আজ ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভাই ও বোনের একই প্রেমিক ও অনৈতিক সম্পর্ক, বিরোধে বোনকে হত্যা

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:বোনের প্রেমিকের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, তাও পুরুষ থেকে নারীতে বা তৃতীয় লিঙ্গে রূপান্তরিত হওয়া ভাইয়ের। আর এই তৃতীয় লিঙ্গের ভাই কথিত প্রেমিকের সঙ্গে বোনের সম্পর্ক মানতে পারছিলো না। আর বিকৃত এই ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্বে আপন ভাইয়ের হাতে খুন হতে হলো বোনকে। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত তরুণীর লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে গিয়ে এই ঘটনা উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

অজ্ঞাত পরিচয়ে উদ্ধার হওয়া পাপিয়া (২৬) নামের এক তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করতে গিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক জনিত এই ঘটনা উদঘাটন করে পিবিআই। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্বে তৃতীয় লিঙ্গে রূপান্তর হওয়া আপন ভাই সাইদুর রহমান ওরফে সাম্মির হাতেই খুন হয়েছেন পাপিয়া।

বাবা জয়নাল ও প্রেমিক আরিফুল ইসলামকে গ্রেফতারের পর তারা পাপিয়াকে হত্যা ও লাশ গুমের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। একই সাথে তারা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কাওছার আলমের আদালতে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড (লিপিবদ্ধ) করা হয়।

রবিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে পিবিআই জেলা পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম তার কার্য্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।

পিবিআই জেলা পুলিশ সুপার আরো জানান, চলতি বছরের ২৮ মে জেলার আড়াইহাজার উপজেলার শিমুলিয়া এলাকায় অজ্ঞাতনামা এক তরুনীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। সে সময় পিবিআই অজ্ঞাত তরুণীর মৃতদেহের আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ করে। কিছুদির পর মামলাটি পুলিশ হেডকোয়াটার্সের নির্দেশে পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্বভার দেয়া হয়। প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত লাশের পরিচয় শনাক্ত করে তদন্ত সংস্থা পিবিআই। তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই এর উপ-পরিদর্শক তৌহিদুল ইসলাম জানতে পারেন, সেটি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানার হলদিয়া গ্রামে জয়নাল মিয়ার মেয়ে পাপিয়ার লাশ এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মুক্তিনগর এলকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতো।

পরে মোবাইল কললিস্টের সূত্র ধরে ১৮ নভেম্বর পাপিয়ার কথিত প্রেমিক আরিফুর ইসলামকে গ্রেফতার করলে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে হত্যাকান্ডের বর্ণনা দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন। আরিফুল আদালতকে জানান, প্রেমিকা পাপিয়ার সাথে তার ও লিঙ্গান্তর হওয়ায় পাপিয়ার বোন সাম্মির মধ্যে শারীরিক সর্ম্পক নিয়ে বিরোধের জের ধরেই এই খুনের ঘটনা ঘটে। আরিফের সাথে বোনের প্রেম মেনে নিতে না পারার কারনেই তার আপন ভাই তৃতীয় লিঙ্গ হিজরা সাম্মি পাপিয়াকে হত্যা করেছে। পরে গুম করার উদ্দেশ্যে এ্যাম্বুলেন্সে করে বাবা জয়নাল, প্রেমিক আরিফ এবং লিঙ্গান্তর হওয়া ভাই সাম্মি মিলে লাশ রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে আসে। পরে পিবিআই পাপিয়ার বাবা জয়নালকে গ্রেফতার করলে তিনিও আদালতে একই জবানবন্দি দেন।

এই হত্যা মামলার মূল আসামী নিহত পাপিয়ার লিঙ্গান্তর হওয়ার ভাই সাম্মী, আরেক ভাই মামুন এবং এ্যাম্বুলেন্সের চালককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে পিবিআই পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।