আজ ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

চীনের উইঘুরে মসজিদ ভেঙে ‘পাবলিক টয়লেট’!

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের উপর দীর্ঘদিন ধরেই চীন অমানবিক অত্যাচার চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়টি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অনেকবার সমালোচনাও করা হয়েছে তাদের। শুধু তাই নয়, উইঘুর মুসলিমদের কাছ থেকে ধর্মাচরণের অধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এবার জানা গেল জিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলিমদের মসজিদ ভেঙে সেখানে সাধারণ মানুষের জন্য সুলভ ‘পাবলিক টয়লেট’ বানিয়েছে শি জিনপিং সরকার।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, উত্তর-পশ্চিম চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের আতুশ এলাকার সুনতাগ গ্রামের বাইরে থাকা রাজেদ নামে একটি মসজিদকে ভেঙে সেখানে সাধারণ মানুষের জন্য সুলভ পাবলিক টয়লেট বানানো হয়েছে। তবে তার ব্যবহার এখন শুরু হয়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় উইঘুর মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

রেডিও ফ্রি এশিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, সেখানে এরইমধ্যে পাবলিক টয়লেট তৈরি করা হয়েছে। এখনো সেটি খুলে দেয়া হয়নি তবে নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ব মিডিয়ায় উইঘুরদের ওপর চীনের দমনপীড়ণ বেশ আলোচিত হয়েছে। এতে উঠে এসেছে কীভাবে উইঘুরদের উদ্যোম নষ্ট করতে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে চীন সরকার। মসজিদ ধ্বংস করে পাবলিক টয়লেট বানানো তারই একটি অংশ।

এছাড়া, ২০১৭ সাল থেকে উইঘুরদের বন্দীশিবিরের কথাও গণমাধ্যমে প্রচার হতে শুরু করে। চীন এ দাবি অস্বীকার করে এসব শিবিরকে পুনশিক্ষা কেন্দ্র বলে দাবি করেছে। তবে বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উইঘুরদের মগজধোলাইর বিষয়টি উঠে আসে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে, সেখানকার আরেকটি মসজিদকে মদ বিক্রির দোকানে পরিণত করেছে চীন সরকার। ইসলাম ধর্মবিশ্বাসীরা মদকে নিষিদ্ধ মনে করে। তাই চীন সরকারের এ ধরণের আচরণকে সরাসরি উইঘুরদের উদ্যোম নষ্টের চেষ্টা বলে মনে করা হয়।

জিনজিয়াংয়ে এখন তেরেস মসজিদ নামের একটি মাত্র মসজিদ চালু রয়েছে। এর আগে চীনের পুলিশ উইঘুর নারীদের জন্য পোশাক নির্ধারণ করে দিয়েছে। ফলে সেখানে এরই মধ্যে বোরকা পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।