আজ ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কুয়েতে মানবপাচারকারী সাজাপ্রাপ্ত আসামি দেশে গ্রেপ্তার

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ কুয়েতে মানবপাচারকারীচক্রের আরেক হোতা আমির হোসেন ওরফে সিরাজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তিনি কুয়েতে দায়ের করা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। একই মামলায় কুয়েতের এক নাগরিক গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে সাজা ভোগ করলেও কৌশলে দেশে পালিয়ে আসেন আমির হোসেন। তাঁর মতো আরো দুই পাচারকারী বাংলাদেশিও দেশে পালিয়ে এসেছেন।

বিদেশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি জেনেছে, কুখ্যাত চার ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে মানব পাচার করে আসছে। এই চক্র ৯ শতাধিক মানুষকে কুয়েতে পাচার করেছে। জনপ্রতি তাঁদের কাছ থেকে ছয় লাখ কিংবা এরও বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে। উচ্চ বেতনের প্রলোভনে কুয়েতে যাওয়ার পর তাঁরা শিকার হয়েছেন দুর্বিষহ যন্ত্রণার। প্রতারিত বাংলাদেশিরা কাজের সন্ধান তো পানইনি বরং খাবার ও বাসস্থান সংকটের কারণে কুয়েতের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পাচারকারীরা কুয়েতে তাঁদের আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে আরো টাকা আদায় করেন। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাচারকারীরা ভিসা নেন বলেও জেনেছে সিআইডি।

বাংলাদেশ থেকে পাচার ও নির্যাতনের শিকার কয়েকজন কুয়েতের সরকারি এজেন্সি ও জনশক্তি কর্তৃপক্ষের কাছে বছর দেড়েক আগে অভিযোগ করেন। কুয়েতের এজেন্সি তদন্ত করে এর সত্যতা খুঁজে পায়। অভিযোগের ভিত্তিতে কুয়েতের আদালতে কয়েকটি মামলা করা হয়। পরে এই চক্রের চারজনের (একজন কুয়েতি ও তিনজন বাংলাদেশি) বিরুদ্ধে কুয়েতের আদালত অভিযোগ আমলে নেন।

কুয়েতের আদালত তিন বাংলাদেশিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। চক্রের অন্যতম হোতা কুয়েতি নাগরিককে ছয় বছরের সাজা দেওয়া হয়। সিআইডি সূত্র জানায়, সম্প্রতি কুয়েত থেকে এই তথ্য পায় তারা। এই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। গত সোমবার

সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম, অর্গানাইজড ক্রাইমের একাধিক দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। তারা নরসিংদীর মাধবদীর পাঁচদোনা এলাকা থেকে আমির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।

সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রাজীব ফারহান গতকাল বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর আমিরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

কে এই আমির হোসেন : নরসিংদীর পাঁচদোনার আমির হোসেনের প্রকৃত নাম ছিল সিরাজ উদ্দিন। ৩০ বছর আগে আমির হোসেন নামের এক ব্যক্তির ভিসা নিয়ে গলাকাটা পাসপোর্ট দিয়ে কুয়েতে পাড়ি জমান তিনি। সেখান থেকে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যদেরও নিয়ে যান কুয়েতে। মানব পাচার করে বিপুল বিত্তের মালিক হন। দেশে গড়ে তোলেন কয়েকটি ফার্মও। তিনি পাঁচদোনা এলাকায় সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত। কিন্তু তাঁকে গ্রেপ্তারের পর সাধারণ মানুষ জানতে পারে মুখোশের আড়ালে তিনি একজন অপরাধী।

জানা গেছে, কুয়েতের মামলার আসামি আমিরের গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি কুয়েত সরকারকে জানানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, তাঁর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হচ্ছে। যে কারণে তাঁকে দেশের মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এরই মধ্যে তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিআইডি। আমিরকে কুয়েতে পাঠানো হবে কি না জানতে চাইলে অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার রাজীব ফারহান বলেন, ‘তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি প্রপার চ্যানেলে কুয়েতকে জানানো হচ্ছে।’