আজ ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

022703Alig kalerkantho pic 1

১৫ ফেব্রুয়ারি মাঠে নামার কর্মসূচি

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশজুড়ে সভা-সমাবেশ, প্রতিনিধিসভা ও গণসংযোগ কর্মসূচি নিয়ে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠে নামছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ঘোষিত কর্মসূচির বাইরে প্রয়োজনে বড় সমাবেশ করার প্রস্তুতিও রাখা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই মিলেছে।

এদিকে ভোট কারচুপির প্রতিবাদ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির বিভাগীয় শহরে ছয়টি সমাবেশ কর্মসূচিতে করোনা স্বাস্থ্যবিধির পাশাপাশি ‘রাজনীতির স্বাস্থ্যবিধি’ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। সমাবেশের নামে কোনো সহিংসতার চেষ্টা যেন সফল না হয় সে জন্য প্রস্তুতি রাখছে ক্ষমতাসীনরা।

আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা জানান, বিএনপি আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগরে সমাবেশের মধ্য দিয়ে তাদের কর্মসূচি শুরু করছে। আওয়ামী লীগ আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে কর্মসূচি শুরু করবে। বিএনপির কর্মসূচির ধরন বুঝে প্রয়োজনে আওয়ামী লীগ তাদের কর্মসূচি সংযোজন-বিয়োজন করবে। আর বিএনপির কর্মসূচি ঘিরে কোনো সহিংসতার চেষ্টা চললে তা কঠোরভাবে মোকাবেলা করতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত শনিবার তাঁর সরকারি বাসভবনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বিএনপি অহেতুক রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। তাদের কর্মসূচি মানেই সন্ত্রাস ও সহিংসতা ছড়ানো। জনমানুষের সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন আবার সহিংস হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। কিন্তু জনগণ সচেতন রয়েছে। কর্মসূচিতে সহিংসতার উপাদান যুক্ত হলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে।’

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘বিএনপি নেতারা করোনা শুরুর পর থেকে কাচঘরে বসে ছিলেন। এখন মাঠে নামতে চাইছেন ভালো কথা। কিন্তু তাঁদের সমাবেশগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে করা উচিত। একই সঙ্গে তাঁদের রাজনীতির স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলা উচিত। গঠনমূলক সমালোচনা করলে সমস্যা নেই। কিন্তু ষড়যন্ত্র, সহিংসতার চেষ্টা করলে তা জনগণ রুখে দেবে।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, ‘সভা-সমাবেশ করা সবার গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু সমাবেশের নামে গানপাউডার দিয়ে গাড়ি পোড়ানো তো কোনো গণতান্ত্রিক অধিকার নয়। সমাবেশের আড়ালে এসব করার চেষ্টা করলে তা নিশ্চয়ই প্রশাসন নজরদারির মধ্যে রাখবে।’ তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা সজাগ আছি। প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানায় আমরা কর্মসূচি দিয়েছি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রতিটি সাংগঠনিক শাখাকে আমরা কর্মসূচি গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছি। এ ছাড়া বড় আকারের সমাবেশের জন্যও প্রস্তুতি রাখছি। দল যদি সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে আমরা যেকোনো সময় বড় সমাবেশও করতে পারব।’

বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, ‘পৌর নির্বাচন নিয়ে আমরা এখন মাঠে সক্রিয় আছি। করোনার কারণে তৃণমূলের যেসব শাখার সম্মেলনের কাজ থেমে ছিল সেগুলোও এখন ধীরে ধীরে শুরু হবে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করে আমরা শিগগিরই বরিশাল বিভাগের শাখাগুলোর জন্য কর্মসূচি ঠিক করব।’

খোঁজ নিয়ে জান যায়, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিসভা অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপির একতরফা নির্বাচনের বর্ষপূর্তির দিনে এ প্রতিনিধিসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রহমান বলেন, ‘প্রতিনিধিসভা থেকে আমরা খালেদা জিয়ার একতরফা নির্বাচনের কথা জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেব। এ ছাড়া আমাদের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে মহানগরের ওয়ার্ডের নেতাদের নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে বার্তা দেওয়া হবে। মার্চ থেকে আমরা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন শুরু করব।’

আগামী ১ মার্চ রাজশাহীতে সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর দুই-তিন দিন আগেই রাজশাহী সমাবেশ বা এ ধরনের কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন রাজশাহী মহানগর ও জেলার নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে একটি কর্মসূচি পালনের আলোচনা করছি। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি কর্মসূচি পালনের সম্ভাবনা বেশি।’

জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগে জয়পুরহাটে ১১ ফেব্রুয়ারি, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ১৩ ফেব্রুয়ারি ও তাড়াশে ১৪ ফেব্রুয়ারি, পাবনার চাটমোহরে ২৩ ফেব্রুয়ারি, আটঘড়িয়ায় ২৪ ফেব্রুয়ারি ও ফরিদপুরে ২৫ ফেব্রুয়ারি, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিনিধিসভা, সম্মেলনসহ নানা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি খুলনায় সমাবেশ করবে বিএনপি। মহানগরটিতে এখনো কর্মসূচি চূড়ান্ত করেনি আওয়ামী লীগ। খুলনা মহানগরের নেতারা জানিয়েছেন, শিগগিরই কর্মসূচি চূড়ান্ত হবে। খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা বলেন, ‘কর্মসূচি গ্রহণে আমাদের পরিকল্পনা চলছে। আলোচনার মাধ্যমে শিগগিরই কর্মসূচি চূড়ান্ত হবে।’

আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি বরিশালে বিএনপির সমাবেশ হবে। এর আগেই সেখানে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কর্মসূচি পালন করা হবে। বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দু-এক দিনের মধ্যেই বরিশাল আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।