আজ ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ড্রাগন-মাল্টা চাষি বনে গেলেন মার্কেটিংয়ের ছাত্র রাব্বী

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিনান্স অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের মাস্টার্সের ছাত্র ফজলে রাব্বী। ২৫ বছর বয়সের এ যুবক মাল্টা ও ড্রাগন চাষ করে লাভের স্বপ্ন দেখছেন। ফজলে রাব্বী ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার তত্ত্বিপুর গ্রামের আসাদুল ইসলাম মোল্লার বড় ছেলে। ছোটবেলা থেকেই ব্যতিক্রম কিছু করার ইচ্ছা ছিল তার। ইন্টারনেটের বদৌলতে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে ইউটিউবে মেহেরপুরের ইসমাইল হোসেনের মাল্টা বাগানের ভিডিও নজরে রাব্বির। সেই থেকে কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তাই সময়ক্ষেপণ না করে পরের দিনই মাল্টা বাগানটি দেখতে মেহেরপুরে যান। বাগান দেখে মন ভরে যায় রাব্বীর। বাড়ি ফিরে এসে মাল্টা বাগান করা নিয়ে বাবার সাথে পরামর্শ করেন এবং অনেক কষ্টে বাবাকে রাজি করান। এক সপ্তাহের মধ্যে জমি প্রস্তুত করে মাল্টা চাষি ইসমাইলের কাছ থেকে চারা নিয়ে এসে রোপন করেন।

মাল্টা দিয়ে শুরু করলেও ১০ বিঘা জমিতে গড়ে তোলা আহদান এগ্রো প্রজেক্টে বর্তমানে ২ বিঘা জমিতে ড্রাগন, ১ বিঘা জমিতে কমলা ও চায়না কমলাসহ বাকি জমিতে মৌসুমী ফসলের চাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ড্রাগন ও মাল্টা গাছে গত বছর থেকে ফল আসতে শুরু করেছে। ফল বিক্রি করে আশানুরূপ মুনাফা পাওয়ায় প্রজেক্ট আরো বর্ধিত করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। এবারে প্রজেক্টে যোগ করতে চাচ্ছেন গবাদী পশুপালন।

ফজলে রাব্বি জানান, ২০১৬ সালে দেড় বিঘা জামিতে লাগানো মাল্টা গাছে মাত্র আড়াই বছর বয়সেই ফল এসেছিল। এ বছর ১৫০টি গাছের প্রায় প্রতিটি গাছেই ফল এসেছে। এর মধ্যে কিছু কিছু গাছে ১ মণের বেশি ফল এসেছে। সাধারণত আগস্ট, সেপ্টেম্বর মাসে ফল বিক্রির উপযোগী হয়। বয়সের সাথে সাথে ফলের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে বলে রাব্বি জানান। বর্তমানে তার প্রজেক্টে ৩ বিঘা জমিতে বারি-১, বারি-২ ও ভিয়েতনামী জাতের মাল্টার চাষ থাকলেও নতুন উদ্যোক্তাদের বারি-১ জাতের মাল্টা চাষের পরামর্শ দেন তিনি। ১ বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে মাল্টা গাছ লাগিয়ে ৫ বছরের মাথায় খরচ বাদে কমপক্ষে দেড় লক্ষ টাকা আয় করা সম্ভব বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান।

গাছের পরিচর্যা নিয়ে কথা হলে রাব্বি জানান, মাল্টা গাছে অধিক পরিমাণে জৈব সার ও অল্প পরিমাণে ইউরিয়া, ফসফেট ও পটাশ সার প্রয়োগ করতে হয়। খরা মৌসুমে সেচ দিতে হয়। এছাড়া বাড়তি কোনো যত্ন নিতে হয় না।

মাল্টা গাছে সাধারণত ভাইরাসজনিত রোগ, পাতা মোড়ানো ও ছত্রাকজনিত রোগ দেখা যায়। ফল আসলে পিপঁড়া ও মিলিবাগ পোকার আক্রমণ হতে পারে। এই জন্য ক্যারাইটি, কপার অক্সিক্লোরাইড ও সাইফারম্যাথিন নামক কিটনাশক ব্যবহার করতে হয়।

ফজলে রাব্বী আরো জানান, করোনাকালীন বাগানে তিনি বেশি সময় দিচ্ছেন। বাগান পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত কৃষকদের সাথে তিনি নিজেও কাজ করছেন। তিনি আরো জানান, সেপ্টেম্বর মাস থেকে ফল বিক্রির উপযুক্ত সময় শুরু হচ্ছে। এখন বাগানের মাল্টার ব্যাপকভাবে পরিচর্চা করতে হবে। যাতে কোনো প্রকার পোকামাকড় বা রোগবালাই না হয়।

তিনি আরো জানান, বাগানে মাল্টা, ড্রাগন ও কমলা চাষ করতে তার এ পর্যন্ত ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি বাগান থেকে এক লাখ টাকা আয় করেছেন। আগামী মৌসুমে তিনি মাল্টা, কমলা ও ড্রাগন থেকে ভালো মুনাফা পাবেন বলে আশা করেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকতা (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়ূন কবীর জানান, এ উপজেলায় ৩-৪ বছর ধরে ড্রাগন ও মাল্টা চাষ হচ্ছে। এ দুটি ফসলই বেশ লাভজনক। বর্তমানে রাব্বিদের মতো অনেক শিক্ষিত যুবক কৃষিতে এগিয়ে আসছেন। এরাই আমাদের আলোর দিশারী। কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস এ ধরনের কৃষি উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করে বিভিন্ন সময়ে ট্রেনিং দিয়ে তাদেরকে আরো দক্ষ করে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।