আজ ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মিরাজ

ব্যাটিং নিয়ে মিরাজের ভাবনা

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম টেস্টের শোক এখনো পুরোটা মোছেনি বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের অনুভূতিতে, শরীরী ভাষায়। দুই দিন বিরতির পর গতকাল মিরপুরে অনুশীলনের ফাঁকে দারুণ অলরাউন্ড নৈপুণ্য প্রদর্শন করা মেহেদী হাসান মিরাজের মনেও এখনো খেদের ঘণ্টা বাজায় প্রথম টেস্টের শেষ দিনটি। কে ভেবেছিল যে পঞ্চম দিনের উইকেটে কাইল মেয়ার্স ইতিহাস গড়বেন!

 

ইতিহাস পাতায় নাম লেখানোর সুযোগ এসেছিল মিরাজের সামনেও। সেঞ্চুরি এবং ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া দ্বিতীয় বাংলাদেশি হতে পারতেন তিনি। কিন্তু মিরাজের আর সাকিব আল হাসানের কীর্তি ছোঁয়া হয়নি, বাংলাদেশও দিনশেষে পুড়েছে মুখের গ্রাস অন্যের কেড়ে নেওয়ার কষ্টে। এর পেছনে বেশ কয়েকটি অনুঘটক খুঁজে পেয়েছেন এ অফস্পিনার, ‘উইকেট যেমন আচরণ করবে ভেবেছিলাম, সে রকম কিছু হয়নি।

 

উইকেটের বাইরেরটা ভাঙলেও গুড লেন্থের জায়গাটা অক্ষত ছিল। এর পরও স্পিনাররা চেষ্টা করেছে। কিন্তু ওভারে দুই-একটা বল খারাপ হয়েছে, সেগুলো থেকে ওরা (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) বাউন্ডারি পেয়েছে।’ এই ভুলগুলোর দায় বেশি করে নিজের কাঁধেই নিয়েছেন মিরাজ, ‘তাইজুল ভাই ভালো বোলিং করেছেন।

 

আমি আর নাঈম যদি আরেকটু ভালো বোলিং করতাম তবে হয়তো উইকেটের সুযোগ তৈরি হতো।’ সঙ্গে ফিল্ডিং ব্যর্থতা তো ছিলই। ‘কয়েকটি চান্স (ক্যাচ) যদি কাজে লাগাতে পারতাম, তাহলে হয়তো আমাদের পক্ষে (ম্যাচের ফল) যেত।’ তাঁর আশা, ‘চেষ্টা করব পরের ম্যাচে যেন ভুলগুলো না হয়।’

 

সেসব ভুল শোধরানোর পথ খুঁজতেই গতকাল সদলবলে অনুশীলনে বাংলাদেশ দল। কিন্তু সেই চেনা দৃশ্য যেন। মাঠে ঢুকেই ঢাকা টেস্টের উইকেট নিয়ে কোচ-অধিনায়কের গবেষণা। এরপর পালা করে ব্যাটিং।

 

নেটে পেসারদের লম্বা সময় ধরে বোলিং দেখে মনে হতে পারে বুঝি রণপরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। কিন্তু মুশফিকুর রহিমকে সুইপ শটে অভ্যস্ততা গড়ে তোলার ড্রিল দেখে মনে হবে, অন্য মহাদেশের দলগুলোর জন্য চিরায়ত উইকেটই সাজিয়েছেন মিরপুরের কিউরেটর। তেমন উইকেটে ওয়ারিকান ও কর্নওয়ালের স্পিনও তো খেলতে হবে মুশফিকদের।

 

মিরাজ এবং বাংলাদেশ দলেরই নতুন মাথাব্যথার কারণ সাকিবের অনুপস্থিতি। তাঁর পরিবর্তে গতকাল দলে যুক্ত হয়েছেন সৌম্য সরকার, যে বাঁহাতি খণ্ডকালীন পেসারও। তবে এই ‘টু ইন ওয়ানে’ কি টেস্ট ক্রিকেটের উচ্চাঙ্গ ভালো শোনাবে?

 

জনতা বরং সদ্যই ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করা মিরাজের ব্যাটিংয়ে পদোন্নতি দেখতে আগ্রহী, বিশেষ করে সাকিব যখন খেলছেনই না। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে স্বীকৃত মিরাজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মূলত বোলার পরিচয়ে খেলেন।

 

কিন্তু চট্টগ্রামের সেঞ্চুরি আশাবাদী করে তুলেছে তাঁকেও, ‘সেঞ্চুরিটা অবশ্যই আত্মবিশ্বাস জোগাবে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে তো মিডল অর্ডারেই খেলতাম। তবে জাতীয় দলে তো আমার ওপরে খেলার উপায় নাই।

 

মিডল অর্ডারে পরিপূর্ণ ক্রিকেটার আছেন। সিনিয়র ক্রিকেটাররা আছেন। চার-পাঁচ বছর পর সুযোগ আসতেও পারে। তবে সে জন্য আমার নিজেকে তৈরি করতে হবে। প্রতিদিন উন্নতি করতে হবে।’

 

লেট অর্ডার থেকে মিডল অর্ডারে পদোন্নতি একটি মাত্র সেঞ্চুরিতে ঘটে যাবে না বলে বিশ্বাস করেন বলেই পরের বছরগুলোয় উন্নতির চেষ্টা করে যাবেন মেহেদী মিরাজ। তবে তাঁর দলের দৃষ্টি এখন অত দূর প্রসারিত করার সুযোগ নেই।

 

আগামীকালই মিরপুরে শুরু হবে বাংলাদেশের সিরিজ বাঁচানোর লড়াই। মিরাজের প্রত্যাশা, ‘অবশ্যই ভালো করতে চাই। ওরা একটি ম্যাচ জিতেছে। এখন আমরা যদি এখানে ভালো করতে পারি, জিততে পারি, তাহলে ভালো কামব্যাক করা হবে।’