আজ ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

হাওরে হচ্ছে ১৯০ কিমি সড়ক

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ হাওরে ঘেরা সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলা। পাশাপাশি জেলা হলেও তাদের মধ্যে নেই সরাসরি কোনো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এমন বোধ হয় দেশের আর কোথাও নেই। শুধু তা-ই নয়, বর্ষায় হাওর যখন প্রাণ পায়, তখন সুনামগঞ্জের এক উপজেলার সঙ্গে আরেক উপজেলাও হয়ে পড়ে বিচ্ছিন্ন। সড়ক না থাকায় প্রসূতিসহ নানা রোগব্যাধিতে মেলে না মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা। শিক্ষা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হয় সড়কের অভাবে।

মৎস্য, উদ্ভিদ ও বৈচিত্র্যময় প্রাণিকূলে সমৃদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক আধার হলো হাওর, যা দেশের অন্যান্য জলাভূমি প্রতিবেশের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। এছাড়া হাওর হাজার হাজার পরিযায়ী পাখির গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। জলমগ্ন বন ও নলখাগড়ার বনগুলো হাওর বেসিনকে জলজ প্রতিবেশে সমৃদ্ধ করেছে। ইতোমধ্যে অতিরিক্ত সম্পদ আহরণ এবং প্রতিবেশের স্থায়ী ব্যবস্থাপনার অভাবে এসব সম্পদ এখন হুমকির মুখে। এমনকি বাস্তুসংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) টাঙ্গুয়ার হাওর এই সমীক্ষা এলাকার অন্তর্ভুক্ত।

এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকারি, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘হাওর এলাকায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প : সুনামগঞ্জ জেলা (দিরাই, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও তাহিরপুর উপজেলা)’ নামে একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর। এতে সুনামগঞ্জে বর্ষার সময়ও জেলার প্রতিটি উপজেলার সঙ্গে যেমন সংযোগ স্থাপন সম্ভব হবে, তেমনি নেত্রকোনার সঙ্গেও সুনামগঞ্জের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় হাওর এলাকায় ১৯০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে অল সিজন সড়ক (বাঁধ দিয়ে নির্মাণ করা সড়ক, যা সব মৌসুমে ব্যবহার করা যাবে) ১২৪ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার, সাবমারজিবল সড়ক (বর্ষায় তলিয়ে যাবে) ৫১ দশমিক ০৭ কিলোমিটার এবং উড়াল সড়ক (যার নিচ দিয়ে পানি চলাচল করতে পারবে) ১৩ দশমিক ৪১ কিলোমিটার।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাঁধ দিয়ে সড়ক নির্মাণ করলে হাওরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অল সিজন ও সাবমারজিবল সড়ক নির্মাণ করলে হাওরের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। হাওরের ইকো-সিস্টেম বাধাগ্রস্ত হবে। এরকম জলাশয় পৃথিবীতে বিরল। তাই পানি প্রবাহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য উড়াল সড়ক করতে হবে হাওরে। ব্যয়বহুল হলেও উড়াল সড়কই হাওরের জন্য উপযুক্ত।

