আজ ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

113111ping.JPG

হিটলারের ‘ন্যাশনাল সোশ্যালিজম’ দ্বারা অনুপ্রাণিত জিনপিংয়ের ‘কমিউনিজম’

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:নিজেদের দেশের নাগরিকদের স্বাধীনতা খর্ব এবং মতবিরোধ বাড়িয়ে তুলছে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি)। এমনকি চীনের নাগরিকদের কথা বলার স্বাধীনতা এবং প্রতিবাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো এসব ব্যাপারে সে দেশের নাগরিকদের অন্ধকারে রেখেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম জিনিউজ মনিশ শুক্লার একটি লেখা প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, সিসিপি’র সঙ্গে সামান্য মতবিরোধের জেরেও কঠোর শাস্তি পেতে হয় চীনের নাগরিকদের। সম্প্রতি নাগরিক সাংবাদিক ঝ্যাং ঝান’কে এ ধরনের অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

কয়েক বছর আগেও চীনের বৃদ্ধিজীবীরা সামান্য হলেও সরকারের সমালোচনা করতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি কোনো বিরুদ্ধমত সহ্য করছে না। একাডেমিক থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকদের পক্ষ থেকে উদ্ভূত যে কোনো বিরুদ্ধমত কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে।

চীনের গণতন্ত্রবিরোধী অবস্থান শেকড় গেড়ে বসেছে হংকং, জিনজিয়াং, ইনার মঙ্গোলিয়া, তিব্বত ও ম্যাকাওতে। গত বছর হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের ওপর চীনের কমিউনিস্ট পার্টির থাবা পড়েছে।

হংকংয়ের সাধারণ নাগরিকদের চরম বিরোধিতা উপেক্ষা করে দমনমূলক জাতীয় নিরাপত্তা আইন পাস করে বেইজিং। হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ থেকে শুরু করে সব ধরনের মতবিরোধ দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে সেই কালো আইন।

নিজেদের আচরণের জন্য ব্যাপক সমালোচনার শিকার চীন। তবে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি নিজেদের হয়ে সাফাই গাওয়ার বুদ্ধিজীবীদের কাজে লাগাচ্ছে। এরা আবার চীনের কার্যক্রম সঠিক প্রমাণের জন্য নানা ধরনের সংজ্ঞা দিচ্ছেন।

হংকংয়ের ওপর চীনের কঠোর দমন নীতির সমর্থনে চীনের বুদ্ধিজীবীরা জার্মানির আইনবিদ কার্ল স্মিটের লেখা ব্যবহার করছেন। জানা গেছে, কার্ল স্মিট অ্যাডলফ হিটলারের ‘ক্রাউন জুরিস্ট’ হিসেবে পরিচিত।

দ্য আটলান্টিক এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে ‘নাজি’র অনুপ্রেরণায় চীনের কমিউনিস্ট পার্টি’। এই নাজি পার্টি ছিল অ্যাডলফ হিটলারের দল। জার্মানিতে নাজি পার্টির কার্যক্রম যায়েজ করার জন্য বিভিন্ন বিষয়ে লিখতেন কার্ল স্মিট। হিটলারের হাতে বিচার বহির্ভূতভাবে ইহুদি ও রাজনৈতিক বিরোধীদের খুন হওয়ার বিষয়টি যায়েজ করার চেষ্টা করতেন স্মিট।