আজ ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

আতঙ্ক

হঠাৎ আতঙ্ক তিন খাতের শেয়ারে!

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  ২০১০ সালের মহাধসের পর পুঁজিবাজারে গত রবিবার লেনদেনের রেকর্ড হয়েছে। রেকর্ড লেনদেনের দিনেও গত রবিবার প্রধান তিন খাতের বিনিয়োগকারীরা হঠাৎ আতঙ্কের মধ্যে পড়েছে। আতঙ্কের কারণে খাত তিনটির অনেক শেয়ার লেনদেনের এক পর্যায়ে ক্রেতাশুন্য হয়ে পড়ে। খাতগুলো হলো-ব্যাংক, বীমা, আর্থিক খাত।

 

আজ ডিএসইর লেনদেন সর্বকালের সর্বোচ্চ উচ্চতা ছুঁই ছুঁই করছে। এর আগে ২০১০ সালে মহাধসের আগে ৫ জানুয়ারি লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। আজ লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা, যা প্রায় সাড়ে ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তারপরও প্রধান তিন খাতের শেয়ার দরে ছিল বড় বিপর্যয়। লেনদেনের শেষ দিকে খাত তিনটির অনেক শেয়ার ক্রেতাশুন্য হয়ে পড়ে।

 

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাতগুলোতে আজ বড় অঙ্কের বিক্রয় চাপ ছিল। যে কারণে লেনদেনের রেকর্ড দিনেও এমনটা বিপর্যয় হয়েছে।তারা বলছেন, বিনিয়োগকারীরা বলছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক খাতে কোন দৃশ্যমান প্রণোদনা ছিল না। এই কারণে এই তিন খাতের বিনিয়োগকারীরা নাখোস ছিল। এর প্রভাব পড়েছে খাত তিনটির শেয়ারে। উপর্যপুরি সেল প্রেসারে খাত তিনটির শেয়ার দরে বড় পতন নেমে আসে।

 

আজ সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হয়েছে ব্যাংক খাতের শেয়ারে। এখাতের কয়েকটি মৌলভিত্তির শেয়ার লেনদেনের এক পর্যায়ে ক্রেতাশুন্য হয়ে পড়ে। খাতটিতে লেনদেন হওয়া ২৮টি কোম্পানির মধ্যে আজ পতন হয়েছে ২৭টির বা ৯৬.৪৩ শতাংশ কোম্পানির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ১টির বা ৩.৫৭ শতাংশ কোম্পানির। এখাতে আজ কোন ব্যাংকের দর বাড়েনি।

 

আজ ডিএসইতে দর পতনের শীর্ষ ২০ কোম্পানির মধ্যে ব্যাংক খাতের কোম্পানিই ছিল ৭টি। ব্যাংকগুলো হলো-এনসিসি ব্যাংক, ডাচবাংলা ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, এবি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংক। দর কমেছে এনসিসি ব্যাংকের ১৬.১১ শতাংশ। আজ ব্যাংকটির ডিভিডেন্ড অ্যাডজাস্টের কারণে ১০ শতাংশের বেশি পতন হয়েছে।

 

এরপর দর কমেছে সাউথইস্ট ব্যাংকের ৯.৫৮ শতাংশ ও ডাচাবাংলা ব্যাংকের ৮.৩১ শতাংশ। এই দুটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেনের শেষভাগে ক্রেতাশুন্য ছিল। যদিও ক্লোজিং দর হয়েছে ক্রেতাশুন্য দরের উপরে। এখাতের প্রাইম ব্যাংকের শেয়ারও এক পর্যায়ে ক্রেতাশুন্য হয়ে যায়। তবে শেষদিকে বাই প্রেসার ছিল কোম্পানিটির শেয়ারে।

 

আজ সাধারণ বীমা খাতে লেনদেন হওয়া ৩৮টি কোম্পানির মধ্যে দর কমেছে ৩৪টির বা ৮৯.৪৭ শতাংশ কোম্পানির। দর বেড়েছে ৩টির বা ৭.৮৯ শতাংশ কোম্পানির। দর অপরিবর্তিত ছিল ১টির বা ২.৬৩ শতাংশ কোম্পানির।

 

বীমা খাতে আজ রিলায়েন্স ইন্সুরেন্স, ফিনিক্স ইন্সুরেন্স, এশিয়া ইন্সুরেন্স, নর্দার্ন ইন্সুরেন্স, ইউনাইটেড ইন্সুরেন্স ও গ্রীণডেল্টা ইন্সুরেন্সের বড় পতন হয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রায় সবগুলোর দর লেনদেনের শেষ ভাগে প্রায় ক্রেতাশুন্য থাকে। সকালের দিকে খাতটির শেয়ার দরে চাঙ্গাভাব থাকলেও শেষ ভাগে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অজানা আতঙ্ক ভর করে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সেল করার ধুম পড়ে যায়। কার আগে কে সেল করবে-সেই প্রতিযোগিতা দেখা যায়।

 

আর্থিক খাতে লেনদেন হওয়া ২২টি কোম্পানির মধ্যে দর কমেছে ১৮টির বা ৮৯১.৮২ শতাংশ কোম্পানির। দর বেড়েছে ৩টির বা ১৩.৬৪ শতাংশ কোম্পানির। দর অপরিবর্তিত ছিল ১টির বা ৪.৫৪ শতাংশ কোম্পানির। এখাতে আজ সবচেয়ে বেশি দর পতনের কবলে পড়ে ইসলামিক ফাইন্যান্স ও ন্যাশনাল হাউজিংয়ের শেয়ার। কোম্পানি দুটি আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতম মৌলভিত্তির কোম্পানি। পিই রেশিওর দিক থেকেও কোম্পানি দুটির শেয়ার সবচেয়ে বিনিয়োগ উপযোগি। তারপরও আজ এই দুই কোম্পানির শেয়ারের উপর পতনের চাপ ছিল বেশি।