তাছাড়া অল সজিন ও সাবমারজিবলের তুলনায় উড়াল সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক কম। হাওরে উড়াল সড়ক করলে যেমন যোগাযোগ স্থাপন সহজ হবে, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হবে, তেমনি হাওরও রক্ষা পাবে। ফলে অল সিজন ও সাবমারজিবলের পরিবর্তে হাওরের রাস্তা উড়ালের পক্ষে মত দেন তারা।সরকার সংশ্লিষ্টরাও বলছেন, হাওরের পানিপ্রবাহ ও বাস্তুসংস্থান ঠিক রাখার জন্য বিভিন্ন জায়গায় উড়াল সড়কের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে আরও জানা যায়, ১৯০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে উপজেলা অল সিজন সড়ক ১০৬ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার, উপজেলা সাবমারজিবল সড়ক ২৮ দশমিক ২১ কিলোমিটার, ইউনিয়ন অল সিজন সড়ক ১৯ দশমিক ২০ কিলোমিটার, ইউনিয়ন সাবমারজিবল সড়ক ১৪ দশমিক ৬৯ কিলোমিটার, গ্রাম সাবমারজিবল সড়ক ৮ দশমিক ১৭ কিলোমিটার এবং উপজেলা এলিভেটেড (উড়াল) সড়ক ১৩ দশমিক ৪১ কিলোমিটার। পাশাপাশি উপজেলা সড়কে ২ হাজার ৯৮৭ মিটার ব্রিজ, ইউনিয়ন সড়কে ৬৮৫ মিটার ব্রিজ, উপজেলা সড়কে ৬৬৭ মিটার কালভার্ট, ইউনিয়ন সড়কে ৭৫ মিটার কালভার্ট এবং গ্রাম সড়কে ৩৩ মিটার কালভার্ট নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপপ্রধান মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘প্রকল্পটা একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। এখন যা আছে, তা থেকে অনেক কিছু বাদ যাবে। অনেক সংক্ষিপ্ত হয়ে যাবে প্রকল্পটি। প্রায় ৩৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প পেশ করা হয়। সেটি ১৫০০ কোটি টাকায় নেমে আসতে পারে। তবে এখনও কিছু চূড়ান্ত নয়। এর রাস্তা অনেক কমে যেতে পারে। বাঁধ দিলে হাওরের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। পানির প্রাবহ ঠিক রাখা, জীব-বৈচিত্র্য রক্ষার জন্য উড়াল সড়ক প্রস্তাব করা হয়েছে। ১৩ কিলোমিটার উড়াল সড়কের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, সেটাও হয়তো কমে আসবে কিছুটা।’বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সঙ্গে কথা বলতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বিরল জলাশয় হাওরের অস্তিত্ব রক্ষায় উড়াল সড়কের পক্ষে বিশেষজ্ঞরা
হাওর উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক জি এম তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘একটা নেতিবাচক প্রভাব তো পড়বেই। কারণ, হাওরের ইকো-সিস্টেম…। হাওর তো শুধু বাংলাদেশের সম্পদ নয়, এটা বিশ্বের একটা সম্পদ। ইকোলজিক্যাল অ্যাসেট। সুন্দরবন যেমন টিকিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব, এটা একটা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। হাওর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট না, কিন্তু এরকম জলাশয় পৃথিবীতে বিরল। কাজেই এটা টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব কিন্তু আমাদের।’

‘আমাদের যে নীতি আছে, যেকোনো সড়ক করতে হলে বিশেষ করে আঞ্চলিক ও জাতীয় করতে হলে স্টাডি করতে হয়। এটা কেন করেছে, করেছে এ কারণে যে, যাতে ড্রেনেজের সমস্যা না হয়, বন্যার সমস্যা না হয়। এ প্রকল্পে এ ধরনের স্টাডি করা হয়েছে কি-না, জানি না।’

প্রকল্পের পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিরূপণের এক প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার বিভাগ বলেছে, ‘সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে প্রাপ্ত দীর্ঘমেয়াদী সুবিধাদি স্বল্পমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাবের তুলনায় বেশি এবং এসব নেতিবাচক প্রভাব সঠিক প্রশমন ব্যবস্থার মাধ্যমে কমিয়ে আনা সম্ভব। অতএব প্রকল্পটি পরিবেশগতভাবে যোগ্যতাসম্পন্ন।’

এ বিষয়ে তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষতির চেয়ে লাভ বেশি, এটা তো? ইকোনমিক ফিজিবিলিটি দিয়ে সবকিছু জাস্টিফাই করাটা ঠিক নয়। আমরা অনেক প্রকল্প করেছি অর্থনৈতিকভাবে লাভ দেখে। কিন্তু দেখা গেছে, সেটা পরিবেশগতভাবে ক্ষতির। সেই পরিবেশগত ক্ষতিকে যদি আনডু বা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে গেলে যে ব্যয় হবে, তা এত বছর থেকে যে লাভ হয়েছে, তার থেকে সেই ব্যয় অনেক বেশি হবে। তার মানে ওই অর্থে প্রকল্পটা জাস্টিফাইড নয়।’

তিনি বলেন, ‘সরকার থেকে বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে, হাওরে যেসব রাস্তা হবে, সেগুলো হবে মূলত উড়াল সড়ক। উড়াল সড়ক করলে খরচ একটু বেশি পড়ে। কিন্তু আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক ভালো। আমরা অর্থনৈতিকভাবে অনেক স্বচ্ছল এখন। হাওরে উড়াল সড়ক করলে সেখানে একটু খরচ বেশি হবে। অসুবিধা কী? তার বিনিময়ে হাওর সিস্টেমটাকে টিকিয়ে রাখলাম। ইকো-সিস্টেমটাকে ধ্বংস হতে দিলাম না। আমাদের পরামর্শ হচ্ছে, সড়ক অবশ্যই দরকার। যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য, ওই অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ অবশ্যই দরকার। কিন্তু সেটা পরিবেশের ক্ষতি করে নয়। এজন্য আমাদের উড়াল সড়কে যেতে হবে।’

