আজ ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

চা বাগান কেটে পরিস্কার করা হলেও বাঘের সন্ধান মেলেনি, আতঙ্কে স্থানীয়রা

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ তিনটি বাচ্চাসহ দু’টি চিতা বাঘ লুকিয়ে আছে এমন সন্দেহে পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী এলাকার একটি পরিত্যক্ত বিশালাকার চা বাগান কেটে পরিস্কার করা হলেও বাঘের দেখা মেলেনি। বাগান কাটা শেষ করার পর বাঘের কোন অস্তিত্ব না পাওয়ায় গতকাল শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফ হোসেন। ঘোষণার পর থেকে স্থানীয় গ্রামবাসীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়দের ধারণা মানুষের কোলাহলের কারণে বাঘগুলো হয়তো রাতের আধারে চাওয়াই নদী পেড়িয়ে আবারও ভারতে চলে যেতে পারে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মিন্টু কামাল জানায় এখনো আতঙ্ক কাটেনি আমাদের কারন বাঘটিকে কেউ দেখতে পারলোনা । বাঘটা কি পালিয়েছে না কোথায় গেছে বন বিভাগ তো স্পষ্ট কোন কিছু জানাতে পারেনি।

গত বুধবার গরুকে বাঘে হত্যার খবরে জেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। সন্ধার পর ঘড়ে থাকা এবং পরিত্যাক্ত চা বাগানটির আশে পাশে না আসতে মাইকিং করে অনুরোধ জানায় প্রশাসন । এরপর বৃহস্পতিবার দিনাজপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তার অধীনে গাজীপুর এর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্ক এর ভেটেনারি সার্জন হাতেম সাজ্জাদ মো: জহুর আমীন এবং ওয়ারল্যাস স্কাউট আতিকুল ইসলাম প্রথমে পুরো বাগানে তল্লাশি করে । এরপর তাদের উপস্থিতিতে বাগান কাটা শুরু হয়। শুক্রবার বিকেলে ভেটেরেনারি সার্জন হাতেম সাজ্জাদ জানায় আসলে যে পায়ের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল সেগুলো বাঘের নাও হতে পারে। আর উৎসুক জনতার উপস্থিতি টের পেয়ে বাঘ তার স্থান পরিবর্তন করতে পারে। তবে আমরা এখনো বাঘের কোন সন্ধান আমরা পাইনি।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান জানান, বৃহস্পিতবার সকালে থেকেই আমরা শ্রমিক লাগিয়ে পরিত্যক্ত চা বাগানের চা গাছ কাটার কাজ শুরু করি। শনিবার শ্রমিকের সংখ্যা বাড়িয়ে সকাল থেকে আবারও চা গাছ কাটার কাজ শুরু করা হয়। স্থানীয়রাও দা দিয়ে চা গাছ কেটে বাড়ি নিয়ে যায়। সন্ধ্যার আগেই বাগানের গাছ কাটা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এর মধ্যে বাঘের কোন দেখা পাওয়া যায়নি।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফ হোসেন বলেন, গ্রামবাসীদের সন্দেহের জন্য আমরা শুক্রবার সকাল থেকেই পরিত্যক্ত চা বাগানের গাছ কাটার অনুমতি দেই। শনিবার বিকেলের মধ্যে বাগানের সব গাছ কাটা শেষ হয়। গাছ কাটা শেষ করার পর বন বিভাগের কর্মকর্তা, প্রাণীসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা, পুলিশ, ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার মানুষজন উপস্থিত হয়ে সেখানে বাঘের অস্তিত্ব পাই নি। এ কারণে বাঘ খোঁজার অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দেই।

উল্লেখ্য, পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেড়া ইউনিয়নের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সংলগ্ন মুহুরিজোত, সাহেবীজোত, উষাপাড়া ও বাদিয়াগছ এলাকার গ্রামবাসীরা বাঘের অস্থিত্ব টের পাচ্ছেন এক মাস ধরে। তাদের ধারণা প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে তিনটি বাচ্চাসহ দু’টি বড় বাঘ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এখানে এসে অবস্থান করছে। গত বুধবার বিকেলে উষাপাড়া গ্রামের আবুল কালাম ওই চা বাগানের পাশ দিয়ে গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তার একটি গরুর উপর আক্রমণ করে সেটিকে মেরে ফেলে। পরে তার চিৎকার স্থানীয়রা ছুটে আসলে পালিয়ে যায় বাঘটি। এরপর বাঘ আতঙ্ক আরও প্রকট আকার ধারণ করে। তাদের ধারণা মুহুরিজোত গ্রামের শেষ প্রান্তের প্রায় চার একরের পরিচর্যাহীন জঙ্গলাকীর্ণ একটি চা বাগানে বাঘ লুকিয়ে থাকতে পারে। শুক্রবার সকাল থেকেই উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ওই পরিত্যক্ত চা বাগান কেটে পরিস্কার করার কাজ শুরু হয়।