আজ ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সাহেদের প্রতিষ্ঠানে তালা দেওয়া, বিপাকে ভবন মালিকরা

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ প্রতারণার অভিযোগে বিচার চলছে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের। করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সিলগালা করা হয়েছে তাঁর পরিচালিত রিজেন্ট হাসপাতালের দুটি শাখা এবং প্রধান কার্যালয়। মিরপুর ও উত্তরায় হাসপাতালের শাখা দুটি চলছিল ভাড়া বাড়িতে। কিন্তু সিলগালা করায় বিপাকে পড়েছেন ভবন মালিকরা। একদিকে সাহেদের কাছে আটকা বকেয়া ভাড়া, অন্যদিকে তাঁরা ভবনেও প্রবেশ করতে পারছেন না। এ থেকে পরিত্রাণ চেয়ে র‌্যাবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন ভবন মালিকরা। তবে মামলার অগ্রগতি না হলে ভবন বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, ‘ভবন মালিকরা সমস্যায় আছেন, সেটা বুঝতে পারছি। তবে এখন ভবন বুঝিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। আরো পাঁচ-সাত মাস লাগতে পারে। মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভবন বুঝিয়ে দেওয়া যাবে না। কারণ, যেকোনো সময় আলামতের জন্য প্রয়োজন হবে ভবন দুটি। আর মামলায় উল্লেখ রয়েছে সাহেদের প্রতিষ্ঠান। ভবন যাঁরই হোক, ভেতরের জিনিসপত্র সাহেদের।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মিরপুর-১২ নম্বরের ১৪/১১ মিতি প্লাজার ছয়তলা ভবনের নিচতলায় রিজেন্ট হাসপাতাল সিলগালা করা। তৃতীয় তলা থেকে ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত ৫০ শয্যার হাসপাতাল।

বর্তমানে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। রাতে হাসপাতালের নিচে পাহারা দিতে আসেন একজন নিরাপত্তা প্রহরী।

জানা গেছে, হাসপাতাল ভবনটির ভাড়া বাবদ ৪৫ লাখ পাঁচ হাজার টাকা, পানির বিল বাবত ছয় লাখ ৯৬ হাজার টাকা এবং বিদ্যুতের বিলও পাবেন ভবনের মালিক ফিরোজ আলম চৌধুরী। তিনি পল্লবী থানায় একটি প্রতারণার মামলা করেছেন। কালের কণ্ঠকে ফিরোজ আলম বলেন, ‘একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে। সাহেদের কাছে অনেক টাকা পাব। তাঁর প্রতারণার কারণে আমার ভবন বন্ধ। অন্য কাউকে ভাড়াও দিতে পারছি না।’

প্রতারক সাহেদের প্রধান অফিস হিসেবে ব্যবহৃত উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের ২/এ নম্বরের ১৪ নম্বর বাসার দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় গিয়ে দেখা গেছে, সেখানেও সিলগালা করা। ছয়তলা ভবনটির তৃতীয় তলার মালিক জাহানার কবীর বলেন, ‘আগেও সমস্যায় ছিলাম। এখনো সমস্যায় আছি। কবে ভবন খুলে দেবে জানি না। র‌্যাব বরাবর চিঠি পাঠিয়েছি। কিন্তু কোনো জবাব পাইনি।’

উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর সড়কের ৩৬ নম্বর বাসায় প্রতারক সাহেদের রিজেন্ট হাসপাতালের আরেকটি শাখায় গিয়ে দেখা গেছে, সেখানেও সিলগালা করা। দুজন নিরাপত্তাকর্মী শাহ আলম ও মিলন দিনে-রাতে পাহারা দেন।