উড়াল সড়কের সুবিধা তুলে ধরে তারিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘উড়াল সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ খুব কম। বর্ষাকালে হাওরে প্রচুর ঢেউ হয়। সাধারণ সড়ক করলে ঢেউয়ে তা রক্ষণাবেক্ষণ করা খুব দুরূহ। ঢেউয়ে সড়ক ভেঙে যায়। তার জন্য অনেক প্রটেকশন দিতে হয়। অনেক সময় ওই প্রটেকশন কাজ করে না। আমরা অনেকবার গিয়েছি হাওরে। দেখেছি, সড়ক ভেঙে যায়। এ ক্ষেত্রে উড়াল সড়ক করলে ঢেউয়ে ভাঙার কোনো সুযোগ নাই। এটার মেইনটেন্যান্স কস্ট খুব কম। আমরা যদি পরিবেশ, ইকোলজি, বন্যা– সবকিছু বিবেচনায় সেখানে উড়াল সড়ক করার পরামর্শ দেই। আপাতদৃষ্টিতে খরচ বেশি মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করলে এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম, ইকোলজিক্যাল সিস্টেমকে ডেমেজ করবে কম, ফ্লাড ড্রেনেজকে ডেমেজ করবে কম– এসব বিবেচনায় উড়াল সড়কই সমাধান।’

‘এখন যে সড়ক হচ্ছে, আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর পরে যখন অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হবে তখন দেখা যাবে, সড়কগুলো ভেঙে উড়াল সড়কের দিকে যাবে সরকার’— মনে করেন তারিকুল ইসলাম। বলেন, ‘যেটা ইউরোপ-আমেরিকাতে হয়েছে। তারা অনেক প্রকল্প করেছে অর্থনৈতিকভাবে সফল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, তারা সেগুলো ভেঙে আবার আগের অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে। আমেরিকা যেসব বাঁধ করেছে, এখন সেগুলো ভেঙে আঁকাবাকা করছে। নদীকে ডিস্টার্ব না করার জন্য। বিশ্বে এমন অনেক উদাহরণ আছে। সরকার এখন যা করছে, সেটাকে যেন আবার আনডু (আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া) করতে না হয়। কাজেই সবকিছু বিবেচনায় নিলে যথোপযুক্ত সমাধান হলো, অনেক সামনে তাকালে উড়াল সড়ক হচ্ছে সবচেয়ে উপযুক্ত সমাধান হাওর এলাকার জন্য। অন্য এলাকার জন্য নয়। হাওরে যতই ড্রেনেজ স্ট্রাকচার দেন না কেন, যতই কালভার্ট দেন না কেন, এতে ফ্লো ডিস্টার্ব (প্রবাহ বাধাগ্রস্ত) হবেই। ইন্টারফেকশন করলে সাথে সাথেই এটার নেগেটিভ প্রভাব পড়বে। হাওরের ক্ষেত্রে আমাদের সাবধান থাকতে হবে।

যা বলছে পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন
প্রকল্পটির পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রধান মুহাম্মদ আমিন শরীফ বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ১৯টি রাস্তার জন্য পৃথক ইএসআইএ প্রতিবেদন প্রস্তাব করা হয়। এই প্রতিবেদনগুলো টাঙ্গুয়ার হাওরসহ অন্যান্য হাওরের প্রতিবেশ এবং বাস্তুসঙ্কটাপন্ন এলাকাগুলোর পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিরূপণপূর্বক পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (ইএসএমপি) প্রণয়ন করা হয়। পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিরূপণের জন্য প্রকল্পের বিস্তারিত বর্ণনা যেমন- রাস্তার ধরন ও বিশেষত্ব, রাস্তার অ্যালাইনমেন্ট, প্রস্থ, উচ্চতা, ঢাল, অবস্থান, পানি নিষ্কাশনের পথ প্রভৃতি নির্দেশক জানা আবশ্যক।

