আজ ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ফ্লোরিডায় ডেঙ্গু-জিকা রোধে ৭৫ কোটি পুরুষ মশা ছাড়ছে

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ ডেঙ্গু ও জিকার মতো প্রাণঘাতী রোগ বহনকারী মশার সংখ্যা কমাতে ৭৫ কোটি জিন বদলে দেয়া (পুরুষ) এডিস মশা ছাড়ার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার বিবিসি জানিয়েছে, জেনেটিক্যালি মডিফায়েড মশা নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর জোর প্রতিবাদ সত্ত্বেও ফ্লোরিডায় এ পাইলট প্রকল্প সবুজ সংকেত পেল। যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানি অক্সিটেক ২০২১ সালে ‘ফ্লোরিডা কিজ’ নামে পরিচিত দ্বীপগুলোতে এসব মশা ছাড়ার পরিকল্পনা করছে।

মঙ্গলবার ‘ফ্লোরিডা কিজ মসকিউটো কন্ট্রোল ডিস্ট্রিক্ট’ তাদের আওতাধীন এলাকায় আগামী দুই বছরের মধ্যে ৭৫ কোটি পুরুষ এডিস মশা ছাড়ার চূড়ান্ত অনুমতি দিয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে অক্সিটেককে জিন বদলে দেয়া পুরুষ এডিস ইজিপ্টি মশা উৎপাদনের অনুমতি দেয় মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউএস এনভায়রনমেন্টাল এজেন্সি। এডিস মশাই মানুষের মধ্যে জিকা, চিকনগুনিয়া, ডেঙ্গু ও পীতজ্বরের মতো প্রাণঘাতী রোগ ছড়াতে মূল ভূমিকা রাখে। কেবল স্ত্রী মশা মানুষকে কামড়ায়। এ কারণে অক্সিটেক পুরুষ ইডিস মশা ছাড়ার পরিকল্পনা করছে।

জিন বদলে দেয়া এসব মশার সঙ্গে স্ত্রী মশার মিলনে যে স্ত্রী মশা জন্মাবে, সেগুলো মানুষকে কামড়ানোর মতো বয়সে আসার আগেই মারা যাবে। আর যেসব পুরুষ মশা জন্মাবে সেগুলোর মধ্যেও বদলে দেয়া জিন থাকবে। এভাবে ধারাবাহিকভাবে স্ত্রী এডিস মশার সংখ্যা কমিয়ে ফেলা হবে। জেনেটিক্যালি মডিফায়েড মশা পরিবেশের ক্ষতি ও ‘অনিচ্ছাকৃত পরিণতির’ দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পরিবেশবাদীরা।

পরিবেশবাদীদের একটি দল একে ‘জুরাসিক পার্ক এক্সপেরিমেন্ট’ অ্যাখ্যা দিয়েছে। তারা বলছে, জিন বদলে দেয়া মশা বাস্তুসংস্থানের সম্ভাব্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং এসব মশার কারণে হাইব্রিড, কীটনাশক-প্রতিরোধী মশারও জন্ম হতে পারে। অক্সিটেকের উৎপাদিত মশা ছাড়ার বিরুদ্ধে অসংখ্য মানুষ অবস্থান নিয়েছেন। চেঞ্জ ডট অর্গ ওয়েবসাইটের এক পিটিশনে স্বাক্ষর করা প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্যগুলোকে ‘জিন বদলে দেয়া পোকার পরীক্ষাগার’ বানানোর বিরোধিতা করেছেন। ব্রাজিলে এ জিন বদলে দেয়া মশা ব্যবহার করে সফলতা মিলেছে বলে নিজেদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে অক্সিটেক।

আগামী বছরের শুরুতে টেক্সাসেও এ ধরনের মশা ছাড়ার পরিকল্পনা করছে তারা। কেন্দ্রীয় বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত অনুমোদন পেলেও টেক্সাস রাজ্য কিংবা সেখানকার কোনো শহর বা এলাকা এখনও জিন বদলে দেয়া মশা ছাড়ার অনুমতি দেয়নি।