আজ ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

পুঁজিবাজারে মার্জিন ঋণের উপর দুই মাসের সুদ মওকুফ

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে মার্জিন ঋণের দুই মাসের সুদ মওকুফ করা হয়েছে। শিগগিরই বিষয়টি কার্যকর হবে। আজ মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির এ তথ্য জানিয়েছেন।

বৈঠক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রকোপে পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে সুদ মওকুফের এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। করোনার প্রকোপের কারণে গত ২৭ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দেশের পুঁজিবাজার বন্ধ ছিল। এ সময়ে লেনদেন না হলেও বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণের উপর সুদ আরোপ অব্যাহত রাখে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। অবশ্য এ ছাড়া তাদেরও উপায় ছিল না। কারণ তারা অন্য প্রতিষ্ঠান তথা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ওই তহবিল থেকে গ্রাহকদের ঋণ দিয়েছে। এমন বাস্তবতায় সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় গত এপ্রিল ও মে মাসের মার্জিন ঋণের সুদ মওকুফ করা হচ্ছে।

তবে সুদ মওকুফ করা হলেও তাতে ঋণদাতা ব্যাংকের কোনো সমস্যা হবে না। কারণ মওকুফকৃত সুদের পুরোটাই সরকার ভর্তুকী হিসেবে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে ফেরত দেবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে সব তফসিলি ব্যাংককে আলোচিত বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছে।

উল্লেখ, মার্জিন ঋণ হচ্ছে শেয়ারে বিনিয়োগ করার জন্য গ্রাহককে দেওয়া ব্রোকারহাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের ঋণ। অন্যান্য সব ঋণের সুদ হার কমলেও মার্জিন ঋণের সুদের হার এখনো প্রায় ১৪ শতাংশ। আর এটি প্রতিদিনের স্থিতির ভিত্তিতে হিসাব করা হয়। বর্তমানে এই ঋণের গ্রহণযোগ্য সীমা হবে ১ঃ০.৫। অর্থাৎ গ্রাহকের নিজস্ব তহবিল ১০০ টাকা হলে তিনি সর্বোচ্চ ৫০ টাকা মার্জিন ঋণ নিতে পারেন।

মার্চের শেষ সপ্তাহে আকস্মিকভাবে দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলে পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ আটকে পড়ে। তারা শেয়ার বিক্রি করে ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনার কোনো সুযোগ পায়নি। অথচ শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও তাদের একাউন্টে সুদের পরিমাণ বাড়তে থাকে। এই বাস্তবতায় আলোচিত দুই মাসের সুদ মওকুফ করা হয়েছে।

এদিকে আজকের বৈঠকে ডিএসইর পক্ষ থেকে ব্রোকারহাউজগুলোর চলতি মূলধনের (Working Capital) চাহিদা মেটাতে প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এই প্রস্তাবের বিষয়ে বাংলাদেশ নীতিগত সমর্থন জানালেও টেকিনিক্যাল কারণে এই মুহূর্তে সম্ভব নয় বলে জানানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ওই ঋণের বিষয়ে বলা হয়, সরকার প্রণোদনা সুবিধার জন্য যেসব খাতকে অন্তর্ভুক্ত করেছে তার মধ্যে ব্রোকারহাউজের উল্লেখ না থাকায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু করা সম্ভব নয়। তারা ডিএসইকে বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেন। অর্থমন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে ব্রোকারহাউজকে তাতে অন্তর্ভূক্ত করলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বাকি সব ব্যবস্থা করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ছানাউল হক, পরিচালক শাকিল রিজভী প্রমুখ অংশ নেন।