আজ ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

আমরাই সবাইকে জানাচ্ছি যে সিনেমার লোক খারাপ

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ অভিনেত্রী ও প্রযোজক শবনম পারভীন। ছোট ও বড় পর্দায় কমেডি ও খল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। অনেকগুলো চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করেছেন এই অভিনেত্রী। ১৯৮৬ সালে এ এম আইয়ুব পরিচালিত ‘আগুন পানি’ ছবিতে নায়িকা হয়েই চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন। তবে এই সিনেমার আগেই মুক্তি পায় তার অভিনীত ‘শুকতারা’ নামের ছবিটি। সে ছবিতে শবনম পারভীনের বিপরীতে ছিলেন প্রয়াত নায়ক জাফর ইকবাল।

প্রযোজক হিসেবেও বেশ পরিচিত তিনি। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শবনম ফিল্মসের ব্যানারে প্রথম নির্মিত ছবি ‘মৃত্যুদণ্ড’। এটি ১৭০০ হলে মুক্তি পেয়েছিলো। এরপর শুটার, স্রংগ্রাম, ভয়ংকর নারী, দূরদৃশ্য, পামেলা ও কুখ্যাত জরিনাসহ কিছু ছবি প্রযোজনা করেছেন। এছাড়া তিনি বেশি কিছু টেলিভিশন নাটকও প্রযোজনা করেছেন।

সর্বশেষ তিনি নিজের প্রযোজনায় ‘হুরমতি’ নামের একটি ছবি পরিচালনাও করতে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক বিষয় ও বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন এ প্রতিবেদকের সঙ্গে। লিখেছেন অরণ্য শোয়েব-

প্রতিবেদক : বর্তমান ব্যস্ততা কি নিয়ে ?
শবনম পারভীন : এখনো তেমনভাবে কোনো কাজ শুরু করা হয়নি। এমনি টুকটাক চলছে। তাছাড়া করোনার জন্য সিনেমার শুটিং তো বন্ধই। কিছু নাটক করছি। তবে আগামী মাস থেকে পুরোদমে কাজ শুরু ফিরবো।

প্রতিবেদক : আপনার অভিনীত পরিচালিত ও প্রযোজিত ‘হুরমতি’ সিনেমাটি কবে আসবে ?
শবনম পারভীন : গতবছর এর সেন্সর পেয়েছি। সবকিছু রেডি ছিল। কিন্তু করোনার কারণে এখন তো হল বন্ধ। তাই সিনেমাটি মুক্তি দিতে পারছিনা। কবে মুক্তি দিতে পারবো সেটাও বলতে পারছি না। তবে শিগগিরই ছবিটির টিজার-ট্রেইলার প্রকাশ পাবে।

প্রতিবেদক : নাটক এবং সিনেমা দুটোতেই আপনি সমানভাবে কাজ করেন। এতে করে কোনো ঝামেলায় পড়তে হয় না?
শবনম পারভীন : আমার বেলায় বাজে কোনো প্রতিক্রিয়া হচ্ছে না। দর্শক আমাকে দুই পর্দাতেই সমানভাবে নিয়েছেন। আমার কাজগুলো নিয়ে দর্শকের যা রিয়েকশন দেখি সবই আমাকে প্রেরণা দেয়। দর্শক চায় বলেই দুই ভুবনে সমানতালে কাজ করতে পারছি।

প্রতিবেদক : বর্তমানে সিনেমাপাড়াতে বয়কটসহ নানা ধরণের সমস্যা হচ্ছে সৃষ্টি হয়েছে। এর কোনো প্রভাব কী পড়েছে আপনার উপর?
শবনম পারভীন : ইন্ডাস্ট্রি অস্থির থাকলে সবাই ভুগে। আমার কাছে যেটি মনে হয় সেটি হচ্ছে কাদা ছোঁড়াছুড়ি করে আমরাই সবাইকে জানাচ্ছি যে সিনেমার লোক খারাপ। এই সব বন্ধ হওয়া উচিত। আমরা কিন্তু একে আরেকজনের সাথে সম্পৃক্ত। এই অসময়ে বিবাদ না করে সবাই মিলে কাজ করা খুব জরুরি।

কাজ করলে টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে জুনিয়র আর্টিস্ট সবাই কিছু অর্থ পাবে। কারণ সিনেমা নির্মাণ হলেই এদের কাজের সংখ্যা বাড়বে এবং এদের পরিবার নিয়ে ভালোভাবে থাকতে পারবে। এছাড়া লাফালাফি করে কোনো লাভ নেই।

