আজ ৩রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

024425Winter kalerkantho pic 1

শীতে জবুথবু গোটা দেশ

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:দেশের একাধিক অঞ্চলে বয়ে যাচ্ছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। ফলে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত থাকছে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবার, যাদের খুব সকালে কাজে বের হতে হয়, তাদের প্রচণ্ড দুর্দশায় পড়তে হচ্ছে। শীত আর কুয়াশায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ফসলেও। গতকাল রবিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিই এ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। কুয়াশার দাপটে উত্তরের মহাসড়কে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। দুর্ঘটনা এড়াতে গাড়ির চালক গতি নিয়ন্ত্রণে এনে ধীরে ধীরে চালাতে বাধ্য হচ্ছেন।

গতকাল আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। দেশের অন্য জায়গায় তা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কুড়িগ্রাম ও রাজশাহী অঞ্চলের ওপর দিয়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের অন্যত্র, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, নিকলী, শ্রীমঙ্গল, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে।

রংপুর অঞ্চলে চলছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। সপ্তাহখানেকের বেশি সময় ধরে কনকনে শীত আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের জনজীবন। গতকাল তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী দুই থেকে তিন দিন শীত আরো তীব্রতর হবে। আবহাওয়া অফিসের এমন পূর্বাভাসে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে অসহায় দরিদ্র মানুষজন।

কয়েক দিনের অব্যাহত ঘন কুয়াশাসহ শৈত্যপ্রবাহের কারণে রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় উঠতি আলুক্ষেতে ব্যাপক হারে মড়ক বা পচন রোগ দেখা দিয়েছে। এতে এলাকার কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। মহানগরীর উত্তম হাজিরহাট, বুড়িরহাট, গোয়ালু, অভিরাম, তামপাট, নব্দিগঞ্জ, সাহেবগঞ্জ, হারাগাছসহ বিভিন্ন এলাকায় দিশাহারা কৃষকরা আলুক্ষেতে ছত্রাকনাশক স্প্রে করছেন।

তামপাট এলাকার কৃষক নাজিম উদ্দিন ও শাহ আলম জানান, গত বছর দুই বিঘা জমিতে আলু আবাদে ২০ হাজার টাকা খরচ হলেও এবার সারসহ কীটনাশক ও ছত্রাকনাশকের দাম বেশি হওয়ায় বিঘাপ্রতি অন্তত চার হাজার টাকা খরচ বেড়ে যাবে। তার ওপর এই শীতের কারণে আলুর ক্ষতি হলে কৃষকদের সর্বনাশ হবে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, টানা ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহ আলুর জন্য ক্ষতিকর। ঘন কুয়াশা থাকলে আলুক্ষেত ছত্রাকে আক্রান্ত হয়।

উত্তরের হিমেল হাওয়ায় শীতের দাপট বাড়ছে দেশের উত্তরের জেলা নওগাঁতে। কুয়াশা আর কনকনে শীতে এরই মধ্যে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে নিম্ন আয়ের মানুষ। ঠাণ্ডাজনিত রোগে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

তীব্র হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত বগুড়ার শেরপুরের জনপদ। তিন দিন ধরে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার কোথাও সূর্যের দেখা মিলছে না। এদিকে শীতের কারণে শহরের ফুটপাত, হকার্সসহ বিভিন্ন মার্কেটে শীতবস্ত্র বিক্রির হিড়িক পড়েছে।

এবার মাঘের শুরু থেকেই পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা বেড়েছে কয়েক গুণ। ঘন কুয়াশার পাশাপাশি ঠাণ্ডা বাতাসে এ জেলার জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। রাত বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে ঘন কুয়াশা আর হাড় হিম করা ঠাণ্ডা বাতাস। সরকারি ও বেসরকারিভাবে জেলায় ৩০ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও তা এখন অনেক দরিদ্র শীতার্ত মানুষের কাছে পৌঁছেনি।

গতকাল রাজশাহীতে বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রয়োজন ছাড়া সকালে অনেকেই ঘর ছেড়ে বের হচ্ছে না, কিন্তু খেটে খাওয়া মানুষ কাজের খোঁজে বের হয়ে তীব্র শীতে বিপাকে পড়ছে।

রাজশাহী নগরীর ছোট বনগ্রাম বস্তির বাসিন্দা ছালমা খাতুন বলেন, ‘শীতে আমরা খুব কষ্টে আছি বাপ। কিন্তু এখুনো কেউ কুনো কাপুড় লিয়ে অ্যালো না। ছিঁড়া কাপুড়-চুপুড় যা আছে ওই দিয়্যাই কুনমতে দিন পার করছি।’ নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার মতি মিয়া অভিযোগ করে আরো বলেন, ‘এত ঠাণ্ডা, তাও কেউ একটা গরম কাপড়ও দেয় না। সরকারি দলের লোকেরাই কম্বল নিয়ে যায় বাড়িতে। তারা বিছানায় ফেলে। আর আমরা কষ্ট করি ঠাণ্ডায়।’

এবারের শীতে নীলফামারীতে গতকাল ছিল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, ৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা শৈত্যপ্রবাহে কৃষি শ্রমিকসহ খেটে খাওয়া মানুষ কাজে বের হতে পারছে না।