আজ ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৮ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

সিঙ্গাইরে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা
সিঙ্গাইরে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা

সিঙ্গাইরে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃরাত পোহালেই দ্বিতীয় ধাপে (১১ নভেম্বর) সকাল ৮টায় মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এবার ইউপি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। উপজেলার বায়রা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দেওয়ান জিন্নাহ লাটু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয় বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় সেখানে শুধু সদস্য পদে ভোট হবে। বাকি ১০টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত ১০ জনসহ ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১০২ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ২৯৭ জন নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

 

উপজেলার মোট ভোটার ২ লাখ ১৯ হাজার ৩২২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯ হাজার ৩৮৬ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯ হাজার ৩৬ জন। ১১ ইউনিয়নে মোট ১১২টি ভোট কেন্দ্রের ৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

 

নির্বাচন কমিশন ও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিরা ভোট অবাধ নিরপক্ষ ও সুষ্ঠু হওয়ার আশ্বাস দিলেও প্রশাসনের ভূমিকায় হতাশ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীর হুমকি ধামকি, হামলা-মামলা ও পুলিশি হয়রানিতে দিশেহারা স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। ভোটের আগের রাতে আটক করা হয়েছে অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও সমর্থকদের হুমকি ধামকি হামলা-মামলায় আতঙ্কিত ভোটাররা। এমতাবস্থায় ভোট আদৌ সুষ্ঠু হবে কি না, জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন কি না, এ নিয়ে উপজেলাবাসীর মাঝে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

 

উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন শামীম অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন শুরুর প্রথম থেকেই ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ভূইয়া ও তার লোকজন আমাকে ভোটের মাঠে নামতে দেয়নি। ছিড়ে ফেলা হয়েছে আমার আনারস প্রতীকের সব পোস্টার। ভাঙচুর করা হয় মাইক ও নির্বাচনী অফিস। পিটিয়ে আহত করা হয় নারীসহ ১২ জন কর্মীকে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে কর্মীদের হুমকি ধামকি দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে নিজেরাই রাতের আঁধারে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করে আমাকেসহ ৪২ জন কর্মীর নামে দুটি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। ভোটের রাতে চলছে পুলিশের আটক অভিযান। ইতিমধ্যে অনেক কর্মী-সমর্থকদের আটক করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও পুলিশ মিলে পুরো ইউনিয়নে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র দখল করে নৌকা প্রতীকে প্রকাশ্যে ছিল মারার সব আয়োজন সম্পন্ন। এ নিয়ে আতঙ্কিত ভোটাররা। সুষ্ঠু ভোট হলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে জানান তিনি।

 

সদর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহিনুর রহমান সৌরভ বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হুমকি ধামকি ও পুলিশি হয়রানি চরম আকার ধারণ করেছে। গ্রেপ্তার ও হামলা-মামলার ভয়ে এলাকা ছাড়া আমার কর্মীরা। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। এখানে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নাই। আমার নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

এমন অভিযোগ সদর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল হক ভূইয়া, চারিগ্রাম ইউনিনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজেদুল আলম স্বাধীন, জামশা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান মিঠু, তারিকুল ইসলাম, জামির্তা ইউনিয়নের আবুল হোসেন, জয়মন্টপ ইউনিয়নের বোরহান উদ্দিন ফকির, সায়েস্তা ইউনিয়নের আব্দুল হালিম, আবু বকর সিদ্দিক, চান্দহর ইউনিয়নের রবিউল আলম রবি ও আফজাল হোসেনসহ অধিকাংশ অনেক প্রার্থীর। তারা বলেন, নৌকার প্রার্থীরা নির্বিঘ্নে প্রচার-প্রচারণা করতে পারলেও আমরা হামলা-মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারিনি। গ্রেপ্তার করা হয়েছে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের। নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না।

 

সহকারি পুলিশ সুপার (সিঙ্গাইর সার্কেল) মো. রেজাউল হক বলেন, ভোট শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। এই উপজেলায় বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া নির্বাচন কেন্দ্রিক বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে তৎপর প্রশাসন। কোনো প্রার্থী যেন ভোটকেন্দ্র দখল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোনো পক্ষ ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার ও গোলযোগ করতে চাইলে তা কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে। কেউ বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ভোট শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। পুলিশের পাশাপাশি বিজিপি ও র‌্যাব সদস্যরা নির্বাচনী এলাকায় টহল দিবে। অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের স্বার্থে কঠোরহস্তে আইন প্রয়োগ করা হবে।