আজ ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

মোবাইল-ট্যাবে আসক্তি কেড়ে নেয় শিশুদের ছবি আঁকার প্রতিভা

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  তুরস্কের একজন শিশুবিষয়ক বিশেষজ্ঞের মতে, প্রযুক্তির সাধারণীকরণ কিছু শিশুকে সাধারণ ছবি আঁকার ক্ষেত্রেও অক্ষম করে তুলেছে। আর সেই সংখ্যাটি প্রতিদিনই বাড়ছে। আইসেনুর বেকারোগলু নামের ওই শিশু বিশেষজ্ঞ বিশ্বাস করেন, প্রাথমিকভাবে যখন কোনো ডিভাইসের মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয় তখন শিশুদের মধ্যে স্ক্রিনের আসক্তের পরিমাণ বেশি বৃদ্ধি পায়।

করোনার কারণে প্রায় সব কিছুই বন্ধই রয়েছে। বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। তবে তুরস্কে শুরু হচ্ছে অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা। আগস্টের ৩১ তারিখ থেকে দেশটিতে শুরু হতে যাচ্ছে অনলাইন পাঠদান। এমন এক পরিস্থিতিতে আইসেনুর বেকারোগলুর বক্তেব্যে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তিনি বলেন, বাচ্চাদের অশিক্ষিত না রাখার পরিবর্তে অনলাইন পড়াশোনাই সেরা বিকল্প। এটি খারাপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভালো।

বেকারোগলু বলেন, বিদ্যালয়গুলো কেবল শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু নয় বরং সামাজিকীকরণের স্থান। যেখানে শিশুরা একে অপরের উন্নয়নে সাহায্য করার জন্য সমবেত হয়। করোনাভাইরাস মহামারি শিশুদের জন্য বিশাল অসুবিধে তৈরি করেছে। এই সময় পর্দার সামনে বসে থাকার চেয়ে তাদের সামাজিকীকরণ এবং বিকাশ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, স্ক্রিন আসক্তি বছরের পর বছর ধরে পিতামাতার জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি ভালো হচ্ছে না। ফোন ও ট্যাবলেটের সামনে সময় কাটানোর ফলে বাচ্চাদের নিউরনের ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন,  ডিভাইস দিয়ে খেলা করা শিশুদের আমরা যখন সাধারণ পেন্সিল ও কাগজ দিয়ে ছবি আঁকার জন্য বলি তখন তারা স্টিক ফিগারস আঁকেন। সাধরাণত তিন বছরের চেয়েও কম বয়সী শিশুরা এই ফিগারগুলো আঁকেন। তিন বছরের পর শিশুরা মানুষের ছবি আঁকতে পারে। যদি মানুষের ছবি আঁকতে পারে তাহলে তাদের স্কিমা ডেভেলপমেন্ট স্বাস্থ্যকরবাবে বিকাশ হয়েছে। কিন্তু স্ক্রিনের সংস্পর্শে থাকা কোনো আট বছর বয়সী শিশু এখনো স্টিক ছবি আঁকে তাহলে আমার দেখি তার স্কিমা ডেভেলপমেন্ট তিন বছর বয়সী শিশুর মতো।

বেকারোগলু বলেন, অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থায় পিতামাতার জন্য একটি সুবিধা রয়েছে। এই ব্যস্থায় সন্তানের আচরণ পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পায় পিতামাত। শিশুরা তাদের পড়া ঠিকমতো পড়ছে কি না সে বিষয়েও নজর রাখতে পারে।

সূত্র: এএ।