আজ ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

256448 Abul 8 1

মহাশূন্যে কাঠের তৈরি স্যাটেলাইট পাঠাবে জাপান!

প্রথমবার্তা প্রতিবেদক,পৃথিবী থেকে অধিক পরিমাণে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে মহাকাশে। এতে ক্রমশ জটিল অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব স্যাটেলাইট বাতাসে এলুমিনা পার্টিকেল ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এ জন্য জাপানের সুমিতোমো ফরেস্ট্রি এবং কিয়োটো

ইউনিভার্সিটি যৌথভাবে কাঠ দিয়ে একটি স্যাটেলাইট বানাচ্ছে। ২০২৩ সাল নাগাদ এমন স্যাটেলাইট প্রস্তুতির কাজ শেষ হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছে। যদি তারা এক্ষেত্রে সফল হয় তাহলে এটাই হবে কাঠে তৈরি প্রথম স্যাটেলাইট। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
সুমিতোমো ফরেস্ট্রি বলেছে, তারা গাছ নিয়ে এক্ষেত্রে গবেষণা শুরু করেছে এবং মহাশূন্যে কাঠের ব্যবহার নিয়ে কাজ করছে। কিয়োটো ইউনিভার্সিটির সঙ্গে তারা পরীক্ষামূলকভাবে পৃথিবীর চরম পরিবেশে বিভিন্ন রকম কাঠ ব্যবহার করবে। ক্রমবর্ধমান হারে স্যাটেলাইট মহাশূন্যে ছাড়ার ফলে তা ক্রমশ সমস্যার কারণ হয়ে দেখা দিচ্ছে। এক্ষেত্রে কাঠের তৈরি স্যাটেলাইট পাঠানো হলে তা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো উপাদান নিঃসরণ করবে না অথবা ফিরে আসার পথে বৃষ্টির আকারে ধ্বংসাবশেষ ভূপৃষ্ঠে নিক্ষেপ করবে না। জাপানি জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং কিয়োটো ইউনিভার্সিটির প্রফেসর তাকাও দোই বলেছেন, সব স্যাটেলাইট যখন ফিরে আসার সময় পৃথিবীর বায়ুম-লে প্রবেশ করে তখন পুড়ে যায় এবং এ থেকে সৃষ্টি হয় এলুমিনা পার্টিকেল। এসব কণা বহু বছর ধরে বায়ুম-লের উপরের স্তরে ভাসতে থাকে। এ নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এ ঘটনায় পৃথিবীর পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের পরবর্তী ধাপ হবে স্যাটেলাইটের মডেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন করা এবং ফ্লাইট মডেল তৈরি করা। জ্যোতির্বিদ হিসেবে তাকাও দোই ২০০৮ সালে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন সফর করেছেন।

উল্লেখ্য, সুমিতোমো ফরেস্ট্রি হলো সুমিতোমো গ্রুপের একটি অংশ। এটি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল এখন থেকে কমপক্ষে ৪০০ বছর আগে। সুমিতোমো ফরেস্ট্রি বলেছে, তাপমাত্রা এবং সূর্য্যালোকের পরিবর্তন প্রতিরোধ করতে পারে এমন কাঠের উপাদান ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছে তাদের স্যাটেলাইটে। তারা এক্ষেত্রে যে কাঠ ব্যবহার করছে তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে ‘আরএন্ডডি সিক্রেট’ নামে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তথ্যমতে, বর্তমানে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে প্রায় ৬০০০ স্যাটেলাইট। এর মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগই অকার্যকর। অর্থাৎ এগুলো মহাশূন্যে আবর্জনার সৃষ্টি করেছে। গবেষণা সংস্থা ইউরোকনসাল্ট হিসাব করে দেখেছে, এই দশকে প্রতি বছর মহাশূণ্যে পাঠানো হবে ৯৯০টি স্যাটেলাইট। এর ফলে ২০২৮ সালের মধ্যে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবে ১৫ হাজার স্যাটেলাইট। ইলোন মাস্কের স্পেসএক্স এরই মধ্যে কমপক্ষে ৯০০ স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে। তারা আরো কয়েক হাজার স্যাটেলাইট পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। মহাকাশে যেসব আবর্জনা তৈরি হচ্ছে সেগুলো অবিশ্বাস্য রকম গতিতে অর্থাৎ ঘন্টায় ২২,৩০০ মাইল বেগে ছুটছে। ফলে অকার্যকর কোনো স্যাটেলাইট যদি কোনো বস্তুর সঙ্গে সংঘর্ষ লাগে তাহলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। ২০০৬ সালে এমন আবর্জনার ছোট্ট একটি টুকরো ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে আঘাত করে। এতে বড় ক্ষতি হয়।