আজ ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কায়ো হামার খোঁজ নিবার আইসে না’

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় পুকুরের ভাঙনের মুখে পড়েছে গুচ্ছগ্রাম। চারদিকে ব্যক্তি উদ্যোগে পুকুর খনন করে মৎস্য চাষ করায় গুচ্ছগ্রামটি ভাঙনের কবলে পড়েছে। এরই মধ্যে ধ্বসে পড়েছে গুচ্ছগ্রামে চলাচলের রাস্তা। ফলে এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পুরো গুচ্ছগ্রামটি পুকুরে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা। গুচ্ছগ্রামটি উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের দাদন গ্রামে।

সরেজমিনে দাদন গুচ্ছগ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গুচ্ছগ্রামে ৩০টি পরিবারের বসবাস। গুচ্ছগ্রামের চারদিকে পুকুর। সামনের দিকে পুকুরের পাড় ভাঙতে ভাঙতে চলাচলের রাস্তা ধ্বসে পড়েছে। পিছনের দিকে ভাঙন বেশির ভাগ ঘরের এক থেকে দুই হাতের মধ্যে চলে এসেছে। পাড় ভেঙে পানিতে ধ্বসে পড়েছে গুচ্ছগ্রামের গাছ। বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে বালুর বস্তা ফেলে ঘরসহ রাস্তা রক্ষার চেষ্টা করছেন।

আশ্রিতদের অভিযোগ, গুচ্ছগ্রামে ঘর বরাদ্দের পর থেকে এ পর্যন্ত কেউ তাঁদের আর খোঁজ নেয়নি। সরকারিভাবে তাঁদের কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। বর্তমানে গুচ্ছগ্রামের ঘরগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়ে। গুচ্ছগ্রামের সংস্কারেও কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে দরিদ্র এ পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

দাদন গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, গুচ্ছগ্রামটি তৈরির সময় পুকুরের পাড় ৬ থেকে ৮ হাত দূরে ছিল। কিন্তু প্রতি বছর বর্ষায় পুকুরের পাড়ে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙন এখন ঘরের কাছাকাছি চলে এসেছে। আমরা বালুর বস্তা দিয়ে বারবার ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছি। চারদিকে একসাথে ভাঙনের কারণে আমরা আর শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করতে পারছি না।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, ‘মোর জমি-ঘর নাই, তাই গুচ্ছগ্রামে ঘর নিয়া খুশি হছনু। ভাবছিনু সরকার হামার খবর নেবে। হামরা সবাই ভাল থাকমো। একন তো, কায়ো হামার খোঁজ নিবার আইসে না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘গুচ্ছগ্রামটির সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকারিভাবে তাঁদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আজিজ বলেন, ‘গুচ্ছগ্রামটি পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো। বরাদ্দ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।