আজ ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মোদি

মোদি ঢাকার পথে…

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:   জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকার পথে রওয়ানা হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।শুক্রবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) থেকে এক টুইটে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী প্লেনের সিঁড়িতে দাঁড়ানো এমন একটি ছবি শেয়ার করে টুইটে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করছেন। বাংলাদেশ সফরকালে তিনি আমাদের বন্ধুসুলভ প্রতিবেশীর সঙ্গে সহযোগিতা আরো বাড়ানোর লক্ষ্যে বিস্তৃত কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

 

সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাবেন নরেন্দ্র মোদি। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; দেওয়া হবে লালগালিচা সংবর্ধনা।

 

বাংলাদেশে এটি তাঁর দ্বিতীয় সফর। গত বছরের মার্চ মাসে মুজিববর্ষের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তাঁর আসার কথা থাকলেও কভিড-১৯ মহামারির কারণে স্থগিত হয় সেই সফর। নতুন বাস্তবতায় এক বছর পর কভিড মহামারির মধ্যেই ঢাকা সফরে আসছেন নরেন্দ্র মোদি। বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বের ৫০ বছর পূর্তিতে মোদির এ সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

 

বাংলাদেশ সফর নিয়ে উচ্ছ্বাসিত নরেন্দ্র মোদি গত রাতে দুই দফা টুইট বার্তা দিয়েছেন। একটি বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও আদর্শ স্মরণ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, এর পাশাপাশি আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপনের অপেক্ষায় আছি।’

 

তিনি আরো লিখেছেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারি আমাদের ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ (প্রতিবেশীই প্রথম) নীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। আর আমরা একে গভীর ও বৈচিত্র্যময় করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন যাত্রাকে আমরা সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রাখব।”

 

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, গত বছর কভিড মহামারি শুরুর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এটিই প্রথম বিদেশ সফর। এই সফরের মধ্য দিয়ে ভারতের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।

 

মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর পাশাপাশি এ বছরটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয়—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারতের জোরালো ভূমিকা, সমর্থন ও সহযোগিতা ছিল ও রয়েছে। কভিড মহামারির মধ্যে ভারতের উপহার হিসেবে আজ আসছে আরো ১২ লাখ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন।

 

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে যে সম্পর্ক তা বিশ্বের অনেক দেশের কাছেই ‘মডেল’। অনেকেই প্রতিবেশীদের সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ার স্বপ্ন দেখে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর পাকিস্তানি বাহিনীর কাছ থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে ভারতীয়রা যুদ্ধ করেছেন, রক্ত দিয়েছেন। এটিও বিশ্বে বিরল। তিনি আরো জানিয়েছেন, মোদি বাংলাদেশ সফরের অপেক্ষায় আছেন। এই সফর হবে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মাইলফলক।

 

মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুকে ‘গান্ধী শান্তি পুরস্কারে’ ভূষিত করেছে ভারত। এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বঙ্গবন্ধু দুই দেশের সম্পর্ক ও জোরালো অংশীদারির ভিত্তি গড়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সময়ে এ সম্পর্ক সত্যিকার অর্থেই ‘সোনালি অধ্যায়ে’ পরিণত হয়েছে।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফর প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘এবারের সফরটি উদযাপনের। ভারত আমাদের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী ও সবচেয়ে বড় বন্ধু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরিপক্ব নেতৃত্বের গুণে এই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। মোদির সফরে বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশের জনগণ খুশি।’ তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সমস্যাগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে। দুই দেশ অতীতে তা-ই করেছে।