আজ ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কলমটি ফেলে দিলে পচে যাবে, ক্ষতি করবে না পরিবেশের

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ  ছোটবেলায় কত খেলাই না হয়! বয়স বাড়লে কোনোটা থাকে মনে, কোনোটা হারিয়ে যায়। মাঝ বয়সেও যশোরের নাসিমা ভোলেননি তেমনই এক খেলার কথা। শৈশবে ঝাঁটার কাঠিতে কাগজ পেঁচিয়ে কলম বানাতেন তিনি। দিব্যি ছবি আঁকতেন মাটিতে। সেই ধারণা থেকেই ৪০ বছর বয়সে এসে নাসিমা বানিয়েছেন ‘পরিবেশবান্ধব’ এক কলম। তাঁর ভাষ্য, ব্যবহার শেষে এই কলম ফেলে দেওয়া হলে পচে যাবে অল্প সময়ে; ক্ষতি করবে না পরিবেশের।

এই কলম তৈরির উপকরণ হলো রঙিন কাগজ, আঠা, কলমের রিফিল ও স্টিকার। এসব উপকরণ দিয়ে হাতেই প্রতিদিন ২০০ কলম তৈরি করছেন নাসিমা। ‘শুভ পরিবেশবান্ধব কলম’ নামে তা বিক্রি করা হচ্ছে পাঁচ টাকা দরে। এটির লেখার মান প্রচলিত বলপয়েন্ট কলমের মতোই। প্রথম দিকে এই কলম বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্রি করছিলেন নাসিমা। করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে তিনি এখন কলম বিক্রি করছেন বিভিন্ন অফিস ও দোকানে।

নাসিমা থাকেন যশোর শহরের লোন অফিস পাড়ায়। পড়ালেখা করেছেন চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত। বিয়ে হয় বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদস্য মীর রবিউল আলম বাচ্চুর সঙ্গে। ২০০০ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন বাচ্চু। শ্রবণপ্রতিবন্ধী স্বামী এখন বেকার। পরিবারে আরো দুই সদস্য আছে; মেয়ে রেবেকা সুলতানা ও ছেলে মীর নাঈম আলম শুভ। মেয়ে ঢাকায় একটি কলেজে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স করছেন। ছেলে এবার এসএসসি পাস করেছে। এখন ছেলে তাঁর কলম তৈরি ও বিক্রির কাজে সহযোগিতা করে।

গত বুধবার দুপুরে বাড়িতে গিয়ে কথা হলো নাসিমার সঙ্গে। বললেন, ‘প্লাস্টিকের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি আমি জানি। দেশে প্রতিদিন হাজার হাজার প্লাস্টিকের কলম ব্যবহার করা হয়। কালি শেষ হলে সেসব কলম মানুষ যেখানে-সেখানে ফেলে দেয়। ব্যবহার শেষে এমন ফেলে দেওয়া কলমের সংখ্যা লাখ লাখ। প্লাস্টিকের তৈরি এসব কলম পচে না, নষ্টও হয় না; বরং পরিবেশের, মাটির ক্ষতি করে।’

বছর তিনেক আগে পরিবেশবান্ধব কলম তৈরির কথা মাথায় আসে নাসিমার। মনে পড়ে ছোটবেলায় ঝাঁটার কাঠিতে কাগজ পেঁচিয়ে কলম বানানোর কথা। সেই ধারণা থেকেই কাগজ, আঠা, কলমের রিফিল ও স্টিকার দিয়ে বানান নতুন ধরনের এই কলম।