আজ ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৩ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

2 110

ভাবছিলাম ২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজনীতি ছেড়ে দেব : শামীম ওসমান

প্রথমবার্তা প্রতিবেদক বার একাডেমিতে পারভেজ ভাইয়ের মিটিংয়ের মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে কাগজে কলমে ঢুকে ছিলাম। এই যে শুরু হলো, ভাবছিলাম সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে গেছে, আর কেউ থাবা দিতে পারবে না- ২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজনীতি ছেড়ে দেবো। কিন্তু এখন দেখি, সাপ-শকুনরা এখন আমার নেত্রীকে ছোবল দিতে চায়।’

 

আগামী ৯ জানুয়ারি ডাকা সমাবেশকে সফল করতে বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে এক কর্মী সভায় এ কথা বলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। মহানগর আওয়ামী লীগের ১১ থেকে ১৮নম্বর ওর্য়াডের নেতাকর্মীদের নিয়ে নগরীর রাইফেল ক্লাবে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

শামীম ওসমান বলেন, এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশাল সংকট। কারো না কারো তো আওয়াজ তুলতে হবে। তাই আমিই তুলছি। দেখবেন, আমি নারায়ণগঞ্জ থেকে আওয়াজ তোলার পরে, সকলেই আওয়াজ তোলা শুরু করে দিবে। এখন বিদেশের মাটিতে বসে ‘আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’র বিরুদ্ধে কথা বলছে প্রতিনিয়ত। ‘পুলিশ বাহিনী’ নিয়ে কথা বলছে, ‘বিজিবি’র বিরুদ্ধে কথা বলছে। অর্থাৎ, রাষ্ট্রের কাঠামোটাকে আঘাত করছে। এখন বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য হাই টাইম। তাই আপনাদের কাছে হাত জোড় করে বলছি, আগামী তিন থেকে চার মাস আমরা সবাই এক মায়ের সন্তান হয়ে থাকবো।

 

সিটি মেয়র আইভীকে উদ্দেশ্য করে শামীম ওসমান বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নাম বেঁচে আর শেখ হাসিনার ছবি বেঁচে ক্ষমতা ইনজয় করবেন, নৌকা মার্কা নিয়ে নেতাগিরি করবেন, জনপ্রতিনিধি হবেন। আর বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য আঘাত করবে, আপনারা মাঠে নামবেন না। অন্যদের সাথে বসে চা খাবেন, এটা তো হতে পারে না। আমরা চাই আপনারা মাঠে নামেন, নেমে অবস্থানটা পরিস্কার করেন। তাই আপনাকে দাওয়াত দিয়েছি। এখন আসলে আসবেন, না আসলে না আসবেন। আপনার ইচ্ছা।’

 

শামীম ওসমান আরো বলেন, ‘আমি যে দিন কথা বলা শুরু করলাম, সেদিন থেকে বিদেশ বসে আমার বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু হলো। আমাকে সরকার নাকি স্পেশাল ছয়জন নিরাপত্তা রক্ষী দিয়েছে। এরপর বললো, ‘আমি নাকি ছয় হাজার লোক ভারত থেকে এনে পাসপোর্ট দিয়েছি ট্রেনিং দেওয়ার জন্য।’ আপনাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আমাকে ভারত থেকে লোক আনতে হবে না, আমার মা-বোনরা যদি খন্তি-বঠি নিয়ে পথে নামে, তাহলেই তো পাড় পাবেন না। আমরা তো রিজার্ভ।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহিদ মোহাম্মদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ্ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস এম ওয়াজেদ আলী খোকন, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূইয়া সাজনু, ১৪নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ নাজমুল আলম সজল, ১৭নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল প্রমূখ।