আজ ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

094116Untitled 1

শৈত্যপ্রবাহ হানা দিয়েছে যমুনাপারের জেলেপল্লীতেও

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃচলমান শৈত্যপ্রবাহ হানা দিয়েছে বগুড়ার ধুনটের যমুনা নদীপারের জেলেপল্লীতেও। বেশ কিছু ধরে মাছ ধরতে পারছেন না তারা। ফলে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন এসব মৎস্যজীবী পরিবারের সদস্যরা।

উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা নদী। নদীটির ভয়াবহ ভাঙনে গত ৪৪ বছরে গৃহহীন হয়েছে হাজার হাজার পরিবার। বসতবাড়িসহ সর্বস্ব হারিয়ে তারা আজ নিঃস্ব। অনেকে মাতৃভূমির মায়া ত্যাগ করে এলাকা ছেড়ে শহর কিংবা অন্যত্র চলে গেছে। অনেক পরিবারের লোকজন নাড়ির টানে চর এলাকায় কিংবা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। এসব আশ্রিত অধিকাংশ পরিবারের সদস্যরা যমুনায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে।

শৈত্য প্রবাহের কারণে কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। ঝরছে কুয়াশা বৃষ্টি। কনকনে শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বের হচ্ছে না। টানা শৈত্যপ্রবাহে যমুনা নদীতে মাছ শিকারীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। সূর্যের আলোবিহীন দিন আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে রাত। বৈরি পরিবেশে যমুনা পাড়ের মাছ শিকারীদের কষ্টের যেন শেষ নেই।

জেলেরা সারা রাত নদীর বুকে নৌকা বয়ে তারা জাল দিয়ে বিভিন্ন জাতের মাছ ধরে। সকাল হওয়ার সঙ্গে ওই মাছ নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারি আড়তে নিয়ে যায়। মাছ বিক্রির টাকায় চলে তাদের সংসার। কিন্তু শৈত্যপ্রবাহের কারণে জেলেদের মুখে নেই হাসি। পরিবার পরিজন নিয়ে পড়েছেন মহা সংকটে। এদিকে নেই কোনো সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতাও। কোনো কারণে মাছ ধরতে না পারলে সেদিন উপোষ থাকতে হয় জেলে পরিবারকে। যমুনা তীরের মৎস্যজীবী প্রায় ৩০০ পরিবারে নিত্য দিনের এমন চিত্র।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলে নৌকাগুলো শহড়াবাড়ি ঘাটে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। কুয়াশার কারণে রাতের বেলায় নদীতে নৌকা চালানো যায় না। জেলেরা নদীর গতিপথ ও দিক নির্ণয় করতে পারছে না। ফলে নদী থেকে মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে না। যমুনা নদীর ঘাটে নৌকা রেখে তারা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।

বৈশাখী চরের মোকছেদ আলী, বানিয়াজানের কান্তি হাওয়ালদার, ভাণ্ডারবাড়ির নায়েব আলী জানান, অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে তারা কয়েক দিন ধরে নদী থেকে মাছ ধরতে পারছেন না। অলস সময় পার করছেন। ফলে মারাত্মক অভাবে পড়েছেন তারা। ঋণের টাকায় সংসার চালাতে হচ্ছে।

উপজেলার গোসাইবাড়ি বাজরের পাইকারি আড়তদার নিতাই চন্দ্র হাওয়ালদার জানান, শৈত্যপ্রবাহের কারণে জেলেদের পক্ষে নদী থেকে মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাজারে মাছের আমদানিও কমে গেছে।