আজ ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ভাড়া বাড়িয়ে, জনগণকে জিম্মি করে পকেট কাটছেন পরিবহন মালিক শ্রমিকরা

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা জনগণকে জিম্মি করে পকেট কাটছে বলে মন্তব্য করেছেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর চেয়ারম্যান গোলাম রহমান। তিনি বলেছেন, ভাড়া বাড়িয়ে সরকার অন্যায় করেছে। জনগণের পকেট কাটার সুযোগ করে দিয়েছে। অবিলম্বে এ বাড়তি ভাড়া প্রত্যাহারের জন্য ক্যাবের পক্ষ থেকে দাবি জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদ্ককে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

গোলাম রহমান বলেন, করোনার সময় গণপরিবহনের ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করে সরকার অন্যায় করেছে। সরকার করোনায় সময় অনেক ভালো কাজ করেছে। অনেক ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তটা হচ্ছে একটা মন্দ সিদ্ধান্ত। সরকারের উচিত অবিলম্বে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা। ক্যাবের পক্ষ থেকে আমরা যোগাযোগমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছি। আমরা বিবৃতি দিয়েছি যে, ভাড়া বাড়ানোটা সঠিক হয়নি। যেসব শর্ত দিয়েছেন তাও বাস্তবসম্মত বলে মনে হয় না।

যাত্রী ভাড়া ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হলেও অনেক পরিবহনের প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করার বিষয়ে তিনি বলেন, ৬০ শতাংশের বেশি ভাড়া আদায় তো অপরাধ। ব্যবসায়িক স্বার্থে জনগণের পকেট কাটা হচ্ছে। ব্যবসায়িক স্বার্থে ভাড়া বৃদ্ধি করে জনগণের পকেট কাটার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা আবেদন করব, অনুরোধ করব অবিলম্বে যেন এ ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়।

দুর্র্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান আরও বলেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য সরকারের যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তা করা হচ্ছে না। বরং সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনগণকে জিম্মি করে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা নিজেদের মুনাফা বৃত্তি করছে। এক্ষেত্রে ব্যবসায়িক স্বার্থে জনগণের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে এটা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার যখন ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তখনই আমরা যোগাযোগমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছি। আমরা সরকারকে অনুরোধ করছি, বিশেষ করে যোগাযোগমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ, তিনি তো রাজনীতিবিদ। তিনি জনগণের স্বার্থ দেখবেন।

ক্যাব চেয়ারম্যান বলেন, আমলারা তো জনগণের স্বার্থ দেখেন না। তারা ব্যবসায়িক স্বার্থ দেখেন। জনগণের যারা নেতা তথা প্রধানমন্ত্রী-যোগাযোগমন্ত্রীর উচিত হবে জনস্বার্থে অবিলম্বে এ সিদ্ধান্তকে বাতিল ঘোষণা করা। এ ছাড়া বাস্তবায়নযোগ্য নয়, এমন বিধি-নিষেধগুলোও প্রত্যাহার করার কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়ে গোলাম রহমান বলেন, গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। যে বিধি মানাই হচ্ছে না, তা রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।