আজ ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

1 1

২৪ অ্যাকাউন্টে ৯৩০ কোটি টাকা গোল্ডেন মনিরের

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ২৪টি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে গত কয়েক বছরে ৯৩০ কোটি ২২ লাখ টাকা লেনদেন করেছেন মনির হোসেন ওরফে ‘গোল্ডেন মনির’। এর মধ্যে ৪১২ কোটি ২ লাখ টাকা জমা রয়েছে এবং ৫১৮ কোটি ২০ লাখ টাকা বিভিন্ন সময় উত্তোলন করেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ১১০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন গোল্ডেন মনির। যদিও গত অর্থ বছরে (২০১৯-২০) আয়কর রির্টানে তার সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন মাত্র ২৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

এছাড়াও গত অর্থ বছরে গোল্ডেন মনিরের বাৎসরিক আয় ১ কোটি ৪ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রটি জানায়, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর‌্যন্ত সময়কালে গোল্ডেন মনির বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের এবং তৎকালীন প্রভাবশালী মন্ত্রী, গণপূর্ত ও রাজউকের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তাদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

আর তাদের ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তোলেন। জাল-জালয়াতির মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ২০২টি প্লট ও জমি দখল করে নেয় গোল্ডেন মনির। এছাড়াও হুন্ডির মাধ্যমে দেশের বাইরেও বিপুল পরিমাণে অর্থ পাচার করেছে গোল্ডেন মনির।

র‌্যারের তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মনির হোসেন একদিনে গোল্ডেন মনির হয়ে ওঠেননি। সে মূলত একজন সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদ ছিলেন। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা, রাজউক ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তাদের ব্যবহার করে প্রচুর সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। মনিরের এই উত্থানের পেছনে যারা জড়িত ও সহায়তা করেছেন তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে চেষ্টা চলছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, গোল্ডেন মনির দেশের বাইরে কি পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন বা কি পরিমাণ সম্পদ তার রয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) অনুরোধ করবো। তিনি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে কসমেটিকস পণ্য ও চোরাচালানির মাধ্যমে কি পরিমাণ স্বর্ণ দেশে এনেছিলেন, সে বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুসন্ধান করতে অনুরোধ করবো।

এদিকে, মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের ২০০ প্লটের মালিক হওয়ার বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান মো. সাঈদ নূর আলম।

গোল্ডেন মনিরের বাসা থেকে ২০০ প্লটের নথি জব্দ এবং বাড্ডার বাসা থেকে কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, এগুলো আমরা তদন্ত করবো। তদন্তে যারা যারা শনাক্ত হবে তাদের সবার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আদালতে যে মামলা আছে তা চলবেই।

আমরা ধারণা এটা একদিনের প্রক্রিয়া নয়, এটা দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়া। আমরা এতো দিনে উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। গতবছর প্রথম উদঘাটন হয় এবং তখন থেকে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। সর্বশেষ বিষয়টি উদঘাটিত না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যবস্থা চলমান থাকবে।

এদিকে, গতকাল রবিবার মনিরের বিরুদ্ধে পৃথক তিন মামলায় মোট ১৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের পৃথক দুই মামলায় ৭ দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আবু বক্কর সিদ্দিক এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক মাসুদ উর রহমান।