আজ ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

অযোধ্যায় মসজিদ নির্মাণে উৎসাহ দিচ্ছে হিন্দুরাও, খুশি ওয়াকফ বোর্ড

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ  ভারতের অযোধ্যায় মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে এবার হিন্দু ও মুসলিমদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গড়ার বিষয়ে নতুন নজির হতে যাচ্ছে। অযোধ্যায় মসজিদ নির্মাণের জন্য মুসলমানদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ভারত ও ভারতের বাইরের বহু হিন্দু।এদিকে দীর্ঘ বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অযোধ্যা মামলায় গত বছরের নভেম্বরে রামমন্দির নির্মাণের পক্ষে রায় দেয় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি মসজিদ নির্মাণের জন্য উত্তরপ্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডকে অযোধ্যা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে ধন্যিপুর গ্রামে দেওয়া হয় পাঁচ একর জমি।সেখানে মসজিদ, হাসপাতাল, গ্রন্থাগারের পাশাপাশি নানা পরিষেবা তৈরির পরিকল্পনা করেছে ওয়াকফ বোর্ড। শিগগিরই ধন্যিপুর গ্রামে প্রস্তাবিদ মসজিদ প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত জমি পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে ওয়াকফ বোর্ডের সদস্যদের।এর আগে অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের জন্য চাঁদা তুলেছে মুসলমানরা। পূর্ব অবস্থান থেকে সরে এসে গত ২ আগস্ট রামমন্দিরের ভূমিপূজা ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে মুসলিম সম্প্রদায়ের তিন বিশিষ্ট প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানায় রাম জন্মভূমি ট্রাস্ট।মসজিদ নির্মাণের জন্য গঠিত ট্রাস্ট ‘ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন’-এর মুখপাত্র আতর হুসেন জানান, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে সাড়া পাচ্ছি, তাতে আমরা অভিভূত। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ হিন্দু।তিনি জানান, প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ চাঁদা উঠবে। তবে আপাতত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়নি বলে শুধু প্রতিশ্রুতিই তাদের সম্বল। লখনৌতে এরই মধ্যে নিজেদের অফিস খুলেছে ট্রাস্ট। সামনের সপ্তাহের মধ্যেই খোলা হবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং নিজস্ব ওয়েব পোর্টাল।তবে বিদেশি অর্থ প্রক্রিয়াকরণে কিছু সময় ব্যয় হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাস্টের সদস্যরা। অনেকেই ওই জমিতে মসজিদ নির্মাণের বিরুদ্ধে মত জানাতে শুরু করেছেন।গত সোমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লেখা দুই পাতার চিঠিতে ধন্যিপুরের জমিতে মসজিদের পরিবর্তে হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন জনপ্রিয় কবি মুনাব্বর রানা।তার বদলে নিজের পারিবারিক সূত্রে পাওয়া রায় বরেলি জেলায় সাই নদীর তীরের ৫.৫ একর জমি মসজিদ নির্মাণের জন্য দান করার প্রস্তাব দিয়েছেন রানা।তার যুক্তি, সরকারি দানে পাওয়া অথবা দখল করা জমিতে মসজিদ নির্মাণ করা যায় না। তাই নিজের জমি সে কাজে দান করতে চেয়েছেন বর্ষীয়ান কবি। যদিও সেই প্রস্তাব সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপন্থী বলে তা খারিজ করে দিয়েছে ওয়াকফ বোর্ড নির্মিত ট্রাস্ট।সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস