আজ ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বন্যায় নির্মাণাধীন হেমায়েতপুর-সিঙ্গাইর-মানিকগঞ্জ সড়কে ধস

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  ২৫৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন হেমায়েতপুর-সিঙ্গাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে ধস দেখা দিয়েছে। দেবে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বেশ কিছু জায়গা। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, সঠিক পরিকল্পনার অভাব ও নির্মাণ ত্রুটির কারণে সড়কটি ভেঙে যাচ্ছে। তবে জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের দাবি, সড়ক নির্মাণে কোনো অনিয়ম হয়নি। ভারি বৃষ্টি ও বন্যার পানির স্রোতে সড়কটির এক তৃতীয়াংশ জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। জিওব্যাগ ও বালু ফেলে সড়কটির ভাঙনরোধ ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামতের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সম্প্রতি সড়কটি পরিদর্শন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম। এসময় তিনি মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গাউস-উল হাসান মারুফ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কাছে সড়কটি ভাঙনের ব্যাখ্যা চান এবং দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেন।

মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত হেমায়েতপুর-সিঙ্গাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-৫০৪) যথাযথ মানে প্রশস্থতায় উন্নীতকরণ প্রকল্পটি ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন দেয়। সরকারি অর্থায়নে (জিওবি) ২৫৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪টি প্যাকেজে (গুচ্ছ) ২০১৭ সালের ১ জুলাই ৩২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যসম্পন্ন সড়কটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

হেমায়েতপুর থেকে বিন্নাডাঙ্গী পর্যন্ত ১ নম্বর প্যাকেজের (৪ কিলোমিটার) কাজ করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নবারুণ কনস্ট্রাকশন, বিনাডাঙ্গি থেকে গোবিন্দল পর্যন্ত ২ নম্বর প্যাকেজের (১১ কিলোমিটার) কাজ করছেন এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড, গোবিন্দল থেকে নয়াকান্দি পর্যন্ত ৩ নম্বর প্যাকেজের (সাড়ে ১৩ কিলোমিটার) কাজ করছে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ও নয়াকান্দি থেকে মানিকগঞ্জ জেলা শহর পর্যন্ত ৪ নম্বর প্যাকেজের (৪ কিলোমিটার) কাজ করছে এস এম কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

দরপত্রের চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ৩০ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। জমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও চলমান করোনা  পরিস্থিতিতে যথাসময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। এর মধ্যে সড়কটির হেমায়েতপুর থেকে জেলা শহরের বেউথা পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যার পানিতে সড়কের দক্ষিণ পাশের বিভিন্ন স্থানে সোলডার ও গাইডপোস্ট ধসে গেছে। ফাটল দেখা দিয়েছে সড়কের সুরক্ষা বাঁধের বেশ কিছু জায়গায়। কোথাও কোথাও এক ফুট পর্যন্ত দেবে গেছে। সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামত ও ভাঙনরোধে বালুবোঝাই জিও ব্যাগ ফেলছে শ্রমিকরা।

জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট কহিনুর ইসলাম সানি বলেন, সড়কটি নির্মাণে প্রথম থেকেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এনিয়ে পত্রপত্রিকায় অনেক লেখালেখি হলেও সেসময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেয়নি। সঠিক পরিকল্পনার অভাব ও নির্মাণ কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করায় সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি নির্মাণে পথচারীদের চলাচলের ব্যবস্থা (ফুটপাত) রাখা হয়নি। বৃষ্টির সময় পুরো সড়কের মাঝখানে পানি জমে থাকে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

 

নির্মাণাধীন সড়কে ধস, পরিদর্শনে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় সাংসদ মমতাজ বেগম

মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গাউস-উল হাসান মারুফ বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনো সড়কটি আমাদের বুঝিয়ে দেয়নি। নির্মাণকাজ চলমান। সড়কের দক্ষিণ পাশের খালের একাংশ ভরাট করে সড়কটি প্রশস্থকরণ করা হয়। বন্যার পানিতে সড়কের এক তৃতীয়াংশ জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্মাণকাজের ঠিকাদারের কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি ছিল কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামত করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। খুব শিগগিরই মেরামত কাজ সম্পন্ন হবে। তিনি আরো জানান, কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার পর তিন বছর পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটি দেখভাল করবে। এই সময়ের মধ্যে সড়কে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে মেরামত করে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম বলেন, হেমায়েতপুর-সিঙ্গাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কটি মানিকগঞ্জবাসীর স্বপ্নের সড়ক। কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কটি ধসে পড়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। সড়কের সার্বিক অবস্থা জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্মাণকাজে অনিয়ম হয়ে থাকলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও সড়কটি সুরক্ষায় সবধরনের পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন তারা।