আজ ২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পুলিশ
চিকিৎসককে হেনস্তা করা সেই পুলিশ সদস্যদের শাস্তি দাবি স্বাচিপের

সেই পুলিশ সদস্যদের শাস্তি দাবি স্বাচিপের

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ১৪ এপ্রিল থেকে চলছে কঠোর লকডাউন। এই লকডাউন চলাকালে গত রবিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগনালে এক চিকিৎসকের সঙ্গে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের বাগবিতণ্ডা হয়। যা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) রেডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনিকে হেনস্তার প্রতিবাদ জানিয়েছে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ, বিএসএমএমইউ শাখা)।সোমবার (১৯ এপ্রিল) স্বাচিপ বিএসএমএমইউ শাখার আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. আবু নাসার রিজভী ও সদস্য-সচিব ডা. আরিফুল ইসলাম জোয়ারদার টিটোর সই করা এক প্রতিবাদলিপিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

 

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, ডা. জেনিকে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া পাপিয়ার সঙ্গে তুলনা করা পুলিশ সদস্যের শাস্তি দাবি করেছে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ।প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, গত রোববার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য এবং স্বাচিপ, বিএসএমএমইউ শাখার সদস্য ডা. সাঈদা শওকত জেনি কর্মক্ষেত্র থেকে ফেরার পথে এলিফ্যান্ট রোডে একদল পুলিশ সদস্য কর্তৃক সম্পূর্ণ অযাচিতভাবে হেনস্তার শিকার হওয়ার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।

 

যার খণ্ডিত ভিডিও উদ্দেশ্যমূলকভাবে ডাক্তার সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন প্রচেষ্টা থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করা হয়েছে বলে স্বাচিপ বিএসএমএমইউ শাখা মনে করে। আমরা পুলিশ ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের এ রকম গর্হিত কাজের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই।প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে মহামারি করোনাভাইরাসের এ সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ডাক্তাররা যখন সম্মুখসারিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোভিড মোকাবিলায় লড়ে যাচ্ছে, তখন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাসায় ফেরার পথে পুলিশ ডা. জেনির গাড়ি থামিয়ে তার কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চায়।

 

এসময়ে নিজের পরিচয় এ গাড়িতে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের লোগো সম্বলিত স্টিকার, পরিচালক কর্তৃক ইস্যু করা পাস ও বিএসএমএমইউর লোগোসহ ডাক্তারের নামাঙ্কিত এপ্রোন দেখলেও এসব কিছুকে ভুয়া বলে পুলিশ ডা. জেনিকে ইচ্ছা করেই চরম হেনস্তা করে। এসময়ে ডাক্তারদের মুভমেন্ট পাস লাগবে না বলে ইতোমধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হলেও পুলিশ ডা. জেনির কাছে অন্যায়ভাবে মুভমেন্ট পাস চায়।

 

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, আমরা আরও বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলাম, তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে পুলিশ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া পাপিয়ার সঙ্গেও ডা. জেনির তুলনা করেছে, যা একজন নারী চিকিৎসকের জন্য চরম অবমাননাকর। আমার মনে করি, এর মাধ্যমে পুলিশ শুধুমাত্র ডা. জেনিকে নয়, বরং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও চিকিৎসক সমাজকে এবং সর্বোপরি, একজন সম্মানিত নারীকেও হেয় করেছে।পাশাপাশি বিষয়টি সংবেদনশীল বিবেচনায় যথাযোগ্য গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগে দায়ের করার জন্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।