আজ ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

022951Tika 04 kalerkantho pic

মহড়া ছাড়াই টিকা

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃদেশে করোনাভাইরাসের টিকাদানে প্রথম ধাপে সুযোগ পাচ্ছেন সরকারি হাসপাতালের নার্স, উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসার বা সেকমো এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কিছুসংখ্যক কর্মী। থাকছেন পরিচিতি পাওয়া সরকারের স্বাস্থ্য সহকারীরা। এরই মধ্যে তাঁদের তালিকা প্রস্তুত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আগামী সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সে জন্য একটি প্রশিক্ষক গ্রুপ তৈরি করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ অন্য দেশগুলোর মহড়া পদ্ধতি অনুসরণ করবে না। এখানে সরাসরি টিকা দেওয়া হবে তালিকাভুক্ত একদল স্বাস্থ্যকর্মীকে। পরবর্তী সময়ে তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। যাঁরা টিকা দিয়েছেন তাঁরাও থাকবেন পর্যবেক্ষণের আওতায়। এ ছাড়া এই টিকাদান পর্বে কোনো ধরনের ভুলভ্রান্তি থাকলে তা-ও শুধরে নেওয়া হবে পরবর্তী সময়ে।

প্রথম পর্যায়ে টিকাদানের দক্ষতা তৈরির জন্য গতকাল বুধবার থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে একটি কোর প্রশিক্ষক গ্রুপকে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে, যাঁদের সবাই চিকিৎসক। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই চিকিৎসকরা পর্যায়ক্রমে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে আরো কিছু প্রশিক্ষক গ্রুপ তৈরি করবেন। এই প্রশিক্ষক গ্রুপ মাঠপর্যায়ের টিকাদানকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (টিকাদান) ডা. শামসুল হক প্রথমবার্তা কে বলেন, ‘আমরা বুধবার থেকে টিকাদান প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ শুরু করেছি। ২৫ জন চিকিৎসক এই প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। তাঁরা এখান থেকে যে প্রশিক্ষণ পাবেন, সেটা আবার অন্যদের শিখিয়ে দেবেন। বিশেষ করে হাসপাতাল ও বিভাগীয় পর্যায়ে এই প্রশিক্ষক গ্রুপ কাজ করবে।’

প্রশিক্ষক গ্রুপ তৈরি করা হলেও এখন পর্যন্ত প্রথমে কোন হাসপাতাল থেকে দেশে টিকাদান শুরু হবে, সেটা চূড়ান্ত হয়নি।

ডা. শামসুল হক বলেন, ‘কোন কোন হাসপাতালে প্রথম টিকা দেওয়া শুরু হবে আমরা এখনো তা ঠিক করতে পারিনি। তবে এটি নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হবে না। এ ক্ষেত্রে টিকা ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রিক মূল কমিটি মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। ওই কমিটি ঠিক করবে প্রথমে কোন হাসপাতালে টিকা দেওয়া হবে। কমিটি থেকে আমাকে জানানোর পরে আমি সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’

বিশেষজ্ঞদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ টিকাদানকর্মী প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কিছুটা ধীরগতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকাদান শাখা কেন আগে থেকেই প্রস্তুতিগুলো সেরে রাখেনি, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁরা যখনই অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে গতিশীল করে তুলতে চান তখনই কোনো কোনো শাখার কর্মকর্তারা এমন ভাব প্রকাশ করেন যেন আগে থেকেই সব কিছু নিয়ে পুরোদমে প্রস্তুত হয়ে আছেন।

ওই কর্মকর্তা বলছিলেন, আগে থেকে তাঁদের বলা হয়েছে যে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কর্মীরাই সারা দেশে টিকা দেবেন। কিন্তু যখন প্রথম পর্যায়ে হাসপাতালগুলোতে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, তখন থেকেই নার্সদের প্রশিক্ষণের বিষয়টি সামনে আসে। তাঁরা বলার চেষ্টা করেছেন এসব নার্সকে বাছাই করে প্রশিক্ষণ শুরু করে দিতে। কিন্তু টিকা শাখা এই বিষয়ে খুব একটা গুরুত্ব দিয়েছে বলে মনে হয় না। যখনই তাঁদের সঙ্গে কথা বলা হয় তখনই তাঁরা হাতে আরো সময় আছে বলে জানান।

শুধু ওই বিশেষজ্ঞদেরই নয়, প্রথমবার্তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুল হক বলেন, ‘আমাদের হাতে এখনো সময় আছে। এসব নিয়ে খুব একটা টেনশনের কারণ নেই। সময়মতোই সব কিছু হয়ে যাবে, আগে টিকা আসুক।’