আজ ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

haunted

ভুতের হাড়হিম করা এই ঘটনাগুলো জানলে চমকে যাবেন

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:‘ভূত! ধুৎ তা আবার আছে নাকি? যত্তসব! ওসব ভূত-টুত কিছু হয় নাকি?’জেন ওয়াইয়ের কাছে ভূত প্রসঙ্গ উঠলেই কথোপকথন অনেকটা এমন জায়গাতেই পৌঁছে যায়৷

 

বেরিয়ে আসে নানা যুক্তি তক্কের সম্ভার৷ কিন্তু বিশ্বের এমন কিছু জায়গা রয়েছে তা আপনাকে বিশ্বাস করাতে বাধ্য করবে ভূতের অস্তিত্ব৷ হাড়হিম করা সেই সমস্ত ভুতুড়ে জায়গা থেকে পারলে একবার ঘুরে আসতেই পারেন৷

 

‘ডোর টু হেল’, তুর্কমেনিস্তান

তুর্কিমেনিস্তানের এই জায়গাটি বিখ্যাত৷ ৪০বছর আগে এই এলাকায় একটি বিশালাকার গর্তে জ্বালামুখি তৈরি হয়েছিল৷ এখানেই রহস্যজনকভাবে সারাক্ষণ আগুন জ্বলতে থাকে দাউদাউ করে৷

 

পেন্ডেল হিল, ল্যাঙ্কশায়ার

পেন্ডেল হিল বিশ্বের একটি বিখ্যাত জায়গা৷ এই এলাকায় একটি ঘরে ১২জন মহিলা কালো যাদু নিয়ে চর্চা করত৷ ঘটনাটি সপ্তদশ শতকের৷ এদের মধ্যে ১০জন মহিলা আবার খুনও করেছিল এই কালোযাদু করে বশ করে৷ এরপর থেকেই ওই ঘরে এখনও অবধি কেউ থাকতে পারেন না৷

 

টুওল স্লেঙ, কম্বোডিয়া

এই এলাকাতেই একটি কারাগার ছিল৷ সেই কারাগারেই বন্দীদের চেন দিয়ে আটকে রাখা হত৷ সেই কারাগারের বারোজন বন্দীদের ইলেকট্রনিক শক, লোহার রড দিয়ে মেরে ফেলা হয়৷ এরপর থেকেই সেই ঘরটার আশপাশ দিয়ে কেউ গেলেও গা ছমছম করে৷

 

হাসিমা দ্বীপ, জাপান

ঘটনাটি ১৯৮০সালের৷ এই এলাকাতেই ছিল বিশালাকার একটি কয়লাখনি৷ কিন্তু সেই কয়লাখনিতেই একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে৷ যার ফলে প্রায় কয়েকশো শ্রমিক মারা গিয়েছিলেন৷ এরপর থেকেই প্রায় কয়েক বছর খনিটি বন্ধ ছিল৷ এরপর ২০০৯সালে পর্যটকদের জন্য ফের খুলে দেওয়া হয় খনিটি৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস, শ্রমিকদের অতৃপ্ত আত্মা নাকি রাতের বেলা এখানে ঘোরাফেরা করে৷

 

ভানগঢ়, রাজস্থান, ভারত

এশিয়ার সবচেয়ে ভূতুড়ে জায়গাগুলির মধ্যে অন্যতম। দিল্লি থেকে ৩০০ কিমি দূরে রাজস্থানের জয়পুরের কাছে এটি অবস্থিত৷ এই এলাকাতে নেই বিদ্যুৎ সরবরাহও৷ রত্নাবতী ভানগঢ়ের রানী ছিলেন।

 

অসামান্য সুন্দরী হওয়ায় রূপের অহঙ্কার ছিল রত্নাবতীর। তাচ্ছিল্য করে তিনি সবাইকেই ফিরিয়ে দিতেন। রানীর এলাকায় বাস করত সিঙ্ঘিয়া নামের এক তান্ত্রিক। সে রানীর প্রেমে মগ্ন ছিল।

 

একদিন রাণী দাসীদের নিয়ে সুগন্ধী কিনতে বের হয়েছিলেন। তান্ত্রিক সিঙ্ঘিয়া সুযোগ বুঝে সুগন্ধীতে মন্ত্র পড়ে দেন। সিঙ্ঘিয়ার মতলব ছিল, রানী এই গন্ধ পেতেই সিঙ্ঘিয়ার পেছনে পেছনে চলে আসবেন।

 

কিন্তু রূপের সঙ্গে রত্নাবতীর বুদ্ধিও ছিল সাংঘাতিক! তিনি সিঙ্ঘিয়ার এই ছল বুঝতে পেরে সুগন্ধীর বোতল একটি পাথরে ছুঁড়ে মারেন। জাদুবলে ওই পাথরটি বশীভূত হয়ে সিঙ্ঘিয়ার পেছনে ছুটতে শুরু করে।

 

ফলে ওই পাথরের তলায় চাপা পড়ে সিঙ্ঘিয়া মারা যায়। মৃত্যুর আগে সে রানীকে অভিশাপ দেয়, রাজপরিবারের সবাই মারা যাবেন না। আর রাণীকে সে মরে যাওয়ার পরেও ছাড়বে না।

 

এর কিছুদিন পর পাশ্ববর্তী রাজ্যের সঙ্গে ভানগঢ়ে ভীষণ যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধে রাজপরিবারসহ গোটা ভানগঢ় ধ্বংস হয়ে যায়। স্থানীয়দের বিশ্বাস ওই কেল্লায় নাকি তান্ত্রিক ও রত্নাবতীর অতৃপ্ত আত্মা এখনও ঘুরে বেরায়।