আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

192250Sangshad sangsad 1

‘সরকারের সফলতা ম্লান ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে দুর্নীতির প্রশ্ন তুলছে বিএনপি’

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা সরকারি দলের সিনিয়র মন্ত্রী-এমপি-হুইপরা বলেছেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ বিএনপি তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে বর্তমান সরকারের এই সফলতা ম্লান ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে সুপরিকল্পিতভাবে দুর্নীতির প্রশ্ন তুলছে। এই আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য নির্বাচনের প্রতি জনগণ আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে বলে উল্লেখ করেন।

সোমবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, সরকারি দলের আবদুল মজিদ খান, কাজী কানিজ সুলতানা, নুরুজ্জামান বিশ্বাস, মোজাফফর হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, বিএনপির হারুনুর রশীদ এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রধান হুইপ মসিউর রহমান রাঙা ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন ও অগ্রগতি দেখে বিএনপি দিশেহারা হয়ে পড়েছে, জনগণ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে একে অপরকে তারা দোষারোপ করছে। তাদের একজন (তারেক রহমান) বিদেশে টাকা পাচার করে মুচলেকা দিয়ে দেশ ছেড়ে বিদেশে ফুর্তি করছে, নিজের আয়ের উৎস্য ক্যাসিনো উল্লেখ করেছে। ক্ষমতায় থাকতে তারা দেশকে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে। তাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না। গণতন্ত্রের নামে তারা দেশে কারফিউ গণতন্ত্র দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু দেশে মদ-জুয়া নিষিদ্ধ করেছিলেন। আর জিয়াউর রহমান মদ-জুয়া ও লাকি খানের ঝাঁকি নৃত্যর লাইসেন্স দিয়েছিল। তিনি আরো বলেন, ঘোরতম দুঃসময়েও দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়ে প্রধানমন্তী শেখ হাসিনা করোনা মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছেন, ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল বিনামূল্যে মানুষের মধ্যে বিতরণ করে অসহায় মানুষকে কষ্ট পেতে দেননি। ২১ দফা প্রণোদনা ঘোষণার মাধ্যমে অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা বাংলাদেশকে বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, দেশের উন্নয়ন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায় নিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে বিশ্ব এতো বড় অর্থনৈতিক মন্দা আর কখনও দেখেনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বের ২০তম অর্থনৈতিক দেশে পরিণত হবে। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও পুঁজি বাজারের সূচক বেড়েছে। তিনি আরো বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাবের আগে আমরা অর্থনীতির এক অনন্য উচ্চতায় উঠে এসেছিলাম। নিজস্ব অর্থায়নে আমরা পদ্মসেতু নির্মাণ করছি। পায়রা, মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দর, কর্ণফুলি টার্নেল নির্মাণ হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যথা সময়ে বই পাচ্ছে। যাদের ঘর নেই, তাদের ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। আমাদের জিডিপি ৩৩০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০৩৫ সালে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৮তম অর্থনীতির দেশ। আর ২০৪১ সালে হবে ২০তম অর্থনীতির দেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১২ বছরে দেশের অভাবনীয় উন্নয়ন করেছেন, যা রূপকথাকেও হার মানায়। তারপরও আমাদের উন্নয়নের পথে আরও এগিয়ে যেতে হবে।

সরকার দলীয় হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়াই সংসদীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন না বলেই অধিবেশনে আসতেন না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে উনি (এমপি হারুন) নানা কথা বলছেন। বাস্তবে তাদের (বিএনপি) সরকারের আমলের ব্যর্থতা ঢাকতে এবং বর্তমান সরকারের ব্যাপক সফলতা ও উন্নয়নকে ম্লান ও প্রশ্নবিদ্ধ করতেই তারা দুর্নীতির প্রশ্ন তুলছেন। দুর্নীতিতে যারা পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ছিলেন, তাদের মুখে দুর্নীতির অভিযোগ শুনলে হাসি পায়। নির্বাচনে তারা কী করেছে? বিএনপি নির্বাচনে প্রত্যেকটি আসনে একাধিক তৃণমুল নেতার কাছ থেকে টাকা নিয়ে লন্ডনে পাচার করে তাদের প্রার্থীকে আগেই পঙ্গু করে দিয়েছে। এক আসনে বিএনপির তিন থেকে চার প্রার্থী, সবার কাছ থেকে কালেকশনের টাকা কোথায় গেছে, সেকথা সবাই জানে। বিএনপিকে যদি শক্তিশালী করতে চান, তবে যে টাকা লন্ডনে পাচার করেছেন তৃণমুলের নেতাদের পকেট থেকে, ওই টাকা ফেরত দেন। আপনারা নির্বাচনের আগেই মাঠ ছেড়ে দেন, আগেই আপনার প্রার্থীকে কমিশন বাণিজ্যের নামে সর্বশান্ত করে দেন।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙা বিএনপি এমপির বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ী হয়েই আমরা বিরোধী দলের আসনে বসেছি। আজ তারা (বিএনপি) জাতীয় পার্টি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদকে গালি দেন। কিন্তু তাঁর কাছ থেকে খালেদা জিয়া রাজধানীতে দুটি বিশাল বাড়ি নিয়েছিলেন তখন আনন্দে নেচেছেন, তখন আমরা খুব ভালছিলাম। নির্বাচন ঠেকানোর নামে আপনাদের অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা দেশবাসী দেখেছে। বিএনপি সরকারের সময় সত্যে কথা বলায় প্রতিহিংসা থেকে আমিও রেহাই পাইনি। আমার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছিল এবং আমার বাড়ি পর্যন্ত দখল করা হয়েছিল। সেই মামলা এখনো রয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, আদালতে বোমা মেরে বিচারক হত্যা, সারাদেশে একযোগে বোমা হামলা কী বিএনপির গণতন্ত্রের নমুনা?
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, যারা স্বাধীনতায় চায়নি, বিশ্বাস করে না তারাই জাতির পিতাকে হত্যা করেছে। বিশ্বে বঙ্গবন্ধুই একমাত্র নেতা যিনি স্বাধীনতার মাত্র ৩ মাসের মাথায় মিত্রবাহিনীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন, বিশ্বের কোন দেশ এমন নজীর দেখাতে পারেনি। অনেকে মনে করেছিল, করোনার সময় বাংলাদেশ মুখ থুবড়ে পড়বে। দক্ষভাবে করোনা মোকাবেলা করে দেশের অর্থনীতিসহ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অভাবনীয় সফলতা দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে সরকারের সব অর্জন ম্লান হয়ে যাবে। আর নির্বাচনে ভোটারদের ভোট প্রয়োগে অনিহা গণতন্ত্রের জন্য মোটেও সুখকর নয়। এসব বিষয়গুলো ভাল করে দেখতে হবে।

ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, মুজিববর্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে আঘাত হানা হয়েছে। যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে ঔদ্ব্যর্তপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছিল, তাদের উস্কানীমূলক বক্তব্যে এখনও বন্ধ হয়নি। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এই করোনাকালে দারিদ্র্যতা যেমন বেড়েছে, তেমনি ধনিকের সংখ্যাও বেড়েছে। দুদকের আইন দূর্বল বলেই অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ হচ্ছে না। কঠোরহস্তে এসব দুর্নীতি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।