আজ ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সুষ্ঠু ভোট হলে আওয়ামী লীগ ৩০ আসনও পাবে না : ফখরুল
সুষ্ঠু ভোট হলে আওয়ামী লীগ ৩০ আসনও পাবে না : ফখরুল

সুষ্ঠু ভোট হলে আওয়ামী লীগ ৩০ আসনও পাবে না : ফখরুল

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের কোনো জনসমর্থন নেই। রাজনৈতিকভাবে তারা দেউলিয়া হয়ে গেছে। তারা জানে দেশে যদি একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাতে তারা ৩০টি আসনও পাবে না। এ কারণে তারা সব রাষ্ট্রযন্ত্রকে দলীয়করণ করছে। বিচার বিভাগ, প্রশাসন এমনকি গণমাধ্যমকেও নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে।

 

আজ শনিবার রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘২০০১ সালের ১ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সর্বশেষ নিরপেক্ষ নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।

 

ফখরুল বলেন, আমাদের কথা পরিষ্কার, নির্বাচন-নির্বাচন খেলা আর হবে না। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচন হতে হবে। আপনাদের দিন ঘনিয়ে এসেছে, দিন শেষ। এখন সময় আছে মানুষের ভাষা পড়েন, দেয়ালের লিখনগুলো দেখেন। তত্বাবধায়ক সরকারের বিধান করে সরে যান। জনগণকে তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে দিন।

 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বলে বিএনপি নাকি হরতাল ও জ্বালা-পোড়া পার্টি। আরে হরতাল, জ্বালা-পোড়ায় আওয়ামী লীগের যে রেকর্ড তা কেউ কোনো দিন অতিক্রম করতে পারবে না। ১৭৩ দিন হরতাল দিয়েছে। মানুষ পুড়ে মেরেছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় এসেছে এবং সন্ত্রাসের মাধ্যমে ক্ষমতাকে দখল করে আছে।

 

আলোচনা সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্লোগান দিয়ে আন্দোলন হবে না। আন্দোলনের জন্য তৈরি হতে হবে, প্রস্তুত হতে হবে। এখানে যারা তরুণ আছে, তাদের অনেকের আন্দোলন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেই। এখানে খায়রুল কবির খোকন, আমান উল্লাহ আমনরা যারা আছেন তারা জানেন কীভাবে আন্দোলন করতে হয়। সেটাকে মাথায় রেখে আমাদের সবগুলো সংগঠনকে সেভাবে তৈরি করতে হবে।

 

তিনি আরো বলেন, শেষ কথা আমরা কোনো নির্বাচন মনে নেব না যদি নিরপেক্ষকালীন সময়ে নিরপেক্ষ সরকার না থাকে। তাই আসুন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই এবং এই দানবকে সরিয়ে দেই। শত্রু মুক্ত বাংলাদেশ ও গণতন্ত্র সৃষ্টি করি।

 

পেছনের পথ দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে বলে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, মঈন-ফখরুদ্দিনের সঙ্গে সন্ধি করে ক্ষমতায় এসেছেন। এ কথা দেশের মানুষ জানে। এখনও শুধু গণতন্ত্রের জন্য অসুস্থ শরীর নিয়ে খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দি হয়ে আছেন। তারেক রহমান মিথ্যা মামলায় আট হাজার মাইল দূরে নির্বাসিত অবস্থায় আছেন।

 

বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের যারা শত্রু, এ দেশে যারা গণতন্ত্র চায় না। ২০০১ সালের নির্বাচিত সরকারকে কীভাবে ক্ষমতা থেকে নামানো যায়, সব অপচেষ্টা শত্রুরা করেছে।

 

সভার শুরুতে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান বক্তব্য দেন। তার বক্তব্য শেষে সেখানে থাকা নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে শুরু করলে মঞ্চের চেয়ার থেকে উঠে আসেন বিএনপি মহাসচিব। ডায়াসে মাইক নিয়ে ক্ষুব্ধকণ্ঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি নেতাকর্মীদের ধমক দেন।

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম, আমানউল্লাহ আমান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সাংবাদিক মাহবুব উল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক দিলারা জামান প্রমুখ বক্তৃতা করেন।