এক্ষেত্রে বিশদ টপোগ্রাফিক সার্ভে, হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল স্টাডি, হাইড্রোডাইনামিক মডেলিং ব্যবহার করা হয়েছে। সকল প্রকারের ভৌত অবকাঠামোর কিছু না কিছু প্রভাব রয়েছে, যা তিনটি পর্যায়ে ঘটতে পারে। তবে সঠিক প্রশমন ব্যবস্থা গ্রহণ করে এসব প্রভাব হ্রাস করা সম্ভব। পরিবেশগত ও সামাজিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনাতে (ইএসএমপি) এসব প্রশমন ব্যবস্থা আলোচনা করা হয়েছে এবং এজন্য প্রতিটি রাস্তার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ইএসএমপি ব্যয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সমীক্ষায় দেখা যায়, সড়ক নির্মাণের সময় কিছু সাময়িক নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হবে, তবে কোনো স্থায়ী ও অপূরণীয় ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে না। ইএসআইএ প্রতিবেদনে উল্লিখিত প্রশমন ব্যবস্থাগুলো প্রকল্প এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত করবে। প্রশমন ব্যবস্থাগুলো কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প ব্যবস্থাপনা কমিটির নিকট অনুরোধ করা হচ্ছে। মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রশমন ব্যবস্থাসহ পর্যবেক্ষণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে দীর্ঘমেয়াদে এর পরিবেশগত প্রভাব ইতিবাচক হবে। সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে প্রাপ্ত দীর্ঘমেয়াদী সুবিধাদি স্বল্পমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাবের তুলনায় বেশি এবং এসব নেতিবাচক প্রভাব সঠিক প্রশমন ব্যবস্থার মাধ্যমে কমিয়ে আনা সম্ভব। অতএব প্রকল্পটি পরিবেশগতভাবে যোগ্যতাসম্পন্ন।

এতে সুপারিশ করা হয় প্রাকনির্মাণ পর্যায়, নির্মাণ পর্যায় এবং নির্মাণ-পরবর্তী পর্যায়। প্রকল্পের এই তিনটি পর্যায়ে পরিবেশগত ও সামাজিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (ইএসএমপি) অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। সারাবছরব্যাপী ও উড়াল সড়কের জন্য ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট পরিকল্পনা করতে হবে এবং তা অনুসারে বাস্তবায়ন করতে হবে। উড়াল সড়কের শব্দ দূষণ থেকে হাওরের উদ্ভিদ ও প্রাণিকূল রক্ষার্থে শব্দ প্রতিবন্ধক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

১৩ কিলোমিটার উড়াল সড়ক : একটানা নয়, যেখানে প্রয়োজন সেখানে
প্রকল্প পরিচালক গোলাম মওলা বলেন, ‘প্রকল্পটা খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। এটা পরিকল্পনা কমিশনে মাত্র জমা দিয়েছি। বিবেচনাধীন আছে। এর অনেকগুলো ধাপ আছে। এর অনুমোদন হওয়া বা না হওয়া অনেক পরের ব্যাপার।’

তিনি বলেন, ‘অল সিজন, সাবমারজিবল ও উড়াল সড়ক একটা রাস্তা নয়, অনেকগুলো রাস্তা রয়েছে এর মধ্যে। রাস্তাগুলো করতে করতে হয়তো ধর্মপাশার সঙ্গে জামালগঞ্জের কানেকশন হবে। ধর্মপাশার সঙ্গে সংযুক্ত হলে নেত্রকোনার সঙ্গে সুনামগঞ্জের সংযোগ হয়ে গেল।’

উড়াল সড়ক কোন কোন অংশে করা হবে— জানতে চাইলে গোলাম মওলা বলেন, ‘উড়াল সেতু সুনামগঞ্জ থেকে ধর্মপাশা, এই রুটে হবে। তাতে খুব সম্ভবত টাঙ্গুয়ার হাওর পড়বে না। যাচাইবাছাই করে চূড়ান্ত হবে, এখনও চূড়ান্ত নয়। পাস এখন কোনটা হবে, বলতে পারছি না। যেভাবে পাস হবে, সেভাবে কাজ করা হবে। যেখানে উড়াল সড়ক দরকার হবে, সেখানে করা হবে। একটানা ১৩ কিলোমিটার উড়াল সড়ক হবে না। বিভিন্ন জায়গায় উড়াল সড়ক হবে। আবার সার্ভে হবে। যেখানে লাগবে, সেখানে দেয়া হবে উড়াল সড়ক। কোথাও এক কিলোমিটার, কোথাও তিন কিলোমিটার, কোথাও আধা কিলোমিটার– এমন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার কতটুকু গ্রহণ করবে, কতটুকু করবে না; যেটুকু গ্রহণ হবে সেটুকু করা হবে। গ্রহণ হলে তারপর বলা যাবে। পরিবেশ তো বিবেচনায় থাকবেই। এজন্যই তো উড়াল। না হলে রাস্তা করলে তো খরচ কমে যেত। উড়াল করা হচ্ছে কারণ, পরিবেশকে প্রটেকশন (রক্ষা) করার জন্য। তবে বাজেট যেভাবে হবে, সেভাবে করা হবে।’