আজ ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

হাসপাতালে রোগীর বিছানায় বিড়াল, রান্নাঘরে কুকুর

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে এবার দেখা মিলল কুকুরের। (ইনসেটে) এর আগে গত ৬ আগস্ট ‘হাসপাতালে রোগী নেই, বিছানায় বিড়াল’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল কালের কণ্ঠ’র প্রিয় দেশ পাতায়।

এখনো হাসপাতালে রোগীর বিছানায় শুয়ে থাকছে বিড়াল। খাবারের সন্ধানে রান্নাঘরে ঢুকে পড়ছে কুকুর। এমন সব অস্বাস্থ্যকর দৃশ্যের হরহামেশা দেখা মিলছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা কতটা বেহাল, তা এই চিত্র থেকে ভালোভাবেই আঁচ করা যায়।

জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি শুরুতে ৩১ শয্যার হলেও জনগণের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু জনবল সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরের অবস্থা আরো অসহনীয়। প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা অসংখ্য রোগী নানা অব্যবস্থাপনার শিকার হচ্ছে। স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসকের মধ্যে আবার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

হাসপাতালে কুকুর ও বিড়ালের অবাধ বিচরণ দীর্ঘদিন ধরে। রোগীদের শয্যার চারপাশে ঘুরে বেড়ায় বিড়াল। রোগীদের খাবারে মুখ দেয়। কিন্তু এ নিয়ে হাসপাতালের কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। কেউ কুকুর তাড়ানোর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। অথচ কুকুর ও বিড়াল অনেক রোগের জীবাণু বহন করে। তা ছাড়া কুকুর জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস বহন করে। হাসপাতালে বিড়াল ডাস্টবিনে ডাস্টবিনে ঘোরে। সেখান থেকে জীবাণু নিয়ে বিছানায় উঠে বা খাবারে মুখ দিয়ে জীবাণু ছড়াতে পারে। এ ছাড়া বিড়ালের আঁচড় থেকেও রোগ হতে পারে।

এ ছাড়া হাসপাতালের মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকছে নানা ধরনের ময়লা-আবর্জনা। বিছানাগুলো এলোমেলো। বিছানার কাপড়গুলো অপরিষ্কার, ময়লা ও রক্তমাখা। সব সময়ই এমন থাকে। বিছানা রোগীদের পরিষ্কার করতে হয়।

ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. গাজী সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’