ছে। গত বছর জুনে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম ছিল ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, এই জানুয়ারিতে ১২ কেজির এলপিজির দাম হতে পারে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। দেশে ২৮টি এলপিজি গ্যাস কম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে বসুন্ধরা এলপিজি। কম্পানির মার্কেট শেয়ার ২৫ শতাংশ।

 

এলপিজির দাম বাড়া প্রসঙ্গে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এলপিজি আমদানিনির্ভর হওয়ায় বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে বাংলাদেশেও বাড়বে—এটাই স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে আমদানিকারক বা সিলিন্ডার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কিছু করার নেই। অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি, বিশ্ববাজারে যখন এলপিজির দাম কমেছিল তখন আমাদের দেশেও দাম কমিয়েছিল। যখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়বে তখন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও দাম বাড়াবে।’

 

তিনি আরো বলেন, ‘এলপিজির দাম বাড়ার ফলে মানুষের মধ্যে কিছু প্রভাব অবশ্যই পড়বে। সিলিন্ডারপ্রতি যদি ১০০ টাকা দাম বাড়ে, তাহলে মাসে আরো ১০০ টাকা খরচ বাড়বে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে আনুপাতিক হারে যেন দাম বাড়ানো হয়, সেটাই আমরা চাই। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে কিভাবে দাম সমন্বয় করা হবে তা যদি ঠিক করা যায়, তাহলে একটা রেঞ্জ অব প্রাইজ আমরা ঠিক করতে পারব।’

 

ওয়ার্ল্ড এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের (ডাব্লিউএলপিজিএ) প্রেসিডেন্ট হেনরি কাবন বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে নিরাপদ জ্বালানি হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এলপিজি। এখন সামুদ্রিকযানের জ্বালানি হেসেবেও এলপিজির চাহিদা বাড়ছে। বিশ্বে অনেক দেশে রান্নায় এলপিজি ব্যবহার হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এ ছাড়া আবাসিকে হিটিং ওয়েল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবহনে প্রথাগত জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’