আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

Screenshot 2020 1013 112706

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রধান দুই দলের বাইরে যারা

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হচ্ছে দু’শ ৩০ বছর ধরে । কিন্তু রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বাইরে মাত্র একবার প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। তিনি হলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন। তিনি ছিলেন ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী।

মার্কিন রাজনীতির দুই প্রধান দল রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টি গণমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণায় এতটা আধিপত্য ধরে রেখেছে যে, তাদের বাইরে অন্য কেউ প্রচারের আলোয় আসে না এবং অন্য কারো জেতার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।

কিন্তু এতকিছুর পরেও কেউ কেউ কিন্তু নির্বাচন করবেন বলে ঠিক করেন এবং লড়েন। এ বছরের গত ৯ অক্টোবর পর্যন্ত হিসাব ধরলে প্রায় ১,২১৬ জন প্রার্থী মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রার্থী হতে ফেডারেল নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তার মধ্যে তিনজনের সাথে কথা বলেছে। এদের একজন পিয়ানোবাদক এবং বক্তা। আরেকজন মার্কিন আদিবাসী এবং তথ্য প্রযুক্তিবিদ। তৃতীয়জন শত কোটি টাকার ক্রিপটোকারেন্সির মালিক – সোজা কথায় বিলিওনিয়ার।

তাদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল নির্বাচনী অঙ্গীকার কী, এবং কেন তারা মনে করেন যে, তারা মার্কিনিদের ভোট পাবার উপযুক্ত?

জেড সিমন্স একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী নারী। তিনি একজন সাবেক বিউটি কুইন। একজন পেশাদার পিয়ানোবাদক, একজন খ্রিস্টান যাজক, মানুষকে উদ্দীপ্ত করার মতো বক্তা, র‍্যাপার এবং একজন মা। তিনি বলেছেন, আমি একজন ব্যতিক্রমী প্রার্থী – কিন্তু এখন সময়টাই ব্যতিক্রমী।

তিনি আরো বলেছেন, এটা এমন এক সময় যখন আমরা গতানুগতিক প্রাত্যহিক জীবন যাপন করতে পারছি না। আমি একজন নাগরিক অধিকার আন্দোলনকর্মীর মেয়ে এবং আমার বাবা আমাকে এ শিক্ষাই দিয়েছিলেন যে কোথাও অভাব-অবিচার দেখলে তুমি নিজেকে প্রশ্ন করবে, তোমার নিজের কি এক্ষেত্রে কিছু করা প্রয়োজন?

জেড সিমন্স বলেন, তার লক্ষ হলো অর্থনীতি, শিক্ষা এবং ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় সংস্কার এনে সবার জন্য সমান সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত করা। সেই চেতনা থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম খরচে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।

সিমন্সের কথা, প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হবার যোগ্যতায় বলা আছে আপনাকে ৩৫ বছর বয়স্ক হতে হবে, তাকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া একজন বাসিন্দা হতে হবে এবং সে দেশে ১৪ বছর বাস করতে হবে।

তিনি বলেন, কিন্তু এখন প্রেসিডেন্ট পদে কেউ প্রার্থী হলে তাকে প্রায় একশ কোটি ডলার খরচ করতে হয়, এটা ভাবলেই আমাদের বমি আসে। আমাদের বরং ওই অর্থটা মানুষকে সাহায্য করার জন্য খরচ করা উচিত।

তিনি বলেন, আমাদের পলিসি বার্নি স্যান্ডার্সের সমর্থক থেকে শুরু করে খ্রিস্টান যাজকরা পর্যন্ত সবাই পছন্দ করছে। আমি নিজে একজন খ্রিস্টান যাজক এবং ধর্মবিশ্বাসী বলেই যে আমি রক্ষণশীল হবো তা মনে করার কোনো কারণ নেই।

তিনি আরো বলেন, আমার তো মনে হয়, যীশু ইতিহাসের সবচাইতে বৈপ্লবিক চরিত্রদের একজন ছিলেন, তিনি যেভাবে কাজ করেছেন তাতে হয়তো আপনি তাকে একজন প্রগতিশীলও বলতে পারেন।

করোনাভাইরাস মহামারি এবারের হোয়াইট হাউসে যাবার লড়াইকে একেবারেই উল্টোপাল্টা করে দিয়েছে। জনসভা কাটছাঁট করা হচ্ছে, পার্টিগুলোর সম্মেলন হচ্ছে অনলাইনে, সংবাদ মাধ্যমের শিরোনামেও প্রাধান্য বিস্তার করেছে মহামারির খবর।

তবে জেডের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল – তিনি যে প্রতিযোগিতায় আছেন তা মানুষকে জানানো।

তিনি বলছেন, ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের এই সময়টাতে যখন বড় বড় কর্পোরেশন বা মিডিয়া এর প্রতি সংহতি জানাচ্ছে, তখনও তারা – এমনকি কৃষ্ণাঙ্গদের কিছু মিডিয়াও- এই খবর দিতে চাইছে না যে আমি আছি।

তিনি আরো বলেন, কানিয়ে ওয়েস্টের মতো একজন সেলিব্রিটি যে প্রার্থিতার আবেদনপত্রও জমা দেয়নি – গত ৪ঠা জুলাই তার ঘোষণার পর ৩০ মিনিটের মধ্যে সব প্রধান নেটওয়ার্ক তার খবর প্রচার করলো। আমরা এতে বেশ মর্মাহত হয়েছি।

সূত্র : বিবিসি বাংলা