আজ ৩রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

mamata banerjee 261984 1

যে কারণে দল বাঁচানোই এখন মমতার বড় চ্যালেঞ্জ

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: বিধানসভা ভোটের এখনো নির্ঘণ্ট প্রকাশ হয়নি। তবে মমতার রাজ্যের ভোট মিটিয়ে ফেলা হবে এপ্রিল মাসের মধ্যেই। পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ এবং ২০১৬ সাল পরপর দু-দফায় ক্ষমতায় রয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপধ্যায়। বামফ্রন্ট, কংগ্রেস কিংবা বিজেপি অতীতের ভোটে তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফেলতে পারেনি তার দলকে। কিন্তু এবার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি তৃণমূল নেত্রী। তাই সরকারি অনুষ্ঠানগুলোতে দাঁড়িয়েও ভোট চাইতে হচ্ছে মমতাকে।

২০১৯ সালে শেষ লোকসভা ভোটের রাজ্যের বিজেপির আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তায় কার্যত বেশ কয়েকটি জেলায় তৃণমূল খড়কুটোর মতো উড়ে যায়। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে বাংলার শাসক তৃণমূল কংগ্রেস একটি আসনও পায়নি। তিন দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে সে কথা প্রকাশ্যে মেনে নিলেন মমতা, বললেন লোকসভা ভোটে গোহারা হেরেছি, তবুও ভোট চাইতে লজ্জা নেই আমার। আমার বিশ্বাস এবার আপনারা আমাকে পুষিয়ে দেবেন।

অনেকেই মনে করছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ছবিটা এখন ঠিক এমন যে এক কথা বলতে গেলে ‘উলোটপুরান’। বলা হচ্ছে, ২০১১ সালে আগে কিংবা পরে বামফ্রন্ট, কংগ্রেস ভেঙে দলে দলে মমতার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন অসংখ্য নেতা-নেত্রী-মন্ত্রী-আমলা-অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে পুলিশ কর্মকর্তারাও। এবারও সেই তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে দলে দলে গেরুয়া অর্থাৎ বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন নেতা-নেত্রী-মন্ত্রী-আমলা-অভিনেতা-অভিনেত্রী।

মাত্র দুমাস আগেও যারা মমতার সাথে সাথে ঘুরেছেন, মন্ত্রী হয়ে সব সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন; আজ তারাই এখন মমতার প্রতিপক্ষ বিজেপির নেতা হয়ে মমতার সরকারকে ঝেটিয়ে বিদায় করার ডাক দিচ্ছেন।

সোমবার যখন মমতা উত্তরবঙ্গে গিয়ে গোহারার কথা স্বীকার করে মানুষের কাছে ভোট চাইছেন ঠিক সেই সময় বর্ধমানের কালনায় বিজেপির এক সভায় দাঁড়িয় মমতার মন্ত্রীসভার সদ্যত্যাগী শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস অনুপ্রবেশকারীদের পশ্চিমবঙ্গে ঢুকিয়ে পশ্চিম বাংলাদেশ বানাতে চাইছেন ,তাই তাদের ভোটের মধ্য দিয়ে ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে।

শুধু তাই নয়, মমতাকে একহাত দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তৃণমূল এক প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। এক ব্যক্তির শাসন সেখানে। দলের কারো কোনও স্বাধীনতা নেই। এদিন তিনি মমতার ভাইপো সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আবার চাঁদাবাজ বলে দাবি করেন।

দুদিন আগেই রোববার হাওড়ায় একসভায় বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন মমতার এক প্রভাবশালী মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষসহ আরো দুজন বিধায়ক। আজ মঙ্গলবারও আরো কয়েকজন বিধায়ক বিজেপিতে নাম লেখাবেন বলে চূড়ান্ত। এর মধ্যে ডায়মন্ডহারবারের বিধায়ক দীপক হালদার অন্যতম। সেখানে আজই সভা করবেন তৃণমূলত্যাগী দুই প্রভাবশালী নেতা শুভেন্দু-রাজীব। মমতার গড় বলে পরিচিত ওই এলাকায় বিজেপি তাদের দখল নিতে এবার মমতার একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহচরদেরই কাজে লাগাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অর্কপ্রভ সরকার এই বিষয়ে বলেন, আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্যের ঘর ভাঙানোর রাজনীতির শুরু করেছিলেন বাংলায়। আজ তার সেই নীতি বুমেরাং হয়ে তার দল ভাঙতে শুরু করেছে। তিনি এও মনে করেন যে ভোট লড়াইয়ের আগেই মমতা দল তৃণমূলের কাছে এখন নিজেদের দল বাঁচানোটাই বড় চ্যালেঞ্জ। সেটা আগে করতে হবে। বাকিটা ভোটের ফল বলে দেবে।

প্রসঙ্গত, এই বছরের মে মাসে মমতার দ্বিতীয় দফার সরকারের মেয়াদ শেষ হবে। এর আগেই নির্বাচন কমিশন ভোট পরিচালনা করবে। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সর্বশেষ ভোটে তৃণমূল ২৩১ আসন পেয়েছিল। এবার বিজেপিরও টার্গেট ২১০।