আজ ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

181239highcourt

শিশুসহ কিশোরী মাকে স্বামীর জিম্মায় দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ গাজীপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালিকা) থাকা আড়াই মাস বয়সী শিশুসহ কিশোরী মাকে তার স্বামীর জিম্মায় দিতে চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। নিজ স্ত্রী ও শিশু সন্তানের মুক্তির জন্য কিশোরীর স্বামীর আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন আদালত। ওই কিশোরীর মতামত নিয়েই এ আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ আলী আহমেদ খোকন। তারসঙ্গে আরো আইনজীবী ছিলেন মো. তারেক আজিজ ও সজল আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

আইনজীবীরা জানান, ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে পালিয়ে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের ওই কিশোরী তার প্রেমিককে বিয়ে করেন। বিয়ের কাবিনে মেয়েটির বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। এরপর ওই কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে ওই কিশোরীর স্বামীর বিরুদ্ধে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর হাজীগঞ্জ থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়। মামলায় মেয়েটির বয়স দেখানো হয় ১৩ বছর ১১ মাস। কিন্তু কিশোরীর জন্ম নিবন্ধন থেকে জানা যায়, তার বয়স ২১ বছর। কিন্তু সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নিজের বয়স ১৬ বছর বলে উল্লেখ করেছে।

মামলার পর গত বছরের ২৬ মে ওই মেয়ের স্বামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মেয়েটিকেও সঙ্গে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর তাদের চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হলে ট্রাইব্যুনাল স্বামীকে কারাগারে পাঠায়। আর কিশোরীর মা মেয়েকে নিজের জিম্মায় নিতে আবেদন করলেও কিশোরী পরিবারের কাছে ফিরতে না চাইলে ট্রাইব্যুনাল তাকে সেফ কাস্টডিতে (গাজীপুরের শিশু কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে) পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর হাইকোর্টে কিশোরীর স্বামী জামিনের আবেদন করেন। হাইকোর্ট তাকে গতবছর ২০ অক্টোবর জামিন দেন। জামিনে মুক্তি পান তিনি।

এদিকে গতবছর ২৭ অক্টোবর গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ওই কিশোরী একটি সন্তানের জন্ম দেন। এ অবস্থায় জামিনে মুক্তি পেয়ে কিশোরীর স্বামী নিজের স্ত্রী ও সন্তানকে নিজের জিম্মায় পেতে চাঁদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন। গতবছর ১০ নভেম্বর ওই আবেদন খারিজ করে দেয় ট্রাইব্যুনাল। এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। এ আবেদনের ওপর শুনানিকালে হাইকোর্ট শিশুসহ কিশোরীকে হাইকোর্টে স্বশরীরে হাজির করার নির্দেশ দেন। এ আদেশে গাজীপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র (বালিকা) থেকে শিশুসহ কিশোরীকে হাইকোর্টে হাজির করা হয়। আদালত ওই কিশোরী ও তার স্বামীর বক্তব্য শোনেন ও আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, কিশোরীটি তার শিশুসহ বর্তমানে গাজীপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালিকা) রয়েছে। সেখানেই গত বছরের অক্টোবরে জন্ম নেয় ওই শিশু।