প্রতিবেদক : দীর্ঘদিন ধরেই ইন্ডাস্ট্রিতে আছেন। অনেক সংগঠনেও জড়িত। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে জানতে চাই, একজন শিল্পী হিসেবে আপনি কেমন নেতা আশা করেন?
শবনম পারভীন : একজন শিল্পীর মন হবে ফুলের মতন। আর শিল্পীদের নেতা হওয়া আরও বড় ব্যাপার। কারণ শিল্পীদের মন ফুলের মতন আর ফুলদের রাজা হচ্ছে শিল্পীনেতা। তাই তাকে সবার সেরা হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। শিল্পীদের দায়িত্ব নেয়া শিখতে হবে।

প্রতিবেদক : প্রযোজকের এখন আকাল চলছে। পুরনো প্রযোজকেরা নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। আপনি অনেক ছবি প্রযোজনা করেছেন। নতুন করে সিনেমা নির্মাণ করছেন না কেন ?
শবনম পারভীন : আমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯৯৪ সালে যখন ‘মৃতুদণ্ড’ সিনেমাটি মুক্তি দিয়েছিলাম তখন সেটি ১৭০০ হলে মুক্তি পেয়েছিলো। এখন তো সেই হল নেই, মানুষও সিনেমা দেখতে চায় না। সবাই ঘরে বসে সবকিছু পেতে চায়। মানুষ রান্না ঘরে, গোসল করতে করতেও মোবাইলে সিনেমা দেখে।

মানুষের মধ্যে হলে গিয়ে সিনেমা দেখার ইমোশনটা নেই। এখনো যারা যায় তারা সিনেমাকে প্রচণ্ড ভালোবাসে। কিন্তু মনের মতো সিনেমা তারা পায় না। হতাশ হতে হতে সেই সংখ্যাটাও কমে যাচ্ছে। হলের পরিবেশও ভালো নেই। হল নিয়ে নোংরা পলিটিক্সের কথাও এড়ানো যায় না। এসব ঠিক করার মানসিকতাও দেখা যাচ্ছে না। সামনে দিন আসছে আরও খারাপ। এসময় কোন সাহসে প্রযোজনা করবো! ইচ্ছে হলেও গুটিয়ে যেতে হয়।

প্রতিবেদক : এভাবে চলতে থাকে বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ কি ?
শবনম পারভীন : আমি তো বিশেষজ্ঞ নই। যা বলবো অভিজ্ঞতা থেকে বলবো। আমার ভয় হয় আসলে। এমনভাবে চলতে থাকলে সিনেমার শনির দশা সহসাই কাটবে না। সামনে দিন আরও খারাপ আসছে। সম্মিলিতভাবে সিনেমার উন্নয়ন খুব জরুরি। নইলে আমাদের পরের জেনারেশন জানতেই পারবে না যে এই দেশে হাজার হাজার সিনেমা হলে একসময় সিনেমা মুক্তি পেত!

প্রতিবেদক স্পেশাল : শেষ দুটি প্রশ্নের উত্তর চাই।

১/ আপনার চোখে বর্তমান সময়ে সেরা নায়ক-নায়িকা কে ?
শবনম পারভীন : আমি শাকিব খান ছাড়া এখন কাউকেই সেরা হিসেবে দেখি না। প্রতিভাবান অনেক অভিনেতা এসেছেন। কিন্তু এখনো সবার সেরা শাকি খান। আর নায়িকা বলতে কাউকেই আমি সেরা বলবো না। সবাই সংগ্রাম করে যাচ্ছে। অনেক মেধাবী ও সম্ভাবনাময়ী নায়িকা আছে আমাদের। ওদের নার্সিং লাগবে। ভালো কাজের সুযোগ লাগবে।

২/ ফিল্ম পলিটিক্রসে শিকার হয়েছেন কখনো?
শবনম পারভীন : আসলে ফিল্ম পলিটিক্সের শিকার কিনা জানিনা আমি। অনেক ঘটনাই আছে যেসব ভাবলে মন খারাপ হয়। গল্প একটা বলেছে কাজ করতে গিয়ে দেখি অন্যকিছু। কখনো কখনো চরিত্রটাই বদলে গেছে। কিছু বলার ছিলো না। সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র থেকেও বাদ পরেছি আমি বহুবার।