আজ ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করোনা উপসর্গে দেশে ২১১০ মৃত্যু

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত করোনা উপসর্গ নিয়ে দেশে দুই হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণ শুরুর পর থেকে মৃত্যুহার বাড়তে থাকলেও জুলাই থেকে সেই হার কিছুটা কমেছে। ১৯ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ২৭ দিনে দেশে করোনার উপসর্গ নিয়ে ২২৫ জনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ ৯ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত করোনা উপসর্গে দেশে ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের (সিজিএস) গবেষণা প্রকল্প বিপিওর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে বিপিওর ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে প্রতি সপ্তাহে হালনাগাদকৃত তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে বিপিও।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে করোনা উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। বিভাগটিতে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে মোট ৭০৪ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা বিভাগ। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৯১ জনের। ওই সময়ের মধ্যে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যায় এরপর পর্যায়ক্রমে রয়েছে খুলনা বিভাগ (৩০৬ জন), বরিশাল বিভাগ (২৪১ জন), রাজশাহী বিভাগ (২১৬ জন), সিলেট বিভাগ (১০০ জন), রংপুর বিভাগ (৯২ জন) এবং সবার শেষে ময়মনসিংহ বিভাগ (৬০ জন)।

বিপিওর ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, করোনার কারণে অপমান ও সামাজিকভাবে হেয় করার ২৪৩টি ঘটনা ঘটেছে। করোনায় আক্রান্ত না হয়েও মেডিক্যাল পেশাজীবীদের কাছে চিকিৎসা পায়নি ৭০ জন। করোনায় মৃত্যুর কারণে মৃতদেহ দাফন বা শেষকৃত্য করতে অস্বীকারের ঘটনা ঘটে ৬২টি। করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয় ১২ জন, পরিবার বা সহকর্মীছাড়া হয় ৪৬ জন এবং মেডিক্যাল পেশাজীবী সংক্রান্ত হয়রানির ১৯টি ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া হয়রানি ও অপমানের শিকার হয় ১৩ জন এবং আত্মহত্যা করে দুজন।

এ পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসসংক্রান্ত কারণে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ১৪৯টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৬০৬ জন আহত এবং ২৪ জন নিহত হয়। সর্বশেষ জুলাই মাসে করোনার কারণে সংঘটিত ১১ সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং ৫১ জন আহত হয়েছে।

এদিকে ত্রাণ আত্মসাৎ, মানহীন গ্লাভস, মাস্ক, পিপিই, অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি, খাদ্যে ভেজাল, দুর্নীতি এবং করোনাভাইরাসসংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘনের মতো অপরাধ ও অনিয়মে জড়িত মোট ৬২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে ১২ হাজার ৮৫৪ জনকে। করোনাভাইরাস সম্পর্কে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর ৮৬টি ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ৮৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সবচেয়ে বেশি ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ঢাকা বিভাগ থেকে, আর সবচেয়ে কম ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাজশাহী বিভাগ থেকে। করোনাভাইরাসের কারণে মস্তিষ্কবিকৃতি সংক্রান্ত ১৩৭টি ঘটনা ঘটেছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

করোনা মহামারির প্রতিবন্ধকতা ভেঙে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে আসার প্রবণতা আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত এ ধরনের দুই হাজার ২৪১টি ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে করোনার সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ২৭৬টি বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৪ শতাংশ বিক্ষোভ হয়েছে বকেয়া বেতনে ও ঈদ বোনাসের দাবিতে। এ ছাড়া ত্রাণসামগ্রী ও খাদ্য সহায়তার দাবিতে প্রতিবাদ হয়েছে ১৯ শতাংশ। ১৩ শতাংশ করে প্রতিবাদ হয়েছে পর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন চিকিৎসাসামগ্রীর নিশ্চিত এবং বেতন কমানোর প্রতিবাদে।