আজ ৩রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

Screenshot 2020 1103 105735

মন্দিরে ঢুকে দুই যুবকদের নামাজ পড়ায় মামলা দায়ের

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: মন্দিরের ভিতরে নামাজ পড়ছেন দুই ব্যক্তি। ধর্মনিরপেক্ষ দেশ ভারতের এই দৃশ্যে দেখা মিলেছিল সম্প্রীতির সুর। কিন্তু সেই সম্প্রীতি সুরের মাঝেই দেখা দিল বিতর্কের রেশ। মথুরার মন্দিরে যে দুই মুসলিম ব্যক্তি নামাজ পড়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করল উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের পুলিশ।

জানা গিয়েছে, মথুরার ওই মন্দিরের ভিতরে নামাজ পড়ার কারণেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে খবর। ওই দুই ব্যক্তির নাম ফয়জাল খান ও মোহাম্মদ চাঁদ। গত ৩০ অক্টোবর মথুরার নন্দবাবা মন্দিরের ভিতরে নামাজ পড়েছিলেন ফয়জাল খান ও মোহাম্মদ চাঁদ। আর এই কারণেই ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ,২৯৫ ও ৫০৫ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ, ওই দুই ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই মথুরার নন্দ বাবা মন্দিরে ঢুকে নামাজ পড়েন। ফয়জাল খান ও মোহাম্মদ চাঁদ ছাড়াও আরও দুই ব্যক্তির নাম এফআইআর আছে। তারা ওই দুই ব্যক্তির ছবি তুলেছিলেন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন। দেশের এই অস্থির সময়ে, যখন রোজই দেশেই সাম্প্রদায়িক হানাহানির কথা শোনা যায়, তখন মন্দিরে ওই দুই ব্যক্তির নামাজ পড়ার ঘটনা অবাক করেছিল সকলকেই।

সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই। কিন্তু সেই ঘটনার রেশ না মিটতেই মথুরার নন্দবাবা মন্দিরের নামাজ পড়ার ঘটনায় চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করলেন মন্দিরের সেবায়তেরা। পুরোহিতরা মূলত মিথ্যা কথা বলে মন্দির চত্বরে নামাজ পাঠের অভিযোগ করেছেন ওই চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এমনকী এই ঘটনায় হিন্দু ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত লাগার তত্ত্বও তুলেছে বেশ কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে। অযোধ্যার রাম মন্দিরের প্রধান সেবাইত সত্যেন্দ্র দাসও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে ওই দুই ব্যক্তির কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, ‘প্রত্যেকের এই ঘটনার বিষয়ে কথা বলা উচিত। এটা কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটা ধর্মীয় বিষয়।’

আবার উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার সদস্য শ্রীকান্ত শর্মাও এই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানো চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। তার অভিযোগ, ‘কিছু মানুষ উত্তরপ্রদেশের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। আমরা যে পদ্ধতিতে রাজ্য চালাচ্ছি, তাতে অনেক প্ররোচনাকারীই মানিয়ে নিতে পারছেন না। তাই, নানা পদ্ধতিতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

সূত্র : ইন্ডিয়া টাইমস