আজ ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মুই কোনদিন ভাবো নাই পাকা ঘরোত থাকিম’

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ মুই কোনদিন ভাবো নাই পাকা ঘরোত থাকিম। এটা মুই স্বপ্নেও দ্যাখো নাই। সেই মুই আইজ থাকি পাকা ঘরোত থাকিম।’

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেয়া পাকা ঘর পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে আজ (২৩ জানুয়ারি) কথাগুলো বলেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই কাছারীপাড়া আশ্রয়ণ পল্লীর রহমত আলী।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘হামার মাকে (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) আল্লাহ সুস্থ রাখুক। মোর জীবনোত আর কোনও চাওয়া নাই। সারাজীবন মায়ের (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) জন্য মুই দোয়া করিম।’

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ঘর আজ সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানটি উপজেলা পরিষদ হলরুমে বড় পর্দায় দেখানো হয়।

অনুষ্ঠান শেষে উপজেলার উপকারভোগীদের মাঝে ঘরের চাবি ও একটি ফোল্ডারে জমির দলিল, খতিয়ান, ডিসিআর ও সনদপত্র তুলে দেয়া হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ্ মোঃ আবুল কালাম বারী পাইলট, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ রবিউল ইসলাম, শাপলা বেগম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ রোকসানা বেগম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান, অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল আউয়াল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মশিয়ার রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মজিদুল ইসলাম, বাহাগিলী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আতাউর রহমান শাহ্, নিতাই ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক উজ জামান ফারুক, চাঁদখানা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হাফিজার রহমান হাফি, পুটিমারী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আবু সায়েম লিটন প্রমুখ।

অসহায় উপকারভোগীদের কাছে এক একটি ঘর যেন ‘স্বপ্ননীড়’। স্বপ্ননীড়ে উঠতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন গৃহহীন উপকারভোগীরা। সে স্বপ্নের অবসান হলো আজ। তাই উপকারভোগীদের মাঝে উৎসব আর আনন্দের বন্যা বইছে এখন।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার ১৪০টি পরিবারকে ঘর এবং প্রতিটি পরিবারকে ২ শতাংশ করে জমি প্রদান করা হয়।

ঘর দেওয়ার ক্ষেত্রে ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ষাটোর্দ্ধ প্রবীণ ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। খাস জমিতে ব্যারাক নির্মাণের মাধ্যমে ২ শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদান করে একক গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে। দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমি পাকা ঘরে একটি টয়লেট, একটি রান্না ঘর ও ইউটিলিটি স্পেস রয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণ বাবদ এক লাখ ৭১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।