আজ ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সুশান্তের মৃত্যু: শেষ কয়েক ঘণ্টার বর্ণনা দিলেন তার বাবুর্চি

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ ১৪ জুন সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু হয়। পুলিশ জানায়, গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যু হয়েছে তার। সেদিনের শেষ কয়েক ঘণ্টায় যা যা ঘটেছিল, এক সাক্ষাৎকারে সেই বিবরণ দিলেন সুশান্ত সিং রাজপুতের বাবুর্চি নীরজ সিং।

ইন্ডিয়া টুডেতে দেয়া সাক্ষাৎকারে নীরাজ বলেন, “১৪ জুন সকাল বেলা সুশান্ত ভোর ৬টায় ঘুম থেকে উঠেছেন। ৮টার সময় তিনি রুম থেকে বের হয়েছেন। আমি তখন দরজার কাছে ঘর পরিষ্কার করছিলাম। স্যার ঠাণ্ডা পানি দিতে বললেন তার জন্য। সাথে সাথেই পানি দিয়ে আসি। স্যার আমাকে জিজ্ঞেস করেন নিচের তলায় সব ঠিক ঠাক আছে কিনা। আমি বললাম ‘জ্বী।’ তিনি আমাকে একটা হাসি দিয়ে রুমে চলে গেলেন।”

তিনি আরও বলেন, ‘সকাল ১০-১০.৩০ এর দিকে আমি স্যারকে জিজ্ঞেস করি তার জন্য নাস্তায় কী বানাবো। তিনি বলেন ডাবের পানি, কমলার জুস আর কলা। তিনি নাস্তা করেন এবং তারপর রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। কেশব (আরেক বাবুর্চি) যখন দুপুরের খাবার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে রুমে গিয়ে নক করেন, তখন কোনো সাড়া পাননি। ১০-১৫ মিনিট পরে আমরা দুজনেই রুমে গিয়ে নক করি, কিন্তু কোনো সাড়া নেই। সিদ্ধার্থ স্যার ফোন করেন সুশান্ত স্যারকে। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।’

তিনি জানান, রুমের চাবি খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর সুশান্তের বোনকে ফোন দেয়া হলে তিনি দরজা ভেঙ্গে ফেলতে বলেন। তিনি পথেই ছিলেন। মিস্ত্রী এসে পাঁচ মিনিটেই দরজার লক খুলে ফেলে। রুমে ঢুকে চমকে যান তারা।

নীরাজ আরও জানান, সিদ্ধার্থ, দীপেশ ও তিনিই প্রথম রুমে ঢুকেছিলেন। সুশান্তকে ফ্যানের সাথে ঝুলে থাকতে দেখেছেন। সুশান্ত নিজের কুর্তা ব্যবহার করেছেন ফাঁস দেয়ার জন্য।

সুশান্তের বোনের জামাই তাদেরকে সুশান্তের মৃতদেহ নামাতে বলেছিলেন। সিদ্ধার্থ নামিয়েছেন সুশান্তের দেহ। সুশান্তের বোন আসার পর তার বুকে চাপ দিয়ে নিশ্বাস ফেরানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু অনেক দেরী হয়ে গিয়েছিল, শরীর ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছিল ততক্ষণে।

নীরাজ আরও জানান, মৃত্যুর আগের দিন সুশান্ত রাতের খাবার খাননি। শুধু এক গ্লাস ম্যাংগো মিল্কশেক খেয়ে ঘুমাতে গিয়েছেন।

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই তদন্ত করছে। ১০ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মুম্বাই পৌঁছেছেন।