আজ ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

পশ্চিমবঙ্গের সাংবাদিক সফিকুল ইসলাম এখনো জেলে

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ  পশ্চিমবঙ্গের সাংবাদিক সফিকুল ইসলাম এখনো জেলে। আগামী সোমবার তাঁর জামিনের আবেদন উঠতে পারে হাইকোর্টে। খবর ডয়চে ভেলে’র।

 

আরামবাগ টিভি-র সাংবাদিক সফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা চলছে। তার মধ্যে পাঁচটিতে তিনি জামিন পেয়েছেন। একটিমাত্র মামলায় জামিন পাওয়া বাকি।

 

সেই মামলায় জামিনের আবেদন হাইকোর্টে উঠতে পারে সোমবার। সেখানে সফিকুলের হয়ে মামলা লড়বেন সিপিএমের সাংসদ ও আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।

 

সফিকুলের আইনগত বিষয় যিনি দেখছেন সেই সাংবাদিক সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, পাঁচটি মামলায় সফিকুল জামিন পেয়েছে। শেষ যে মামলায় সফিকুল ও তাঁর স্ত্রী এবং সহ সাংবাদিক জামিন পেয়েছেন, সেখানে হাইকোর্ট বলেছিল, মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যাবে না।

 

কিন্তু পুলিশ তখন পুরনো আরেকটি মামলায় সফিকুলকে গ্রেফতার করে। নিম্ন আদালতের ব্যাখ্যা হলো, এটা অন্য একটি মামলা। তাতে গ্রেফতার করাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বলে ধরা যাবে না। ফলে হাইকোর্টের রায় ভঙ্গ করা হচ্ছে না। সোমবার যদি বিষয়টি হাইকোর্টে ওঠে, তা হলে জানা যাবে, সফিকুল মুক্তি পাচ্ছেন কি না।

 

প্রবীণ সাংবাদিক শুবাশিস মৈত্র বিষয়টি নিয়ে একটি ফেসবুক পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, ”ভিন্নমত পছন্দ না হতে পারে, কিন্তু কোনো পক্ষের অসুবিধা হচ্ছে বলে গণতন্ত্রে ভিন্নমতের কণ্ঠরোধ করা যায় না। সাংবাদিকরা তাঁদের বক্তব্য প্রচার করতে না পারলে গণতন্ত্র অর্থহীন হয়ে যায়। সাংবাদিকদেরও তাঁদের কাজে সৎ থাকা জরুরি।

 

বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ সাংবাদিক সফিকুল ইসলামকে গ্রেফতারের মামলায় তাঁদের পর্যবেক্ষণে এমনই মন্তব্য করেছেন।”সফিকুল হলেন আরামবাগের ইউ টিউব চ্যানেল আরামবাগ টিভির সাংবাদিক। করোনাকালে স্থানীয় থানা থেকে সরকারের পক্ষ থেকে ক্লাবগুলিকে এক লাখ টাকার চেক দেয়ার ভিডিও দেখিয়ে বিতর্কের ঝড় তোলেন।

 

ট্রাফিক পুলিশের ঘুষ নেয়ার খবরও যথেষ্ট আলোড়ন তুলেছিল। কিন্তু ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে ভোররাতে সফিকুলের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।

 

দুই বাচ্চাকেও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই মামলায় সফিকুল ও তাঁর স্ত্রী জামিন পেয়েছেন। সহ সাংবাদিকও জামিন পেয়েছেন। তারপর অন্য মামলায় সফিকুলকে গ্রেফতার করা হয়। তবে তাঁর স্ত্রী ও সহ সাংবাদিক জামিন পেয়েছেন।