আজ ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ডাক্তারদেরও কমতি থাকে, থাকে দোষ, ত্রুটিও! কিন্তু এ কেমন প্রতিবাদ?

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ সম্প্রতি এক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে প্রয়াত এক রোগীর আত্মীয়ের মারধরে। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন পুলিশের এক কর্মকর্তা। তাঁর লেখাটি কালের কণ্ঠের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

‘আমার অনেক ডাক্তার বন্ধু রয়েছে! প্রত্যেকের স্ট্রাগলকে আমি সম্মান করি। কিন্তু কারণে বা অকারণে হোক আমার ডাক্তার বন্ধুদের স্ট্রাগলকে আমার অনেক কঠিন মনে হয়!

আমার বন্ধুদের মাঝে মেধাবীদেরই মেডিকেলে চান্স পেতে দেখেছি, অনেক কষ্টে দিনরাত পড়তে দেখেছি। জীবনে সকলেরই কম, বেশি গল্প থাকে কিন্তু ডাক্তারদের কঠিন গল্পগুলো আমাকে সবসময় টানে!

একজন মুসলিম হিসেবে আমি মানি ও বিশ্বাস করি আমার জন্ম, মৃত্যু মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহপাক নির্ধারণ করেন। আমরা চেষ্টা করি মাত্র, চেষ্টায় কমতি থাকলে আমরা অবশ্যই প্রতিবাদ করবো, সেই প্রতিবাদের ভাষাও যৌক্তিক হওয়া চাই।

আমাদের চরম অসুস্থতায় আমরা মহান আল্লাহকে স্মরণ করার পর ডাক্তারদের স্মরণ করি। প্রতিনিয়ত কত সাহায্য ডাক্তারদের কাছ থেকে অনলাইন, অফলাইনে নেই, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। আমাদের অনেকেই ডাক্তারদের কসাই বলে ডাকি।

খেয়াল করে দেখবেন সেবাখাত দিয়ে কাউকে শতভাগ তুষ্ট কখনোই করা যায় না এবং যাবেও না! প্রত্যেক পেশায় ভাল, মন্দের মিশেল থাকে যেমনটি প্রত্যেক মানুষের মাঝে থাকে। একই বিষয় একজনের প্রকাশ আপনার কাছে ভীষণ মানবিক মনে হবে আবার অন্যজনের প্রকাশ আপনাকে কষ্ট দেবে।

এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আমিও গেছি বলতে দ্বিধা নেই। কিন্তু আমরা কি এটা কখনোই অস্বীকার করতে পারবো যে এর বিপরীতে অনেক ভাল অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও আমরা যাইনি?

আমার সবচেয়ে মেধাবী বন্ধুটি ডাক্তার হয়ে যখন নিজ গ্রামে সেবা দিচ্ছিল ঠিক তখন সিরিয়াল মেনে আসতে বলায় এক মহান জনৈক ব্যক্তি তাকে ইট দিয়ে আঘাত করতে গিয়েছিল! আমার বন্ধুটি আতঙ্কিত হয়ে আমাকে ফোন করায় আমি তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করি।

আই মিন সিরিয়াসলি, আপনার এলাকায় সেবা প্রদান করবে বলেই আপনি আঘাত করার অধিকারও পেয়ে যান? ডাক্তারদেরও কমতি থাকে, থাকে দোষ, ত্রুটিও! দায়িত্বের অবহেলা হলে প্রতিবাদ করুন। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নিন কিন্তু এ কেমন প্রতিবাদ?

প্রতিবাদের ভাষার হিংস্রতা যদি এতটাই হয় যে আপনি ডাক্তার পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলবেন, হত্যা করে ফেলবেন তাহলে আপনি তো একজন ক্রিমিনাল ছাড়া আর কিছুই না! মশাই আপনি রক্তাক্ত হলে কার কাছে যাবেন? আপনার মা, বাবা, বাচ্চার অসুস্থতায় কার কাছে দৌড়াবেন?

যে আপনি একজন ডাক্তারকে হত্যা করলেন, সেই আপনার নিজ অসুস্থতায় ডাক্তারের সেবা বা সাহায্য নিতে লজ্জা করবে না? সমাজের চাপিয়ে দেয়া কসাই নামের বাইরেও অনেক অগুনিত মানবিক ডাক্তার রয়েছেন যারা নিজেদের সর্বোচ্চ ও সর্বস্ব উজাড় করে দেন। দূর্ভাগ্যবশত তাদের গল্প কিন্তু আমরা শুনিনা কারণ আমাদের শোনানো হয় না!

নিজ পরিবারে একজন ডাক্তার থাকলেই উপলব্ধি করতে পারবেন কতটা স্ট্রাগলের মধ্য দিয়ে যেয়ে একজন প্রকৃত ডাক্তার বের হয়ে আসেন। একজন বয়স্ক ডাক্তারকে নিশ্চিহ্ন করতে আপনাদের হাতটা একটুও কেঁপে উঠলো না! এই করোনা কালীন আপনাদের কাছ থেকে এই নৃশংসতা দেখাটাই বাকি ছিল?

ডাক্তার আব্দুর রকিব খান স্যার, আপনি ভুল সময়ে ভুল মানুষের মাঝে জন্মে ছিলেন। মহান আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন।’

লেখক: ইফতেখায়রুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন), ডিএমপি।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)