আজ ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

রান-আউটেই ক্যারিয়ার শুরু; রান-আউটেই শেষ!

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  কি অদ্ভুত মিল! রঙ্গীন পোশাকে ভারতের সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে রান-আউট দিয়ে। এরপর গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রান-আউট হয়ে যান। গতকাল শনিবার হুট করে অবসর ঘোষণা করা ধোনির জন্য সেটাই হয়ে গেল ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। বিশ্বকাপের সেই রান আউট ধোনির মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল। সেই ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছিল ভারত।

২০০৪ সালে ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেক হয়েছিল ধোনির। চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে ধোনি ব্যাটিংয়ে নামেন ৭ নম্বরে। ৪২তম ওভারে পঞ্চম উইকেটের পতনের পর তিনি উইকেটে এসেছিলেন। কিন্তু খেলতে পেরেছিলেন মাত্র ১টি বল। তাপস বৈশ্য এবং খালেদ মাসুদ পাইলটের যৌথ প্রচেষ্টায় সেই বলেই রান-আউট হয়ে যান ০ রানে। তার ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু ধোনি নিজেকে প্রমাণ করেন।

তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ  ২০১৯ সালের ৯ জুলাই। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচ। গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ হওয়া নিউজিল্যান্ডের ২৩৯ রানের জবাবে ভারত যখন ধুঁকছিল, তখন আশার আলো দেখিয়ে লড়ছিলেন ধোনি। একপ্রান্ত আগলে রেখে ৭২ বলে পূরণ করেন ফিফটি। কিন্তু যে বলে ৫০ পূরণ করেন ধোনি, সে বলেই রান-আউট হয়ে যান। দুই রান নিতে গিয়ে মার্টিন গাপটিলের সরাসরি থ্রো তার স্টাম্প ভেঙে দেয়। এরপর স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান ধোনি। গত এক বছর জাতীয় দলের হয়ে কোনো ম্যাচ খেলেননি।

মাঝের ১৫ বছর ধোনি খেলেছেন ৫৩৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ, করেছেন ১৭ হাজারের বেশি রান। উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে নিয়েছেন ৮৬৩টি ডিসমিসাল। রান-আউট দিয়ে শুরু আর রান-আউট দিয়েই শেষ করা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সবমিলিয়ে ২৬ বার রান-আউট হয়েছেন ধোনি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৬ বার রান-আউট হয়েছে ওয়ানডেতে। বাকি ১০ রান-আউটের মধ্যে টেস্টে ৪ বার এবং টি-টোয়েন্টিতে ৬ বার। শুরু ও শেষের দুই রান-আউটের মাঝের দেড় দশকে ইতিহাসের একমাত্র অধিনায়ক হিসেবে তিনটি আইসিসি ট্রফি জেতার অনন্য কীর্তি গড়েছেন ধোনি।