আজ ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

085833sahid minar kk

মুজিববর্ষে শতভাগ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বগুড়ার ধুনট উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কোনো স্থায়ী শহীদ মিনার ছিল না। ফলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারত না শিক্ষার্থীরা। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনোটিতে কলাগাছ কিংবা বাঁশ-কাঠ দিয়ে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার বানিয়ে দিবস পালন করা হতো। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে দিবস পালন করা হতো শুধুমাত্র পতাকা উত্তোলন করে।

জানা গেছে, এ উপজেলায় ২০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনার ছিল না। মুজিববর্ষে উপজেলা শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়নে শতভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। এ কাজে প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা ছিল। নবনির্মিত শহীদ মিনারগুলো ১৬ ডিসেম্বর একযোগে উদ্বোধন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাবিবর রহমান এমপি।

প্রতিটি বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় এখন শোভা পাচ্ছে ৫২’র ভাষা শহীদের প্রতীক এ শহীদ মিনার। এ শহীদ মিনার নির্মাণ হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা খুশি। এবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি প্রথম শ্রদ্ধা জানাতে পারবে। শহীদ মিনারগুলো এখন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতের ফুলের শুভেচ্ছায় সিক্ত হওয়ার প্রতিক্ষা মাত্র।

উপজেলার সাহাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকারি বরাদ্দে স্কুল সংস্কার খাত থেকে পাওয়া টাকা ও স্থানীয় সহযোগিতায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ করা হয়েছে।

ধুনট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) ফেরদৌসী বেগম জানান, শৈশব থেকেই হৃদয়ে মুক্তিযোদ্ধার চেতনা ও ভাষা শহীদদের নিয়ে নানান স্বপ্ন লালন করেছি। এরই ফলশ্রুতিতে কোমলমতি শিশুদের জন্য প্রতিটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে তা বাস্তবায়িত করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। সদ্য ফোটা ফুল-কুড়িদের হৃদয়ে ভাষা শহীদদের সম্মান ও মাতৃভাষা চর্চায়ই পারে সুন্দর আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, বাঙালির আবেগকে যদি ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে যেকোনো অপশক্তি তার কাছে মাথা নত করতে বাধ্য। এ ভাবনা থেকেই নতুন প্রজন্মকে একুশ ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে আমাদের এ উদ্যোগ। ধুনটবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় যা বাস্তবায়িত হয়েছে।