আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

image 192822

৮ বছর ধুঁকে মারা গেলেন তাজরীনে শ্রমিক শারমিন

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:সাভারের আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আহত এক শ্রমিক আট বছর ধুঁকে মারা গেছেন। নিহতের নাম শারমিন আক্তার।

 

স্বজনের দাবি, চিকিৎসার অভাবেই তার মৃত্যু হয়েছে।তিনি ওই দুর্ঘটনায় ফুসফুসজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।বুধবার আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ইয়ারপুর টানপাড়া তাওয়া জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় নিজ বাসভবনে মারা যান শারমিন।

 

নিহত শারমিন একই এলাকার দিনমজুর করিম ওরফে কালুর স্ত্রী। তিনি তাজরীন ফ্যাশনের চার তলায় অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।ওই নারীর স্বজন ও শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, আট বছর আগে ওই দুর্ঘটনার পর থেকেই অসুস্থ ছিলেন শারমিন। চিকিৎসা না পেয়েই তার মৃত্যু হয়েছে।

 

নিহতের সহকর্মী নাসিমা আক্তার জানান, শারমিন তাদের লাইনেই কাজ করতেন। সেদিন আগুনের ঘটনা ঘটলে সন্তানসম্ভবা শারমিন জীবন বাঁচানোর তাগিদে ছোটাছুটি শুরু করেন। তিনি তড়িঘড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় সিঁড়িতেই পড়ে যান।

 

এসময় অন্যান্য শ্রমিকের পায়ের নিচে পড়ে যান। শ্রমিকদের পদদলিত হয়ে গুরুতর আহত হন।পরে নিজ খরচে চিকিৎসা করেন তিনি। অবস্থার অবনতি হলে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিলে অর্থ অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেননি।

 

দীর্ঘদিন পরে বিলস্ এর সহযোগিতায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কিছুদিন চিকিৎসা হয়। পরে আনরেজিস্টার্ড এর অজুহাত দেখিয়ে তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। তখন থেকেই চিকিৎসা সেবা বন্ধ ছিল।

 

শারমিনের পরিবারের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস টেইলার্স ওয়ার্কার্স লীগের সাভার-আশুলিয়া শাখার সভাপতি রাকিবুল ইসলাম সোহাগ বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকেই শারমিন অসুস্থ ছিল। তিনি কোনো চিকিৎসা পাননি।

 

সাহায্য-সহযোগিতাও পাননি। পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তাজরীনের আহত শ্রমিকদের চলমান অনশনে অংশ নিয়েছিলেন শারমিন।

 

পরে অসুস্থ হয়ে গেলে সহকর্মীরা তাকে আশুলিয়ায় বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।এরপর স্থানীয়দের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে তার চিকিৎসা চলছিল।তবে ভালো চিকিৎসা না পাওয়ায় বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়।