আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

জীবিকার তাগিদে গ্রাম ছেড়ে শহরমুখী বন্যাদুর্গতরা

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ করোনার ভয়ে মাসের পর মাস গৃহবন্দির পর প্রায় মাসব্যাপী বন্যায় কর্মহীন হয়ে কষ্টের জীবন পার করছেন চিলমারীর শ্রমজীবী ও দিনমজুররা। কষ্টের উপর কষ্ট তাদের ফেলেছে বিপাকে। হাতে নেই কাজ, ঘরে নেই অর্থ। নিরুপায় হাজারো পরিবার। করোনার সাথে বারবার বন্যায় এই অঞ্চলের শতশত মানুষকে বেকার বানিয়েছে। তাই সকল ভয়কে পিছনে রেখেই জীবিকার তাগিদে শহরমুখী হচ্ছেন বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষ ছাড়ছেন এলাকা। বন্যার পানি নামলেও বাড়ছে জনদুর্ভোগ। গো-খাদ্য, খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি সংকটের সাথে ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম থাকায় হতাশা বাড়ছে মানুষজনের।

ডায়রিয়া, আমাশয়সহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছেন বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ। এছাড়াও বন্যার পানি ব্যবহার করায় অনেকে অজানা রোগেও ভুগছেন বলে জানান বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষ। বন্যায় ফসলহানি ও বাড়িঘর ভাঙ্গনের শিকার মানুষের দুঃখের যেন অন্ত নেই। কাজ নেই, পর্যাপ্ত ত্রাণ আসলেও অনিয়ম ছিল বিতরণে। জীবিকার তাগিদে তাই দুর্গতরা ছুটছেন জেলা শহর, চট্টগ্রাম ও রাজধানী ঢাকার দিকে। সেখানেও চাহিদা অনুযায়ী কাজ পাচ্ছেন না বলেও তাদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

হাতে টাকা নেই, তাই চড়া সুদে টাকা নিয়ে সড়ক ও নৌ-পথে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরের উদ্দেশে পাড়ি দিচ্ছেন শ্রমজীবিরা। নৌ-পথে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছেন রফিকুল ইসলাম। কথা হলে তিনি বলেন, ‘আগে মানুষের ক্ষেতে রাজের কাজ করতাম। কিন্তু বন্যার কারণে এলাকায় কাজ নেই। তাই ঢাকা যাচ্ছি কাজ না পেলে চট্টগ্রাম যাব। পরিবার পরিজন তো চালাতে হবে। একই কথা বললেন শফিকুল ইসলাম। তার বাড়ি রমনা ঘাট এলাকায়। তিনি বলেন, এলাকায় দিনমজুরের কাজ করতাম।

কিন্তু এলাকায় তো এখন আর কাজকর্ম নাই। তাই ঢাকা যাচ্ছি রিকসা চালাতে। কর্জ নিয়ে কাজের সন্ধানে চট্টগ্রামের উদ্দেশে পাড়ি দিচ্ছেন সরকার পাড়া এলাকার আঙ্গুর মিয়া। করোনায় কাজকর্ম বন্ধ তাই বেকার সময় পার করছিলেন। জমানো টাকাও শেষ হয়েছে। এর উপর বন্যায় ঘরবাড়িও বেশ ক্ষতি হয়েছে। উপায় না থাকায় বিধ্বস্ত অবস্থায় বাড়িঘর রেখেই যাচ্ছি চট্টগ্রামে রাজ মিস্ত্রির কাজের জন্য।

কথায় কথায় বলেন, করোনার শুরুতেই সকল প্রকার কাজ বন্ধ হওয়ায় হাত পা গুটিয়ে ঘরে বসে ছিলাম। করোনা শিথিল হয়ে কাজকর্ম শুরু হলেও বন্যা চলে আসে। বিপদের উপর বিপদ বাড়ে। ঘরের জমানো টাকা শেষে কর্জ করেই চলছিল। কিন্তু আর তো উপায় নাই, কর্জও আর কেউ দিতে চাচ্ছে না। তাই কাজের জন্য যাচ্ছি। এলাকায় নেই কাজ, বন্যায় ঘরবাড়িও হয়েছে নষ্ট। তাই জীবিকার তাগিদে শাখাহাতির চরের শকুর আলী, আহম্মদ আলীসহ বেশ কয়েকজন যাচ্ছেন চট্টগ্রামে কাজের জন্য।

রফিকুল, শকুর আলী, আঙ্গুরের মতো শতশত মানুষ কাজের সন্ধানে এখন পাড়ি জমাচ্ছেন ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায়। এলাকার সচেতন মহল বলেন, এই অঞ্চলের কর্মহীন মানুষের জন্য কাজের ব্যবস্থা না থাকায় বড় বিপাকে পড়তে হয়। তারা আরো জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের পাশাপাশি কর্মেরও ব্যবস্থা করা দরকার।